০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাওয়া মানুষদের সম্মান।পীরগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

 

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

শিক্ষক কখনও শুধুমাত্র একজন পেশাজীবী নন; তিনি একজন জাতি নির্মাতা। একজন শিক্ষকের হাত ধরেই একটি শিশু জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার প্রথম পাঠ গ্রহণ করে। সেই শিক্ষকদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাদের গড়ে তোলা সফল শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৮৮নং আজলাবাদ শিশু শিক্ষা কেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান।
শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দের বিদায় সংবর্ধনা ও প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইব্রাহিম খলিল, প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ারুল হক চৌধুরী এবং সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. শাহজাহান আলীকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে তাঁদের নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতিস্বরূপ ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
একই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদেরও সম্মাননা জানানো হয়। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাবেক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নামকরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ সম্মাননা লাভ করেন। তাদের সাফল্যের গল্প বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বৈরচুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জিয়াউল ইসলাম জিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রভাষক মো. আসাদুজ্জামান চৌধুরী মানু এবং ১১নং বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী চৌধুরী।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষকদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে সুশিক্ষা। আর সেই সুশিক্ষা নিশ্চিত করার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকরা। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ শুধু পাঠদানই করেননি, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, আজ যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন, তাদের সাফল্যের পেছনে প্রাথমিক শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। একজন শিক্ষকের প্রকৃত অর্জন তাঁর শিক্ষার্থীদের সাফল্যে প্রতিফলিত হয়। সেই অর্থে সংবর্ধিত শিক্ষকরা এ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তার ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, জীবনে সফল হতে হলে শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না; একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের প্রতি আজীবন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় রাখারও পরামর্শ দেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন এবং বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করেন। অন্যদিকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আজ তারা যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তার ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল এই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শুধু একটি সংবর্ধনা নয়, বরং শিক্ষা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাওয়া মানুষদের সম্মান।পীরগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

Update Time : ০১:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

 

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

শিক্ষক কখনও শুধুমাত্র একজন পেশাজীবী নন; তিনি একজন জাতি নির্মাতা। একজন শিক্ষকের হাত ধরেই একটি শিশু জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার প্রথম পাঠ গ্রহণ করে। সেই শিক্ষকদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাদের গড়ে তোলা সফল শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৮৮নং আজলাবাদ শিশু শিক্ষা কেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান।
শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দের বিদায় সংবর্ধনা ও প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইব্রাহিম খলিল, প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ারুল হক চৌধুরী এবং সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. শাহজাহান আলীকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে তাঁদের নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতিস্বরূপ ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
একই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদেরও সম্মাননা জানানো হয়। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাবেক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নামকরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ সম্মাননা লাভ করেন। তাদের সাফল্যের গল্প বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বৈরচুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জিয়াউল ইসলাম জিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রভাষক মো. আসাদুজ্জামান চৌধুরী মানু এবং ১১নং বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী চৌধুরী।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষকদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে সুশিক্ষা। আর সেই সুশিক্ষা নিশ্চিত করার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকরা। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ শুধু পাঠদানই করেননি, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, আজ যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন, তাদের সাফল্যের পেছনে প্রাথমিক শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। একজন শিক্ষকের প্রকৃত অর্জন তাঁর শিক্ষার্থীদের সাফল্যে প্রতিফলিত হয়। সেই অর্থে সংবর্ধিত শিক্ষকরা এ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তার ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, জীবনে সফল হতে হলে শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না; একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের প্রতি আজীবন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় রাখারও পরামর্শ দেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন এবং বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করেন। অন্যদিকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আজ তারা যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তার ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল এই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শুধু একটি সংবর্ধনা নয়, বরং শিক্ষা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।