০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে প্রেমিককে ডেকে এনে আটকে রাখার অভিযোগ, উদ্ধার করল পুলিশ

মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় এক গৃহবধূর ডাকে তাঁর প্রেমিক বাড়িতে এলে তাঁকে ও তাঁর দুই সঙ্গীকে মারধর করে একটি মাদ্রাসার কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার মাঝিগাতী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পালেরচর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে তরিকুল ইসলামের সঙ্গে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতী গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঈদের দিন সকালে ফাতেমা বেগম ফোন করে তরিকুল ইসলামকে তাঁর স্বামীর বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে সকাল সাতটার দিকে তরিকুল ইসলাম তাঁর বন্ধু শাহীন শেখ ও অপু কুণ্ডুকে সঙ্গে নিয়ে মাঝিগাতী এলাকায় ফাতেমার বাড়িতে যান। এ সময় ফাতেমার স্বামী রশীদ ইব্রাহিম ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন এবং ভবানীপুর মাদ্রাসার একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে মাদ্রাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তাঁদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে আসে। তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, “ফাতেমার সঙ্গে আমার চার বছরের সম্পর্ক। আজ সকালে তিনি আমাকে ফোন করে আসতে বলেন। পরে আমি বন্ধুদের নিয়ে তাঁকে নিতে গেলে আমাদের মারধর করে মাদ্রাসায় আটকে রাখা হয়।” ফাতেমা বেগমও বলেন, “আমি তরিকুলকে আসতে বলেছিলাম। পরে আমার স্বামী ও তাঁর লোকজন তাঁদের মারধর করে মাদ্রাসায় আটকে রাখে।” এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটকে রাখা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।” পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

গোপালগঞ্জে প্রেমিককে ডেকে এনে আটকে রাখার অভিযোগ, উদ্ধার করল পুলিশ

Update Time : ০১:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় এক গৃহবধূর ডাকে তাঁর প্রেমিক বাড়িতে এলে তাঁকে ও তাঁর দুই সঙ্গীকে মারধর করে একটি মাদ্রাসার কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার মাঝিগাতী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পালেরচর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে তরিকুল ইসলামের সঙ্গে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতী গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঈদের দিন সকালে ফাতেমা বেগম ফোন করে তরিকুল ইসলামকে তাঁর স্বামীর বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে সকাল সাতটার দিকে তরিকুল ইসলাম তাঁর বন্ধু শাহীন শেখ ও অপু কুণ্ডুকে সঙ্গে নিয়ে মাঝিগাতী এলাকায় ফাতেমার বাড়িতে যান। এ সময় ফাতেমার স্বামী রশীদ ইব্রাহিম ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন এবং ভবানীপুর মাদ্রাসার একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে মাদ্রাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তাঁদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে আসে। তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, “ফাতেমার সঙ্গে আমার চার বছরের সম্পর্ক। আজ সকালে তিনি আমাকে ফোন করে আসতে বলেন। পরে আমি বন্ধুদের নিয়ে তাঁকে নিতে গেলে আমাদের মারধর করে মাদ্রাসায় আটকে রাখা হয়।” ফাতেমা বেগমও বলেন, “আমি তরিকুলকে আসতে বলেছিলাম। পরে আমার স্বামী ও তাঁর লোকজন তাঁদের মারধর করে মাদ্রাসায় আটকে রাখে।” এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটকে রাখা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।” পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।