১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, যানজট-ভোগান্তি

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় ওভারটাইমের পাওনা পরিশোধ, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা, ওভারডিউটি কমানো, প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন পরিশোধ, শ্রমিকবান্ধব ইউনিয়ন গঠন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, টিফিন বিল বৃদ্ধি ও হাজিরা বোনাস চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন আজিম গ্রুপের কয়েকটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শ্রমিক। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
২ মে(শনিবার) বেলা ১১টার দিকে নগরের সিএন্ডবি চত্বরে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ দীর্ঘ সময় আটকে পড়েন, অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অফিস থেকে তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। ২০২০ সাল থেকে তাদের টিফিন বিল বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ২০২২ ও ২০২৫ সালের ওভারটাইমের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি এবং নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়নি। তারা ওভারডিউটি কমানো, প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন পরিশোধ, শ্রমিকবান্ধব ইউনিয়ন গঠন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, টিফিন বিল বৃদ্ধি ও হাজিরা বোনাস চালুর দাবি জানান।
রেশমি নামের এক শ্রমিক জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বেতন এখনো পাননি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন সম্পূর্ণ দেওয়ার কথা থাকলেও গত বৃহস্পতিবার কেবল এক মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে।
আকলিমা খাতুন বলেন, বছরের পর বছর তাদের মাতৃত্বকালীন বিল বকেয়া রাখা হচ্ছে। শুধু আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো সমাধান মিলছে না। এতে তারা ঘরভাড়া পর্যন্ত দিতে পারছেন না।
হাসান শরিফ অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ওভারটাইমের প্রায় ৪৫ হাজার টাকা সিগনেচার জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। খাতায় তাদের নামও নেই। এছাড়া গত পাঁচ বছর ধরে নাস্তার বিলও পরিশোধ করা হয়নি।
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে বের হলেও দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে শেষ পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য হন।
অ্যাম্বুলেন্স চালক আরিফুল ইসলাম বলেন, রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা পথ ছেড়ে দিলেও যানজটের কারণে সামনে এগোনো যাচ্ছে না।
তবে শ্রমিকদের দাবি আদায়ে এখনো পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, আজিম গ্রুপের শ্রমিকরা তাদের বিভিন্ন দাবী নিয়ে আন্দোলনের অংশ হিসাবে সড়ক অবরোধ করায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্ঠি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে কাজ শুরু করছে।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে বেতনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। যানজট নিরসনে শিল্প পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, যানজট-ভোগান্তি

Update Time : ০৫:২১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় ওভারটাইমের পাওনা পরিশোধ, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা, ওভারডিউটি কমানো, প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন পরিশোধ, শ্রমিকবান্ধব ইউনিয়ন গঠন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, টিফিন বিল বৃদ্ধি ও হাজিরা বোনাস চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন আজিম গ্রুপের কয়েকটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শ্রমিক। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
২ মে(শনিবার) বেলা ১১টার দিকে নগরের সিএন্ডবি চত্বরে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ শুরু করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ দীর্ঘ সময় আটকে পড়েন, অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অফিস থেকে তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। ২০২০ সাল থেকে তাদের টিফিন বিল বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ২০২২ ও ২০২৫ সালের ওভারটাইমের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি এবং নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়নি। তারা ওভারডিউটি কমানো, প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন পরিশোধ, শ্রমিকবান্ধব ইউনিয়ন গঠন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, টিফিন বিল বৃদ্ধি ও হাজিরা বোনাস চালুর দাবি জানান।
রেশমি নামের এক শ্রমিক জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বেতন এখনো পাননি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন সম্পূর্ণ দেওয়ার কথা থাকলেও গত বৃহস্পতিবার কেবল এক মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে।
আকলিমা খাতুন বলেন, বছরের পর বছর তাদের মাতৃত্বকালীন বিল বকেয়া রাখা হচ্ছে। শুধু আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো সমাধান মিলছে না। এতে তারা ঘরভাড়া পর্যন্ত দিতে পারছেন না।
হাসান শরিফ অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ওভারটাইমের প্রায় ৪৫ হাজার টাকা সিগনেচার জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। খাতায় তাদের নামও নেই। এছাড়া গত পাঁচ বছর ধরে নাস্তার বিলও পরিশোধ করা হয়নি।
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে বের হলেও দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে শেষ পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য হন।
অ্যাম্বুলেন্স চালক আরিফুল ইসলাম বলেন, রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা পথ ছেড়ে দিলেও যানজটের কারণে সামনে এগোনো যাচ্ছে না।
তবে শ্রমিকদের দাবি আদায়ে এখনো পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, আজিম গ্রুপের শ্রমিকরা তাদের বিভিন্ন দাবী নিয়ে আন্দোলনের অংশ হিসাবে সড়ক অবরোধ করায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্ঠি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে কাজ শুরু করছে।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে বেতনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। যানজট নিরসনে শিল্প পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।