০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসন থানায় অভিযোগ বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্ক, নির্যাতন ও জোরপূর্বক অসামাজিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকার ১৬ নং ওয়ার্ডের আক্তার মার্কেট এলাকায় নাজমুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা, শারীরিক সম্পর্ক, মাদক সেবনে বাধ্য করা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনসহ জোরপূর্বক অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী জান্নাত আক্তার (২০) বাসন থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আক্তার মার্কেট এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম, পিতা রফিকুল ইসলাম ও মাতা নুরজাহান বেগমের নিজস্ব বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন জান্নাত আক্তার। ভাড়া থাকা অবস্থায় তাদের মধ্যে পরিচয় ও পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নাজমুল একাধিকবার জান্নাতের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এক পর্যায়ে জান্নাত অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নাজমুল ও তার পরিবার মীমাংসায় অংশ নেয়নি। পরে জান্নাত তার বাবার বাড়িতে চলে যান এবং সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগে বলা হয়, মামলার আশঙ্কায় পরবর্তীতে নাজমুল জান্নাতের জন্য আলাদা বাসা ভাড়া করে দেন এবং শুরুতে কিছু সহযোগিতা করলেও পরে তার আচরণ পাল্টে যায়।
জান্নাতের অভিযোগ, ওই বাসায় নিয়ে গিয়ে নাজমুল নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতেন এবং তাকেও মাদক সেবনে বাধ্য করতেন। শুধু তাই নয়, বন্ধুদের নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে ভয়ভীতি ও মানসিক চাপে রাখা হয়।
এদিকে কয়েক মাস ধরে বাসা ভাড়া বকেয়া পড়ে গেলে এবং নাজমুল যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে অসুস্থ অবস্থায় সন্তান নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে জান্নাতকে। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
জানা গেছে, গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে বাসন থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ নাজমুলের বাসায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় নাজমুলের মা প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে বিষয়টি তার ছেলের ব্যক্তিগত বিষয় বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে জান্নাত তার শিশু সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জান্নাত অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

বাসন থানায় অভিযোগ বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্ক, নির্যাতন ও জোরপূর্বক অসামাজিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ

Update Time : ০৩:২৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকার ১৬ নং ওয়ার্ডের আক্তার মার্কেট এলাকায় নাজমুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা, শারীরিক সম্পর্ক, মাদক সেবনে বাধ্য করা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনসহ জোরপূর্বক অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী জান্নাত আক্তার (২০) বাসন থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আক্তার মার্কেট এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম, পিতা রফিকুল ইসলাম ও মাতা নুরজাহান বেগমের নিজস্ব বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন জান্নাত আক্তার। ভাড়া থাকা অবস্থায় তাদের মধ্যে পরিচয় ও পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নাজমুল একাধিকবার জান্নাতের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এক পর্যায়ে জান্নাত অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে নাজমুল ও তার পরিবার মীমাংসায় অংশ নেয়নি। পরে জান্নাত তার বাবার বাড়িতে চলে যান এবং সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগে বলা হয়, মামলার আশঙ্কায় পরবর্তীতে নাজমুল জান্নাতের জন্য আলাদা বাসা ভাড়া করে দেন এবং শুরুতে কিছু সহযোগিতা করলেও পরে তার আচরণ পাল্টে যায়।
জান্নাতের অভিযোগ, ওই বাসায় নিয়ে গিয়ে নাজমুল নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতেন এবং তাকেও মাদক সেবনে বাধ্য করতেন। শুধু তাই নয়, বন্ধুদের নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে ভয়ভীতি ও মানসিক চাপে রাখা হয়।
এদিকে কয়েক মাস ধরে বাসা ভাড়া বকেয়া পড়ে গেলে এবং নাজমুল যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে অসুস্থ অবস্থায় সন্তান নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে জান্নাতকে। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
জানা গেছে, গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে বাসন থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ নাজমুলের বাসায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় নাজমুলের মা প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে বিষয়টি তার ছেলের ব্যক্তিগত বিষয় বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে জান্নাত তার শিশু সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী জান্নাত অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।