০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার ভিত শক্তিশালী করতে নারী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই~ হেলাল

 

সাগর কুমার বাড়ই , তেরখাদা প্রতিনিধি //

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, একটি জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে শিক্ষা, আর সেই শিক্ষার ভিত শক্তিশালী করতে নারী শিক্ষার বিকল্প নেই।

একটি শিক্ষিত নারী শুধু একটি পরিবারকেই আলোকিত করে না, বরং একটি প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হয়। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নারীদের শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
সরকার নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উপবৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণসহ বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার সুফল ইতোমধ্যে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদেরকে যুগোপযোগী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। একইসঙ্গে তাদের মাঝে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। কারণ একজন দক্ষ ও সৎ নাগরিকই পারে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে।
নারী শিক্ষার প্রসারে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়।

সমাজের সচেতন নাগরিক, অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে। আমরা যদি সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, তেরখাদা এলাকায় নারী শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। এই অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে এবং আরও এগিয়ে নিতে আমাদের ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
চিত্রা মহিলা কলেজ নারী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষিত নারী সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে নারীদেরকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষিত নারী মানেই একটি শক্তিশালী সমাজ এবং একটি উন্নত দেশ। তাই আমাদের সবাইকে নারী শিক্ষার প্রসারে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

সংবর্ধনার জবাবে তিনি বলেন, এই সম্মাননা আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি এই এলাকার মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। আমি সবসময় এই ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে কাজ করে যাবো এবং এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত রাখবো।

তিনি ২৫ এপ্রিল ( শনিবার ) দুপুরে খুলনার তেরখাদা উপজেলার চিত্রা মহিলা কলেজ কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন তেরোখাদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ তাহমিনা সুলতানা নীলা।

চিত্রা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এস এম মিজানুর রহমান ও সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার বাছাড়ের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ আনিছুর রহমান, জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু সাইদ, বিএনপি নেতা এফ এম হাবিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল হোসেন সরদার, আব্দুল মান্নান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ বিশ্বাস, সহ-অধ্যাপক মোঃ মাহবুবুর রহমান, ক্রীড়া শিক্ষক জেড এম শামীম আহমেদ প্রমূখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

শিক্ষার ভিত শক্তিশালী করতে নারী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই~ হেলাল

Update Time : ১২:০২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 

সাগর কুমার বাড়ই , তেরখাদা প্রতিনিধি //

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, একটি জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে শিক্ষা, আর সেই শিক্ষার ভিত শক্তিশালী করতে নারী শিক্ষার বিকল্প নেই।

একটি শিক্ষিত নারী শুধু একটি পরিবারকেই আলোকিত করে না, বরং একটি প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হয়। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নারীদের শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
সরকার নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উপবৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণসহ বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার সুফল ইতোমধ্যে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদেরকে যুগোপযোগী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। একইসঙ্গে তাদের মাঝে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। কারণ একজন দক্ষ ও সৎ নাগরিকই পারে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে।
নারী শিক্ষার প্রসারে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়।

সমাজের সচেতন নাগরিক, অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে। আমরা যদি সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, তেরখাদা এলাকায় নারী শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। এই অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে এবং আরও এগিয়ে নিতে আমাদের ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
চিত্রা মহিলা কলেজ নারী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষিত নারী সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে নারীদেরকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষিত নারী মানেই একটি শক্তিশালী সমাজ এবং একটি উন্নত দেশ। তাই আমাদের সবাইকে নারী শিক্ষার প্রসারে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

সংবর্ধনার জবাবে তিনি বলেন, এই সম্মাননা আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি এই এলাকার মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। আমি সবসময় এই ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে কাজ করে যাবো এবং এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত রাখবো।

তিনি ২৫ এপ্রিল ( শনিবার ) দুপুরে খুলনার তেরখাদা উপজেলার চিত্রা মহিলা কলেজ কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন তেরোখাদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ তাহমিনা সুলতানা নীলা।

চিত্রা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এস এম মিজানুর রহমান ও সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার বাছাড়ের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ আনিছুর রহমান, জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু সাইদ, বিএনপি নেতা এফ এম হাবিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল হোসেন সরদার, আব্দুল মান্নান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ বিশ্বাস, সহ-অধ্যাপক মোঃ মাহবুবুর রহমান, ক্রীড়া শিক্ষক জেড এম শামীম আহমেদ প্রমূখ।