০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাপাহারে খালাসের দাম বৃদ্ধিতে বিরোধ, দেড় শতাধিক ধান্য আড়তে কেনা-বেঁচা বন্ধ

হারনুর রশিদ,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলার খঞ্জনপুর বাজারে কুলি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় দেড় শতাধিক ধান্য আড়তে কেনা-বেঁচা বন্ধ রয়েছে। এতে ভরা মৌসুমে ব্যবসায়ী ও সাধারণ কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জানা গেছে, খঞ্জনপুর বাজার ধান্য বনিক সমিতির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে খঞ্জনপুর বাজারসহ শিরন্টি পাগলার মোড়, উমইল বাজার, জবই মোড় ও বিন্যাকুড়ি মোড়ে ধান, গম, সরিষা, চাউল, সার, সিমেন্ট ও রডের লোড-আনলোড কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এসব পণ্য খালাসের কাজ করে আসছে খঞ্জনপুর বাজার কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে ধান প্রতি বস্তা ১৯ টাকা, গম (৫০/৬০ কেজি) ১৪ টাকা, চাউল (৫০ কেজি) ৭ টাকা, সার ও সিমেন্ট ৭ টাকা এবং রড প্রতি টন ২০০ টাকা হারে মজুরি প্রদান করা হয়, যা অন্যান্য মোকামের তুলনায় বেশি। এরপর আবরো গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে মজুরি বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা লোড-আনলোড কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন। একারনে ধান্য বনিক সমিতি সদস্যা ধান বেচা কেনা বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হয়েছে।  শ্রমিকদের প্রস্তাবিত নতুন রেট অনুযায়ী ধান প্রতি বস্তা ২১ টাকা, গম (৫১/৬০ কেজি) ১৭ টাকা, গম (৮০ কেজি) ২২ টাকা, সরিষা (৮০ কেজি) ২৫ টাকা, সার, সিমেন্ট ও চাউল আনলোড ৯ টাকা এবং রড প্রতি টন ২৬০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।

খঞ্জনপুর বাজার ধান্য বনিক সমিতির সভাপতি মোঃ তোফাজ্জল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল আকতার বলেন, “বর্তমানে কাঁচা ধানের ভরা মৌসুম চলছে। বেচা কেনা বন্ধ থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অন্যদিকে কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর মোঃ আলমগীর হোসেন ও লেবার সরদার মাহফুজ আলম জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই রেট বৃদ্ধি করা অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ ও আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সাপাহারে খালাসের দাম বৃদ্ধিতে বিরোধ, দেড় শতাধিক ধান্য আড়তে কেনা-বেঁচা বন্ধ

Update Time : ০৪:৩৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

হারনুর রশিদ,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলার খঞ্জনপুর বাজারে কুলি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় দেড় শতাধিক ধান্য আড়তে কেনা-বেঁচা বন্ধ রয়েছে। এতে ভরা মৌসুমে ব্যবসায়ী ও সাধারণ কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জানা গেছে, খঞ্জনপুর বাজার ধান্য বনিক সমিতির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে খঞ্জনপুর বাজারসহ শিরন্টি পাগলার মোড়, উমইল বাজার, জবই মোড় ও বিন্যাকুড়ি মোড়ে ধান, গম, সরিষা, চাউল, সার, সিমেন্ট ও রডের লোড-আনলোড কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এসব পণ্য খালাসের কাজ করে আসছে খঞ্জনপুর বাজার কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে ধান প্রতি বস্তা ১৯ টাকা, গম (৫০/৬০ কেজি) ১৪ টাকা, চাউল (৫০ কেজি) ৭ টাকা, সার ও সিমেন্ট ৭ টাকা এবং রড প্রতি টন ২০০ টাকা হারে মজুরি প্রদান করা হয়, যা অন্যান্য মোকামের তুলনায় বেশি। এরপর আবরো গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে মজুরি বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা লোড-আনলোড কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন। একারনে ধান্য বনিক সমিতি সদস্যা ধান বেচা কেনা বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হয়েছে।  শ্রমিকদের প্রস্তাবিত নতুন রেট অনুযায়ী ধান প্রতি বস্তা ২১ টাকা, গম (৫১/৬০ কেজি) ১৭ টাকা, গম (৮০ কেজি) ২২ টাকা, সরিষা (৮০ কেজি) ২৫ টাকা, সার, সিমেন্ট ও চাউল আনলোড ৯ টাকা এবং রড প্রতি টন ২৬০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।

খঞ্জনপুর বাজার ধান্য বনিক সমিতির সভাপতি মোঃ তোফাজ্জল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল আকতার বলেন, “বর্তমানে কাঁচা ধানের ভরা মৌসুম চলছে। বেচা কেনা বন্ধ থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অন্যদিকে কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর মোঃ আলমগীর হোসেন ও লেবার সরদার মাহফুজ আলম জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই রেট বৃদ্ধি করা অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ ও আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।