০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে যুবদল নেতা রাসেলের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিবাদক,

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের যুবদল নেতা মোঃ রাসেলের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানব বন্ধন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শত শত নারী পুরুষের উপস্থিতে টেকনাফ বাজারের প্রধান সড়ক পদক্ষীন করে থানা সংলগ্ন প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। ওই সময় তারা রাসেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন।
এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন,সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মৌলভী আব্দুল গফুর, সাবরাং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আয়াছ উদ্দিন,যুগ্ম সম্পাদক আব্দুশুক্কুর,সাবরাং ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রশিদ মিয়া,সাবরাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জামাল হোসাইনসহ অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাসেলের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।তারা দাবি করেন, মোঃ রাসেল একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এবং সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পরবর্তীতে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছে।

মানববন্ধনে স্থানীয় মৌলভী আলম বলেন,মোঃ রাসেল একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মী এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত সচ্ছল ও সম্মানী ব্যক্তি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে নাটকীয়ভাবে অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে, যা এলাকাবাসী হিসেবে আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।

সাবরাং ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতি জামাল হোসাইন বলেন মোঃ রাসেল কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী নয়। তার ঘরে কোনো অস্ত্রের অস্তিত্ব ছিল না। আমরা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই-কার ইশারায় একজন নিরপরাধ মানুষকে এভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হলো? এই মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে সামাজিকভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।

সাবরাং ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রশিদ মিয়া বলেন, একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হওয়া কি অপরাধ? তাকে পরিকল্পিতভাবে ঘর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আমরা অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।

সাবরাং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আয়াছ উদ্দিন বলেন, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আমরা প্রশাসনের ওপরমহলের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি-একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিলে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই রাসেলকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,রাসেল কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নন। তাকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়। অবিলম্বে রাসেলের মুক্তি দেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন এলাকাবাসী।

এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও উদ্ধারকৃত আলামতের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি অনুযায়ী কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আইনি সুযোগ রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করলে এই ‘ফাঁসানোর’ ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

টেকনাফে যুবদল নেতা রাসেলের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

Update Time : ০২:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবাদক,

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের যুবদল নেতা মোঃ রাসেলের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানব বন্ধন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শত শত নারী পুরুষের উপস্থিতে টেকনাফ বাজারের প্রধান সড়ক পদক্ষীন করে থানা সংলগ্ন প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। ওই সময় তারা রাসেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন।
এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন,সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মৌলভী আব্দুল গফুর, সাবরাং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আয়াছ উদ্দিন,যুগ্ম সম্পাদক আব্দুশুক্কুর,সাবরাং ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রশিদ মিয়া,সাবরাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জামাল হোসাইনসহ অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাসেলের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।তারা দাবি করেন, মোঃ রাসেল একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এবং সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পরবর্তীতে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছে।

মানববন্ধনে স্থানীয় মৌলভী আলম বলেন,মোঃ রাসেল একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মী এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত সচ্ছল ও সম্মানী ব্যক্তি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে নাটকীয়ভাবে অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে, যা এলাকাবাসী হিসেবে আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।

সাবরাং ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতি জামাল হোসাইন বলেন মোঃ রাসেল কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী নয়। তার ঘরে কোনো অস্ত্রের অস্তিত্ব ছিল না। আমরা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই-কার ইশারায় একজন নিরপরাধ মানুষকে এভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হলো? এই মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে সামাজিকভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।

সাবরাং ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রশিদ মিয়া বলেন, একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হওয়া কি অপরাধ? তাকে পরিকল্পিতভাবে ঘর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আমরা অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।

সাবরাং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আয়াছ উদ্দিন বলেন, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আমরা প্রশাসনের ওপরমহলের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি-একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিলে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই রাসেলকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,রাসেল কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নন। তাকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়। অবিলম্বে রাসেলের মুক্তি দেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন এলাকাবাসী।

এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও উদ্ধারকৃত আলামতের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি অনুযায়ী কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আইনি সুযোগ রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করলে এই ‘ফাঁসানোর’ ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।