১০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাইকুনুর আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন

কলারোয়া থেকে ফিরে শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা।
শনিবার ৩০মে ২০২৬
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা জাহিদ হোসেন বাংলাদেশে বিদেশি জাতের আঙুর চাষে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন এবং উচ্চফলনশীল রুশ-ইউক্রেনীয় জাত ‘বাইকুনুর’ (Baikonur) আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
সাধারণত আমাদের দেশে ধারণা করা হয় যে বাংলাদেশে মিষ্টি আঙুর চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু জাহিদ তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন।
বাইকুনুর আঙুরের বৈশিষ্ট্য ও জাহিদের সাফল্য
আকর্ষণীয় রূপ ও স্বাদ: বাইকুনুর জাতের আঙুরগুলো আকারে বেশ বড়, লম্বাটে এবং পাকার পর চমৎকার গাঢ় বেগুনি বা কালো রঙ ধারণ করে। এই আঙুরগুলো অত্যন্ত রসালো এবং বাজারের আমদানিকৃত আঙুরের মতোই মিষ্টি।
উচ্চ ফলন: কলারোয়ায় জাহিদের বাগানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ধরেছে। দেশীয় আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর এর ফলন দেখে স্থানীয় কৃষি বিভাগও বেশ আশাবাদী।
বাণিজ্যিক সম্ভাবনা: জাহিদের এই সফলতার পর এলাকায় এটি একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। অনেকেই এখন তাঁর বাগান দেখতে আসছেন এবং বাণিজ্যিকভিত্তিতে এই আঙুর চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
জাহিদ হোসেনের এই সফলতার পেছনে রয়েছে আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও নিবিড় পরিচর্যা=মাচা বা ট্রেলিস পদ্ধতি: আঙুর লতানো উদ্ভিদ হওয়ায় তিনি শক্ত মাচা বা ‘T’ আকৃতির ট্রেলিস পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যাতে আলো-বাতাস ঠিকমতো পায় এবং ফলন ভালো হয়।
মাটি ও সার ব্যবস্থাপনা: বেলে-দোআঁশ মাটিতে জৈব সার, কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) এবং পরিমিত সুষম রাসায়নিক সার ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা ঠিক রেখেছেন।
প্রুনিং বা ডাল ছাঁটাই: আঙুর চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক সময়ে ডাল ছাঁটাই করা। জাহিদ সঠিক সময়ে প্রুনিং করায় গাছগুলোতে দ্রুত এবং প্রচুর পরিমাণে ফুল ও ফল এসেছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়াতে সাধারণত টক আঙুর জন্মে—এমন একটি প্রচলিত ধারণাকে পেছনে ফেলে জাহিদের এই মিষ্টি বাইকুনুর আঙুর চাষ দেশের ফল উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
খুলনার অতিরিক্ত উপ পরিচালক মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন জাহিদের এই উদ্যোগ যদি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
কলারোয়ার জাহিদ এখন শুধু একজন সফল চাষীই নন, বরং দেশের বেকার যুবকদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণার নাম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

বাইকুনুর আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন

Update Time : ১২:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

কলারোয়া থেকে ফিরে শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা।
শনিবার ৩০মে ২০২৬
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা জাহিদ হোসেন বাংলাদেশে বিদেশি জাতের আঙুর চাষে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন এবং উচ্চফলনশীল রুশ-ইউক্রেনীয় জাত ‘বাইকুনুর’ (Baikonur) আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
সাধারণত আমাদের দেশে ধারণা করা হয় যে বাংলাদেশে মিষ্টি আঙুর চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু জাহিদ তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন।
বাইকুনুর আঙুরের বৈশিষ্ট্য ও জাহিদের সাফল্য
আকর্ষণীয় রূপ ও স্বাদ: বাইকুনুর জাতের আঙুরগুলো আকারে বেশ বড়, লম্বাটে এবং পাকার পর চমৎকার গাঢ় বেগুনি বা কালো রঙ ধারণ করে। এই আঙুরগুলো অত্যন্ত রসালো এবং বাজারের আমদানিকৃত আঙুরের মতোই মিষ্টি।
উচ্চ ফলন: কলারোয়ায় জাহিদের বাগানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ধরেছে। দেশীয় আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর এর ফলন দেখে স্থানীয় কৃষি বিভাগও বেশ আশাবাদী।
বাণিজ্যিক সম্ভাবনা: জাহিদের এই সফলতার পর এলাকায় এটি একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। অনেকেই এখন তাঁর বাগান দেখতে আসছেন এবং বাণিজ্যিকভিত্তিতে এই আঙুর চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
জাহিদ হোসেনের এই সফলতার পেছনে রয়েছে আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও নিবিড় পরিচর্যা=মাচা বা ট্রেলিস পদ্ধতি: আঙুর লতানো উদ্ভিদ হওয়ায় তিনি শক্ত মাচা বা ‘T’ আকৃতির ট্রেলিস পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যাতে আলো-বাতাস ঠিকমতো পায় এবং ফলন ভালো হয়।
মাটি ও সার ব্যবস্থাপনা: বেলে-দোআঁশ মাটিতে জৈব সার, কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) এবং পরিমিত সুষম রাসায়নিক সার ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা ঠিক রেখেছেন।
প্রুনিং বা ডাল ছাঁটাই: আঙুর চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক সময়ে ডাল ছাঁটাই করা। জাহিদ সঠিক সময়ে প্রুনিং করায় গাছগুলোতে দ্রুত এবং প্রচুর পরিমাণে ফুল ও ফল এসেছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়াতে সাধারণত টক আঙুর জন্মে—এমন একটি প্রচলিত ধারণাকে পেছনে ফেলে জাহিদের এই মিষ্টি বাইকুনুর আঙুর চাষ দেশের ফল উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
খুলনার অতিরিক্ত উপ পরিচালক মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন জাহিদের এই উদ্যোগ যদি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
কলারোয়ার জাহিদ এখন শুধু একজন সফল চাষীই নন, বরং দেশের বেকার যুবকদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণার নাম।