০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা: জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন মেয়র শাহাদাত

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

টানা বৃষ্টির পর সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। এ পরিস্থিতির জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।

বুধবার সকালে নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ২৮ এপ্রিল(মঙ্গলবার) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাও পানিবন্দি হয়ে পড়ে, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মঙ্গলবার বিকেল ও রাত এবং বুধবার দুপুরে প্রবর্তক এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, “গতকালের ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। যদিও প্রকল্পের কাজ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড করছে, তারপরও নগরবাসীর কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই শহর সবার। শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে কাজ চলছে। তবে নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলে আবার শুধু কর্তৃপক্ষকে দোষ দিলে চলবে না।”

জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করে মেয়র জানান, খাল সংস্কার কাজের জন্য দেওয়া অস্থায়ী বাঁধগুলোর কারণে পানি নামতে পারেনি। বিশেষ করে হিজড়া খালের আশপাশে প্রায় ৩০টির মতো বাঁধ থাকায় পানি জমে যায়। পরে বাঁধ খুলে দেওয়ার পর পানি ধীরে ধীরে নেমে যায়।

তিনি বলেন, “বর্ষা মৌসুম সামনে। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসব কাজ করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় ভবন ভাঙতে গিয়ে আইনি জটিলতার কারণে সময় লেগেছে।”

মেয়র জানান, ইতোমধ্যে বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সব সেবাসংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একটানা কয়েক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিকে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এত ভারি বৃষ্টি বৈশাখে হবে তা আমরা কল্পনা করিনি। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “গতবার ৫০-৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। এবার তা ৭০-৮০ শতাংশে নামিয়ে আনা যাবে।”

মেয়র আরও জানান, নগরীর মেডিকেল, চকবাজার, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ ও মুরাদপুর এলাকায় বেশি পানি জমেছিল। দ্রুত পানি সরাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ২০১৬ সাল থেকে কাজ করছে বলে জানান তিনি। অধিকাংশ খালের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৯১ মিলিমিটার।

বর্ষা শুরুর আগেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে খাল সংস্কারের জন্য দেওয়া বাঁধ কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা: জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন মেয়র শাহাদাত

Update Time : ০৩:২৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

টানা বৃষ্টির পর সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। এ পরিস্থিতির জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।

বুধবার সকালে নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ২৮ এপ্রিল(মঙ্গলবার) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাও পানিবন্দি হয়ে পড়ে, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মঙ্গলবার বিকেল ও রাত এবং বুধবার দুপুরে প্রবর্তক এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, “গতকালের ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। যদিও প্রকল্পের কাজ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড করছে, তারপরও নগরবাসীর কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই শহর সবার। শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে কাজ চলছে। তবে নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলে আবার শুধু কর্তৃপক্ষকে দোষ দিলে চলবে না।”

জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করে মেয়র জানান, খাল সংস্কার কাজের জন্য দেওয়া অস্থায়ী বাঁধগুলোর কারণে পানি নামতে পারেনি। বিশেষ করে হিজড়া খালের আশপাশে প্রায় ৩০টির মতো বাঁধ থাকায় পানি জমে যায়। পরে বাঁধ খুলে দেওয়ার পর পানি ধীরে ধীরে নেমে যায়।

তিনি বলেন, “বর্ষা মৌসুম সামনে। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসব কাজ করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় ভবন ভাঙতে গিয়ে আইনি জটিলতার কারণে সময় লেগেছে।”

মেয়র জানান, ইতোমধ্যে বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সব সেবাসংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একটানা কয়েক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিকে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এত ভারি বৃষ্টি বৈশাখে হবে তা আমরা কল্পনা করিনি। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “গতবার ৫০-৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। এবার তা ৭০-৮০ শতাংশে নামিয়ে আনা যাবে।”

মেয়র আরও জানান, নগরীর মেডিকেল, চকবাজার, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ ও মুরাদপুর এলাকায় বেশি পানি জমেছিল। দ্রুত পানি সরাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ২০১৬ সাল থেকে কাজ করছে বলে জানান তিনি। অধিকাংশ খালের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৯১ মিলিমিটার।

বর্ষা শুরুর আগেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে খাল সংস্কারের জন্য দেওয়া বাঁধ কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।