১১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’: চুয়াডাঙ্গায় ৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস


মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ইং

​সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জানান দিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত এক বছরে বিভিন্ন সফল অভিযানে জব্দকৃত প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদকদ্রব্য পুড়িয়ে ও ভেঙে বিনষ্ট করা হয়।

​চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এসব মাদক জব্দ করা হয়েছিল।

ধ্বংসকৃত মাদকের তালিকায় রয়েছে:
​ফেনসিডিল: ১০ হাজার ৬১৭ বোতল
​হেরোইন: ১.৮৫৭ কেজি
​গাঁজা: ২৩৮.৭৯ কেজি
​বিদেশি মদ: ৩ হাজার ৯৮৩ বোতল
​কোকেন: ১.৮৯ কেজি
​নেশাজাতীয় ট্যাবলেট (ভায়াগ্রা/সেনেগ্রা/ট্যাপেন্টাডল): ২৫ হাজার ৪৮৫ পিস
​ভারতীয় বিয়ার: ২৯ বোতল
​নেশাজাতীয় ইনজেকশন: ১৯ পিস।

​বিজিবি জানায়, ধ্বংসকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। মাদকদ্রব্য ধ্বংসের কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন:
​”মাদক কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়, এটি একটি বহুমাত্রিক ও জটিল সামাজিক ব্যাধি। যুবসমাজকে এই মরণনেশা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সীমান্তে দিন-রাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

​মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। উপস্থিত ছিলেন:
​কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন (সেক্টর কমান্ডার, বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টর)
​লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান (অধিনায়ক, চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি) ​মোস্তফা কামাল (সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চুয়াডাঙ্গা) ​জামাল আল নাসের (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ​ডা. হাদি জিয়া উদ্দীন (সিভিল সার্জন, চুয়াডাঙ্গা) ​সাইফুল ইসলাম (উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মুজিবনগর)
সহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার কর্মকর্তারা।

​চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, জব্দকৃত এই মাদকগুলো মূলত মালিকবিহীন অবস্থায় সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এসব মাদকের চোরাচালান রোধে বিজিবির নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোনোভাবেই সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ সহ্য করা হবে না।

​বিজিবির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ। তারা মনে করছেন, এ ধরনের জনসমক্ষে মাদক ধ্বংসের কর্মসূচি চোরাকারবারিদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং যুবসমাজকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সীমান্তে বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’: চুয়াডাঙ্গায় ৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস

Update Time : ০৪:২৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬


মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ইং

​সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জানান দিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত এক বছরে বিভিন্ন সফল অভিযানে জব্দকৃত প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদকদ্রব্য পুড়িয়ে ও ভেঙে বিনষ্ট করা হয়।

​চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এসব মাদক জব্দ করা হয়েছিল।

ধ্বংসকৃত মাদকের তালিকায় রয়েছে:
​ফেনসিডিল: ১০ হাজার ৬১৭ বোতল
​হেরোইন: ১.৮৫৭ কেজি
​গাঁজা: ২৩৮.৭৯ কেজি
​বিদেশি মদ: ৩ হাজার ৯৮৩ বোতল
​কোকেন: ১.৮৯ কেজি
​নেশাজাতীয় ট্যাবলেট (ভায়াগ্রা/সেনেগ্রা/ট্যাপেন্টাডল): ২৫ হাজার ৪৮৫ পিস
​ভারতীয় বিয়ার: ২৯ বোতল
​নেশাজাতীয় ইনজেকশন: ১৯ পিস।

​বিজিবি জানায়, ধ্বংসকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। মাদকদ্রব্য ধ্বংসের কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন:
​”মাদক কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়, এটি একটি বহুমাত্রিক ও জটিল সামাজিক ব্যাধি। যুবসমাজকে এই মরণনেশা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সীমান্তে দিন-রাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

​মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। উপস্থিত ছিলেন:
​কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন (সেক্টর কমান্ডার, বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টর)
​লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান (অধিনায়ক, চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি) ​মোস্তফা কামাল (সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চুয়াডাঙ্গা) ​জামাল আল নাসের (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ​ডা. হাদি জিয়া উদ্দীন (সিভিল সার্জন, চুয়াডাঙ্গা) ​সাইফুল ইসলাম (উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মুজিবনগর)
সহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার কর্মকর্তারা।

​চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, জব্দকৃত এই মাদকগুলো মূলত মালিকবিহীন অবস্থায় সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এসব মাদকের চোরাচালান রোধে বিজিবির নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোনোভাবেই সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ সহ্য করা হবে না।

​বিজিবির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ। তারা মনে করছেন, এ ধরনের জনসমক্ষে মাদক ধ্বংসের কর্মসূচি চোরাকারবারিদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং যুবসমাজকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করবে।