
মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
৫ মে, মঙ্গলবার ২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এবং রিএজেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহারের দায়ে ‘মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোম’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত বিশেষ তদারকিমূলক অভিযানে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তদারকিকালীন সময়ে মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমের ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটারে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়।
তদন্তকারী দল দেখতে পান যে:
অপারেশন থিয়েটারের (OT) ফ্রিজে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ জীবনরক্ষাকারী ঔষধ রাখা হয়েছে, যা অস্ত্রোপচারের রোগীদের ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
ল্যাবরেটরির ফ্রিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত রিএজেন্টগুলো ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। এই রিএজেন্ট দিয়ে পরীক্ষা করলে ভুল রিপোর্ট আসার সম্ভাবনা থাকে, যা ভুল চিকিৎসাকে উৎসাহিত করতে পারে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্যের প্রতি চরম অবহেলা এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মনোয়ারা খাতুনকে নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই। অপারেশন থিয়েটারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা নিয়মিত এ ধরনের তদারকি চালিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এটি অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান চলাকালীন সার্বিক তদারকি ও কারিগরি সহযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন:
ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জীবননগর।
জনাব রফিকুল ইসলাম, প্রতিনিধি, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি দক্ষ চৌকস দল।
অভিযানের খবরে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এমন ভয়াবহ অনিয়মে অনেক রোগী ও স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সচেতন মহলের দাবি, কেবল জরিমানা নয় বরং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অন্য ব্যবসায়ীদেরও সর্তক করা হয়েছে যেন তারা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় বা ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন।
প্রতিনিধির নাম 



















