০৮:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা 

 

এ.এস.এম হামিদ হাসান
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মা, যার নিজেরই কোনো ঠিকানা নেই, তার গর্ভে জন্ম নিয়েছে এক নিস্পাপ শিশু। শিশুটির ভবিষ্যৎ যখন এক অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।

​অসহায় শিশুটিকে নিয়ে ভবঘুরে মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় এক মা নিরুপায় হয়ে রাস্তার পাশে দিনপাত করছে আর ঠিক তখনি মানবতার হাত বাড়িয়ে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ  ।

মা-সন্তান যখন অসহায়ের মতো রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে তখন সেই পিতৃ পরিচয়হীন নবজাতকের দায়িত্ব নিতে হাত বাড়ালেন সমাজের বেশ কয়েকজন নিঃসন্তান দম্পতি।

খবর পেয়ে ছুটে যান কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তিনি বাছাই করে এক নিঃসন্তান পরিবারকে নবজাতক অসহায় শিশুটিকে তুলে দেন তাদের হাতে। এসময় তিনি  শিশুটিকে পরম যত্নে বুকে জড়িয়ে  তুলে নেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলে অবাক হয়ে যায়।

উপস্থিত কেউ কেউ বলছেন  তিনি কেবল একটি শিশুর জীবন রক্ষা করেননি, বরং একটি পরিবারকে পূর্ণতা দিয়েছেন। আইনের বেড়াজালে না আটকে মানবিকতাকে সবার উপরে স্থান দেওয়া তার এই মহতী উদ্যোগ সত্যিই আমাদের  মুগ্ধ করেছে।

​স্যুট-টাই বা দামি পোশাকে আর দাপ্তরিক কাজের বাইরেও যে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের জন্য এমন দরদী হৃদয় রাখেন, এটি তারই প্রমাণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই  উদারতার প্রতি সর্বসাধারণ বিনম্র  শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। শিশুটি একটি সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক এটাই সকলে প্রার্থনা করছে।

​স্থানীয়রা বলেন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার গর্ভে জন্ম নেওয়া পরিচয়হীন শিশুটিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউএনও মহোদয় এক দম্পতির কাছে লালন-পালনের জন্য বুঝিয়ে দিয়েছেন সত্যি এটি একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। পাশাপাশি শিশুটির অন্ধকার জীবনে আলোর প্রদীপ জ্বেলে দেওয়ার এই মহান উদ্যোগের জন্য ইউএনও মহোদয়কে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

​তারা (ইউএনও) এর প্রশংসা করে আরো বলেন, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, আজ আবারও তা প্রমাণিত হলো।

​”মায়ের কোনো পরিচয় ছিল না, কিন্তু শিশুটির তো একটা সুন্দর পৃথিবীর অধিকার ছিল!”​সেই অধিকার নিশ্চিত করলেন আমাদের ইউএনও স্যার। সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এই অসাধারণ গল্প আমাদের অনেকদিন মনে থাকবে।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, সাম্প্রতিক উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে ভবঘুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর গর্ভে একটি জন্ম নেয়।  শিশুটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় অনেকে মানবিকদিক বিবেচনা করে ওই নবজাতক শিশুটির দ্বায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় মানুষদের সাথে পরামর্শ  গ্রহণ করে শিশুটির  তত্ত্বাবধানের জন্য  অভিভাবক হিসেবে  এক নিঃসন্তান  দম্পতিকে  মনোনীত করা হয়। পরে ওই শিশুটিকে সকালের সম্মুখে তাদের কাছে  হস্তান্তর করা হয়। শিশুটির সার্বিক  সুরক্ষা ও যত্ন  নিশ্চিতকরণে অংগীকারনামাতে স্বাক্ষর গ্রহণের মাধ্যমে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তিনি শুভকামনা জানান  সেই নবজাতক ও নবদম্পতির জন্য।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, দত্তক নেওয়া ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ  স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা 

