০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুবিওর দিল্লি সফরে ট্রাম্পের ফোন: ‘ভারত যা চায় তাই পাবে’ — বাংলাদেশ ইস্যুতে কী বোঝাপড়া

হাকিকুল ইসলাম খোকন, মীর ডিনার হোসেন,বাপসনিউজঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিল্লি সফরের মাঝে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ফোনকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “ভারত যা চায়, তারা তাই পাবে। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় ফ্যান।” এই মন্তব্য ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন উচ্চতা নির্দেশ করছে।খবর বাপসনিউজ। ভারত কী চেয়েছে? এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমসসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসারে, ভারতের মূল অগ্রাধিকারগুলো হলো: বাণিজ্যিক শুল্ক হ্রাস, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, কোয়াড জোটকে আরও শক্তিশালী করা, চীনের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমর্থন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নিজস্ব প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখা। ভারত রাশিয়ান তেল আমদানি অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি চায়। বাংলাদেশ ইস্যুতে বোঝাপড়া ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে করছেন ভারত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছে কারণ দেশটি এ বিষয়গুলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। রুবিও-জয়শঙ্কর বৈঠকে বাংলাদেশ ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। ভারত চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় চাপ অব্যাহত রাখে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সহযোগিতা করে। ট্রাম্পের ‘যা চায় তাই পাবে’ মন্তব্যকে অনেকে ভারতের এই অঞ্চলীয় নীতিতে মার্কিন সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে চায় না। ফলে একটি বাস্তবসম্মত বোঝাপড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে — ভারতকে আশ্বাস দিয়ে ওয়াশিংটন নিজস্ব স্বার্থ (চীন প্রতিরোধ ও বাণিজ্য) রক্ষা করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও মার্কো রুবিওর বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের ফোনকল এই সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও মজবুত করবে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর ওপর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

রুবিওর দিল্লি সফরে ট্রাম্পের ফোন: ‘ভারত যা চায় তাই পাবে’ — বাংলাদেশ ইস্যুতে কী বোঝাপড়া

Update Time : ১২:০৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

হাকিকুল ইসলাম খোকন, মীর ডিনার হোসেন,বাপসনিউজঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিল্লি সফরের মাঝে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ফোনকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “ভারত যা চায়, তারা তাই পাবে। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় ফ্যান।” এই মন্তব্য ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন উচ্চতা নির্দেশ করছে।খবর বাপসনিউজ। ভারত কী চেয়েছে? এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমসসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসারে, ভারতের মূল অগ্রাধিকারগুলো হলো: বাণিজ্যিক শুল্ক হ্রাস, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, কোয়াড জোটকে আরও শক্তিশালী করা, চীনের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমর্থন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নিজস্ব প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখা। ভারত রাশিয়ান তেল আমদানি অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি চায়। বাংলাদেশ ইস্যুতে বোঝাপড়া ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে করছেন ভারত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছে কারণ দেশটি এ বিষয়গুলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। রুবিও-জয়শঙ্কর বৈঠকে বাংলাদেশ ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। ভারত চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় চাপ অব্যাহত রাখে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সহযোগিতা করে। ট্রাম্পের ‘যা চায় তাই পাবে’ মন্তব্যকে অনেকে ভারতের এই অঞ্চলীয় নীতিতে মার্কিন সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে চায় না। ফলে একটি বাস্তবসম্মত বোঝাপড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে — ভারতকে আশ্বাস দিয়ে ওয়াশিংটন নিজস্ব স্বার্থ (চীন প্রতিরোধ ও বাণিজ্য) রক্ষা করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও মার্কো রুবিওর বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের ফোনকল এই সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও মজবুত করবে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর ওপর।