১১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ‘জলাবদ্ধতা নেই’ বিতর্কের মাঝেই জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক মেয়রের জরুরীভিত্তিতে ৬ কমিটি গঠন

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে ৬টি পৃথক কমিটি গঠন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। খাল, ড্রেন, নালা ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাভিত্তিক এসব কমিটিকে দ্রুত মাঠে নেমে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বর্ষার আগেই দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে কঠোর তদারকির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৪ মে) চসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রকৌশল বিভাগ, পরিচ্ছন্নতা বিভাগ, তদারকি কর্মকর্তা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন খাল, ড্রেন, কালভার্ট ও সংযোগ নালার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মেয়র।
গঠিত কমিটিগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান।
খাল ও এলাকা অনুযায়ী কমিটিগুলোর দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। হিজরা খাল, জামাল খান খাল, রামপুর খাল, গুলজার খাল, মনোহরখালী খাল এবং চাঁদগাঁও-মুরাদপুর এলাকা নিয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটিতে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. আশরাফুল আমিন ও প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানকে। জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকৌশলগত কার্যক্রমে পরামর্শ দেবেন প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহ আলম সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, চট্টগ্রামে কোনো জলাবদ্ধতা নেই, বরং সাময়িক জলজট সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বাস্তবে সাম্প্রতিক দুদিনের বৃষ্টিতে নগরের প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে এবং বহু দোকানপাট ডুবে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
এমন বাস্তবতার মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে ৬টি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যদি জলাবদ্ধতা না-ই থাকে, তবে এ ধরনের তড়িৎ উদ্যোগ কেন প্রয়োজন হলো।
সভায় মেয়র বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে আর কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। কোথায় সমস্যা, কোন খাল বা ড্রেন বন্ধ, কোথায় নির্মাণসামগ্রী পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে—এসব দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।
তিনি বিশেষভাবে চাকতাই, মুরাদপুর, রামপুর খাল, আছদগঞ্জ খাল, গাউছিয়া রোড, রূপসা বেকারি এলাকা, গুলজার খাল ও মাদারবাড়ী এলাকার জলাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন। অনেক স্থানে খাল ও ড্রেনে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে সেগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি।
রামপুর ও আছদগঞ্জ খাল এলাকার দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে মেয়র জানান, তিনি নিজে সরেজমিনে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ দেখেছেন। খালের মুখে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকা এবং সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। বর্ষার আগে অন্তত অস্থায়ীভাবে হলেও চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যক্রম নিয়েও কঠোর অবস্থান নেন মেয়র। তিনি বলেন, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করা হবে। যারা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ৩ হাজার রেইনকোট সরবরাহ করা হবে এবং প্রয়োজনে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। শহর পরিষ্কার রাখতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার জন্য পৃথকভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চট্টগ্রামে ‘জলাবদ্ধতা নেই’ বিতর্কের মাঝেই জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক মেয়রের জরুরীভিত্তিতে ৬ কমিটি গঠন

Update Time : ০৪:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে ৬টি পৃথক কমিটি গঠন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। খাল, ড্রেন, নালা ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাভিত্তিক এসব কমিটিকে দ্রুত মাঠে নেমে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বর্ষার আগেই দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে কঠোর তদারকির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৪ মে) চসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রকৌশল বিভাগ, পরিচ্ছন্নতা বিভাগ, তদারকি কর্মকর্তা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন খাল, ড্রেন, কালভার্ট ও সংযোগ নালার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মেয়র।
গঠিত কমিটিগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান।
খাল ও এলাকা অনুযায়ী কমিটিগুলোর দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। হিজরা খাল, জামাল খান খাল, রামপুর খাল, গুলজার খাল, মনোহরখালী খাল এবং চাঁদগাঁও-মুরাদপুর এলাকা নিয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটিতে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. আশরাফুল আমিন ও প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানকে। জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকৌশলগত কার্যক্রমে পরামর্শ দেবেন প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহ আলম সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, চট্টগ্রামে কোনো জলাবদ্ধতা নেই, বরং সাময়িক জলজট সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বাস্তবে সাম্প্রতিক দুদিনের বৃষ্টিতে নগরের প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে এবং বহু দোকানপাট ডুবে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
এমন বাস্তবতার মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে ৬টি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যদি জলাবদ্ধতা না-ই থাকে, তবে এ ধরনের তড়িৎ উদ্যোগ কেন প্রয়োজন হলো।
সভায় মেয়র বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে আর কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। কোথায় সমস্যা, কোন খাল বা ড্রেন বন্ধ, কোথায় নির্মাণসামগ্রী পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে—এসব দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।
তিনি বিশেষভাবে চাকতাই, মুরাদপুর, রামপুর খাল, আছদগঞ্জ খাল, গাউছিয়া রোড, রূপসা বেকারি এলাকা, গুলজার খাল ও মাদারবাড়ী এলাকার জলাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন। অনেক স্থানে খাল ও ড্রেনে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে সেগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি।
রামপুর ও আছদগঞ্জ খাল এলাকার দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে মেয়র জানান, তিনি নিজে সরেজমিনে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ দেখেছেন। খালের মুখে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকা এবং সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। বর্ষার আগে অন্তত অস্থায়ীভাবে হলেও চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যক্রম নিয়েও কঠোর অবস্থান নেন মেয়র। তিনি বলেন, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করা হবে। যারা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ৩ হাজার রেইনকোট সরবরাহ করা হবে এবং প্রয়োজনে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। শহর পরিষ্কার রাখতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার জন্য পৃথকভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।