Update Time : ০৪:৩৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

 

এ.এস.এম হামিদ হাসান
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মা, যার নিজেরই কোনো ঠিকানা নেই, তার গর্ভে জন্ম নিয়েছে এক নিস্পাপ শিশু। শিশুটির ভবিষ্যৎ যখন এক অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।

​অসহায় শিশুটিকে নিয়ে ভবঘুরে মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় এক মা নিরুপায় হয়ে রাস্তার পাশে দিনপাত করছে আর ঠিক তখনি মানবতার হাত বাড়িয়ে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ  ।

মা-সন্তান যখন অসহায়ের মতো রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে তখন সেই পিতৃ পরিচয়হীন নবজাতকের দায়িত্ব নিতে হাত বাড়ালেন সমাজের বেশ কয়েকজন নিঃসন্তান দম্পতি।

খবর পেয়ে ছুটে যান কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তিনি বাছাই করে এক নিঃসন্তান পরিবারকে নবজাতক অসহায় শিশুটিকে তুলে দেন তাদের হাতে। এসময় তিনি  শিশুটিকে পরম যত্নে বুকে জড়িয়ে  তুলে নেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলে অবাক হয়ে যায়।

উপস্থিত কেউ কেউ বলছেন  তিনি কেবল একটি শিশুর জীবন রক্ষা করেননি, বরং একটি পরিবারকে পূর্ণতা দিয়েছেন। আইনের বেড়াজালে না আটকে মানবিকতাকে সবার উপরে স্থান দেওয়া তার এই মহতী উদ্যোগ সত্যিই আমাদের  মুগ্ধ করেছে।

​স্যুট-টাই বা দামি পোশাকে আর দাপ্তরিক কাজের বাইরেও যে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের জন্য এমন দরদী হৃদয় রাখেন, এটি তারই প্রমাণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই  উদারতার প্রতি সর্বসাধারণ বিনম্র  শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। শিশুটি একটি সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক এটাই সকলে প্রার্থনা করছে।

​স্থানীয়রা বলেন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার গর্ভে জন্ম নেওয়া পরিচয়হীন শিশুটিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউএনও মহোদয় এক দম্পতির কাছে লালন-পালনের জন্য বুঝিয়ে দিয়েছেন সত্যি এটি একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। পাশাপাশি শিশুটির অন্ধকার জীবনে আলোর প্রদীপ জ্বেলে দেওয়ার এই মহান উদ্যোগের জন্য ইউএনও মহোদয়কে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

​তারা (ইউএনও) এর প্রশংসা করে আরো বলেন, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, আজ আবারও তা প্রমাণিত হলো।

​”মায়ের কোনো পরিচয় ছিল না, কিন্তু শিশুটির তো একটা সুন্দর পৃথিবীর অধিকার ছিল!”​সেই অধিকার নিশ্চিত করলেন আমাদের ইউএনও স্যার। সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এই অসাধারণ গল্প আমাদের অনেকদিন মনে থাকবে।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, সাম্প্রতিক উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে ভবঘুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর গর্ভে একটি জন্ম নেয়।  শিশুটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় অনেকে মানবিকদিক বিবেচনা করে ওই নবজাতক শিশুটির দ্বায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় মানুষদের সাথে পরামর্শ  গ্রহণ করে শিশুটির  তত্ত্বাবধানের জন্য  অভিভাবক হিসেবে  এক নিঃসন্তান  দম্পতিকে  মনোনীত করা হয়। পরে ওই শিশুটিকে সকালের সম্মুখে তাদের কাছে  হস্তান্তর করা হয়। শিশুটির সার্বিক  সুরক্ষা ও যত্ন  নিশ্চিতকরণে অংগীকারনামাতে স্বাক্ষর গ্রহণের মাধ্যমে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তিনি শুভকামনা জানান  সেই নবজাতক ও নবদম্পতির জন্য।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, দত্তক নেওয়া ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ  স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ।