০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক নির্যাতনকারী কুখ্যাত আওয়ামীলিগ নেতা হারুন আবারো বেপরোয়া! সাংবাদিক সুলতানকে প্রাণে হত্যার চেষ্টায় তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায়- থানায় মামলা

 

​স্টাফ রিপোর্টার:- হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের আওয়ামী লীগের দূষর ও আউশকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম দূনীতির সংবাদ প্রকাশ করার মারধর সহ আদালত ও থানায় মিথ্যা বানোয়াট মামলা করেও শান্ত হয়নি। বরং আবারো হারুন বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।
জানাযায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও তাঁর পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমদ নবীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার নবীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত আছেন। এ ঘটনায় গত ২৭শে এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকের স্ত্রী মোছাঃ রাজমিন বেগম। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২০ সালে যখন আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোঃ মুহিবুর রহমান হারুন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিক শাহ সুলতান সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ প্রচার করেন। সেই সময় সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে গুরুতর জখম করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় চিকিৎসার খরচ ও ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। কিন্তু বিবাদীরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে দীর্ঘকাল ধরে টালবাহানা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০শে এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিকেলে আউশকান্দি বাজারের মারফত উল্লা ভবনের নিচে সাংবাদিক শাহ সুলতান বিবাদীদের কাছে পূর্বের সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বকেয়া পাওনা ও ঘর নির্মাণের কথা বললে ১নং বিবাদী মোঃ মুহিবুর রহমান হারুন ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলার নির্দেশ দেন। এ সময় বিবাদীরা তাকে “শালা’র ব্যাটাকে শেষ করিয়া ফেল” বলে ধাওয়া করে এবং হত্যার হুমকি প্রদান করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও বর্তমানে বিবাদীদের ক্রমাগত হুমকির মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মুহিবুর রহমান হারুন এবং অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন আতাউর রহমান, মোঃ ইমাদ উদ্দিন,মোঃ এমদাদুর রহমান, মোঃ রাজনু মিয়া, জমির আলী মেম্বার, কাপ্তান মিয়া ও মোঃ নূরুজ্জামান। বর্তমানে সাংবাদিকের স্ত্রী ও সন্তানেরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং বিবাদীদের ভয়ে সাংবাদিক শাহ সুলতান দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নবীগঞ্জের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, একজন কলম যোদ্ধার ওপর এমন হামলা সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার সামিল। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে এলাকায় সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। নবীগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রেরক
বুলবুল আহমেদ
নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সাংবাদিক নির্যাতনকারী কুখ্যাত আওয়ামীলিগ নেতা হারুন আবারো বেপরোয়া! সাংবাদিক সুলতানকে প্রাণে হত্যার চেষ্টায় তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায়- থানায় মামলা

Update Time : ০৬:২৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

 

​স্টাফ রিপোর্টার:- হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের আওয়ামী লীগের দূষর ও আউশকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম দূনীতির সংবাদ প্রকাশ করার মারধর সহ আদালত ও থানায় মিথ্যা বানোয়াট মামলা করেও শান্ত হয়নি। বরং আবারো হারুন বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।
জানাযায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও তাঁর পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমদ নবীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার নবীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত আছেন। এ ঘটনায় গত ২৭শে এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকের স্ত্রী মোছাঃ রাজমিন বেগম। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২০ সালে যখন আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোঃ মুহিবুর রহমান হারুন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিক শাহ সুলতান সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ প্রচার করেন। সেই সময় সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে গুরুতর জখম করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় চিকিৎসার খরচ ও ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। কিন্তু বিবাদীরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে দীর্ঘকাল ধরে টালবাহানা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০শে এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিকেলে আউশকান্দি বাজারের মারফত উল্লা ভবনের নিচে সাংবাদিক শাহ সুলতান বিবাদীদের কাছে পূর্বের সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বকেয়া পাওনা ও ঘর নির্মাণের কথা বললে ১নং বিবাদী মোঃ মুহিবুর রহমান হারুন ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলার নির্দেশ দেন। এ সময় বিবাদীরা তাকে “শালা’র ব্যাটাকে শেষ করিয়া ফেল” বলে ধাওয়া করে এবং হত্যার হুমকি প্রদান করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও বর্তমানে বিবাদীদের ক্রমাগত হুমকির মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মুহিবুর রহমান হারুন এবং অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন আতাউর রহমান, মোঃ ইমাদ উদ্দিন,মোঃ এমদাদুর রহমান, মোঃ রাজনু মিয়া, জমির আলী মেম্বার, কাপ্তান মিয়া ও মোঃ নূরুজ্জামান। বর্তমানে সাংবাদিকের স্ত্রী ও সন্তানেরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং বিবাদীদের ভয়ে সাংবাদিক শাহ সুলতান দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নবীগঞ্জের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, একজন কলম যোদ্ধার ওপর এমন হামলা সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার সামিল। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে এলাকায় সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। নবীগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রেরক
বুলবুল আহমেদ
নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি