০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটুপানি, নগরজুড়ে চরম ভোগান্তি

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতার চিত্র ফুটে উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং পরে দুপুরে মুষলধারে বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা।
নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় মাত্র ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়। একইভাবে রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ ও মুরাদপুরসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবর্তক মোড়ের প্রধান সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় রিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচলে বিপর্যয় দেখা দেয়। অনেক যানবাহন বিকল হয়ে মাঝরাস্তায় আটকে পড়ে।
জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়া পথচারী আগ্রাবাদের সাদ্দাম বলেন, “পানিতে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার কারণে হেঁটে যাওয়া যাচ্ছে না। রিকশাওয়ালারাও ৩০ টাকার ভাড়া ৫০-৬০ টাকা নিচ্ছে।”
অন্যদিকে, একই এলাকার আরেক পথচারী বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই এখানে পানি জমে যায়। ড্রেনের ময়লা পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় বিভিন্ন নালায় অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব বাঁধ অপসারণ না করায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, “প্রবর্তক এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। এ কারণে সাময়িকভাবে পানি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।”
এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তবে দুপুরের পর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত পানি জমে যায়।

চারদিন ভারি বর্ষণের শঙ্কা, ভূমিধসের আশঙ্কাঃ

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি এবং এর বেশি অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এতে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটুপানি, নগরজুড়ে চরম ভোগান্তি

Update Time : ০২:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতার চিত্র ফুটে উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং পরে দুপুরে মুষলধারে বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা।
নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় মাত্র ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়। একইভাবে রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ ও মুরাদপুরসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবর্তক মোড়ের প্রধান সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় রিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচলে বিপর্যয় দেখা দেয়। অনেক যানবাহন বিকল হয়ে মাঝরাস্তায় আটকে পড়ে।
জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়া পথচারী আগ্রাবাদের সাদ্দাম বলেন, “পানিতে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার কারণে হেঁটে যাওয়া যাচ্ছে না। রিকশাওয়ালারাও ৩০ টাকার ভাড়া ৫০-৬০ টাকা নিচ্ছে।”
অন্যদিকে, একই এলাকার আরেক পথচারী বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই এখানে পানি জমে যায়। ড্রেনের ময়লা পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় বিভিন্ন নালায় অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব বাঁধ অপসারণ না করায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, “প্রবর্তক এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। এ কারণে সাময়িকভাবে পানি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।”
এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তবে দুপুরের পর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত পানি জমে যায়।

চারদিন ভারি বর্ষণের শঙ্কা, ভূমিধসের আশঙ্কাঃ

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি এবং এর বেশি অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এতে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।