০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষকের পাকা ধান লুটে নেওয়ার অভিযোগ


মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

​চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের প্রায় দুই বিঘা জমির পাকা ধান জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামের আইড়মারি বিলমাঠ এলাকায় এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দহুদা গ্রামের মৃত মওলা বক্সের ছেলে মাসুম বিল্লাহ ওরফে মন্টুর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত বরকত আলি মন্ডলের ছেলে ও জজ কোর্টের সাবেক পেশকার নুরুল হকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা-পাল্টা মামলা চলছে।

​শনিবার ভোরে নুরুল হক ও তার সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আইড়মারি বিলমাঠ এলাকায় মন্টুর চাষ করা জমিতে হানা দেয়। ভুক্তভোগী মন্টু জানান, নুরুল হক গংরা তার ভোগদখলীয় প্রায় দুই বিঘা জমির পাকা ধান প্রকাশ্যে কেটে নিয়ে যায়।

​মাসুম বিল্লাহ মন্টু আক্ষেপ করে বলেন:
​”আমি ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া এই জমিতে গত দুই বছর ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে চাষাবাদ করছি। সকালে খবর পাই তারা অস্ত্র নিয়ে আমার ধান কাটছে। কিন্তু তাদের হাতে আগে আমার পরিবারের সদস্য খুন হওয়ার কারণে প্রাণের ভয়ে আমি মাঠে যাওয়ার সাহস পাইনি। তারা এর আগেও আমার জমি থেকে ভুট্টা ও গম লুট করে নিয়ে গেছে।”

​মন্টু আরও জানান, ধান কাটার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য চান। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ধান নিয়ে সটকে পড়ে।

​স্থানীয়রা জানান, এই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত সাত মাস আগে বড় ধরনের একটি সংঘর্ষ ঘটেছিল। উক্ত ঘটনায় নুরুল হক গংদের হামলায় মন্টুর চাচাতো ভাই জয়নুর (৫০) নিহত হন। এছাড়া সেই হামলায় খাজা আহমেদ (৫৫) ও জাহির (৪৫) নামে আরও দুইজন গুরুতর জখম হন, যারা বর্তমানে পঙ্গু অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।

আগের সেই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ফসল লুটের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল হকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
​দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ জানান:
​এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
​লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
​শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

​গোবিন্দহুদা গ্রামের সাধারণ মানুষের মতে, প্রভাবশালী এই চক্রটির বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। বারবার ফসল লুট এবং খুনের মতো ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে তারা দ্রুত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

​শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ভুক্তভোগী মন্টু থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

দামুড়হুদায় পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষকের পাকা ধান লুটে নেওয়ার অভিযোগ

Update Time : ১১:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

​চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের প্রায় দুই বিঘা জমির পাকা ধান জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামের আইড়মারি বিলমাঠ এলাকায় এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দহুদা গ্রামের মৃত মওলা বক্সের ছেলে মাসুম বিল্লাহ ওরফে মন্টুর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত বরকত আলি মন্ডলের ছেলে ও জজ কোর্টের সাবেক পেশকার নুরুল হকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা-পাল্টা মামলা চলছে।

​শনিবার ভোরে নুরুল হক ও তার সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আইড়মারি বিলমাঠ এলাকায় মন্টুর চাষ করা জমিতে হানা দেয়। ভুক্তভোগী মন্টু জানান, নুরুল হক গংরা তার ভোগদখলীয় প্রায় দুই বিঘা জমির পাকা ধান প্রকাশ্যে কেটে নিয়ে যায়।

​মাসুম বিল্লাহ মন্টু আক্ষেপ করে বলেন:
​”আমি ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া এই জমিতে গত দুই বছর ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে চাষাবাদ করছি। সকালে খবর পাই তারা অস্ত্র নিয়ে আমার ধান কাটছে। কিন্তু তাদের হাতে আগে আমার পরিবারের সদস্য খুন হওয়ার কারণে প্রাণের ভয়ে আমি মাঠে যাওয়ার সাহস পাইনি। তারা এর আগেও আমার জমি থেকে ভুট্টা ও গম লুট করে নিয়ে গেছে।”

​মন্টু আরও জানান, ধান কাটার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য চান। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ধান নিয়ে সটকে পড়ে।

​স্থানীয়রা জানান, এই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত সাত মাস আগে বড় ধরনের একটি সংঘর্ষ ঘটেছিল। উক্ত ঘটনায় নুরুল হক গংদের হামলায় মন্টুর চাচাতো ভাই জয়নুর (৫০) নিহত হন। এছাড়া সেই হামলায় খাজা আহমেদ (৫৫) ও জাহির (৪৫) নামে আরও দুইজন গুরুতর জখম হন, যারা বর্তমানে পঙ্গু অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।

আগের সেই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ফসল লুটের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল হকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
​দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ জানান:
​এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
​লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
​শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

​গোবিন্দহুদা গ্রামের সাধারণ মানুষের মতে, প্রভাবশালী এই চক্রটির বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। বারবার ফসল লুট এবং খুনের মতো ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে তারা দ্রুত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

​শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ভুক্তভোগী মন্টু থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।