০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: ডজনখানেক মামলার আসামি তারজীত গ্রেফতার


মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
৫ মে, মঙ্গলবার ২০২৬ ইং

​চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানা পুলিশ এক সফল অভিযানে দীর্ঘদিনের পলাতক ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ রাশেদুজ্জামান তারজীত ওরফে রাসেদকে (২৭) গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, বোমাবাজি এবং অগ্নিসংযোগসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল আজ ৫ মে, ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ০২:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঈশ্বরচন্দ্রপুর (বড় মসজিদ পাড়া) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সাথে পরিচালিত এই অভিযানে তারজীতকে তার নিজ বাড়ি থেকে ঘেরাও করে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও সুকৌশলী অভিযানে তাকে বাগে আনতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

​গ্রেফতারকৃত মোঃ রাশেদুজ্জামান তারজীত (২৭), দর্শনা থানার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মোঃ সানিরুল ইসলামের ছেলে। এলাকায় সে একজন চিহ্নিত মাদক সম্রাট ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিল।

​পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, তারজীতের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় বিভিন্ন সময়ে একাধিক গুরুতর মামলা দায়ের হয়েছে। তার অপরাধের তালিকায় রয়েছে:

সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচার ও সরবরাহের একাধিক মামলা। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টিতে ককটেল ও বিস্ফোরক ব্যবহারের অভিযোগ। মারামারি, গুরুতর জখম এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ। পুলিশের সরকারি কাজে সরাসরি বাধা প্রদান ও আক্রমণ।

​”আসামি তারজীত দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে গা ঢাকা দিয়ে ছিল। তার গ্রেফতারের ফলে ওই এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা আসবে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরবে।” — দর্শনা থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষ

​গ্রেফতারের পর আসামিকে যথাযথ পুলিশি পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। তার বিরুদ্ধে থাকা আগের মামলাগুলোর পাশাপাশি আইনানুগ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

​চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদকের জিরো টলারেন্স নীতি এবং অপরাধ দমনে এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শহর ও গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনসাধারণকে যেকোনো অপরাধ বা অপরাধী সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: ডজনখানেক মামলার আসামি তারজীত গ্রেফতার

Update Time : ০৪:২৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬


মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
৫ মে, মঙ্গলবার ২০২৬ ইং

​চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানা পুলিশ এক সফল অভিযানে দীর্ঘদিনের পলাতক ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ রাশেদুজ্জামান তারজীত ওরফে রাসেদকে (২৭) গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, বোমাবাজি এবং অগ্নিসংযোগসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল আজ ৫ মে, ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ০২:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঈশ্বরচন্দ্রপুর (বড় মসজিদ পাড়া) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সাথে পরিচালিত এই অভিযানে তারজীতকে তার নিজ বাড়ি থেকে ঘেরাও করে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও সুকৌশলী অভিযানে তাকে বাগে আনতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

​গ্রেফতারকৃত মোঃ রাশেদুজ্জামান তারজীত (২৭), দর্শনা থানার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মোঃ সানিরুল ইসলামের ছেলে। এলাকায় সে একজন চিহ্নিত মাদক সম্রাট ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিল।

​পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, তারজীতের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় বিভিন্ন সময়ে একাধিক গুরুতর মামলা দায়ের হয়েছে। তার অপরাধের তালিকায় রয়েছে:

সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচার ও সরবরাহের একাধিক মামলা। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টিতে ককটেল ও বিস্ফোরক ব্যবহারের অভিযোগ। মারামারি, গুরুতর জখম এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ। পুলিশের সরকারি কাজে সরাসরি বাধা প্রদান ও আক্রমণ।

​”আসামি তারজীত দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে গা ঢাকা দিয়ে ছিল। তার গ্রেফতারের ফলে ওই এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা আসবে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরবে।” — দর্শনা থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষ

​গ্রেফতারের পর আসামিকে যথাযথ পুলিশি পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। তার বিরুদ্ধে থাকা আগের মামলাগুলোর পাশাপাশি আইনানুগ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

​চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদকের জিরো টলারেন্স নীতি এবং অপরাধ দমনে এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শহর ও গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনসাধারণকে যেকোনো অপরাধ বা অপরাধী সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।