০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বই হোক জীবন গঠনের হাতিয়ার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,

২৩ শেষ এপ্রিল বিশ্ব ‘বই পড়া’ দিবসকে সামনে রেখে ‘বইপড়া’কর্মসূচি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সাথে যৌথভাবে সরকার স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ছাত্রদের মধ্যে পাঠ অভ্যাস তৈরি করতে এক দুর্দান্ত কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।

সামনে হয়ত, চুড়ান্ত কর্ম পরিকল্পনার মধ্যদিয়ে এ কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।আমি একজন শিক্ষক ও নবীন লেখক হিসেবে সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব,
Tarique Rahman মহোদয়ের উদ্দেশ্যে দুটো-পরামর্শ যুক্ত করতে চাই!

এক.বই পড়া ‘বাধ্যতামূলক’ তাই পড়তে হবে এ বিষয়টি গৌণ রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি ‘রসবোধ’সম্পন্ন সাহিত্য নির্ভর বই প্রণয়ন করতে হবে,যাতে শিক্ষার্থীরা আনন্দচিত্তে বই পড়ে এবং সেখান থেকে জ্ঞান আহরণ করে তা ব্যাক্তি, পারিবারিক,ও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করতে পারে।

দুই.ছাত্র-ছাত্রীদের বই পড়ার ক্ষেত্রে গার্ডিয়ানদের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। কারণ অর্থ লগ্নি গার্ডিয়ান থেকেই আসে।সেক্ষেত্রে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সাহিত্যনির্ভর বই ও পাঠ্য করতে হবে। যাতে বই পড়ার ব্যাপারে অভিভাবকবৃন্দ উৎসাহ বোধ করেন, যার ফলে বই কিনতে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়তি পেরেসানীতে পড়তে না‌ হয়।এ ব্যাপারে গার্ডিয়ানদের মধ্যে‌ সচেতনতা তৈরিতে সরকার কে কাজ করতে হবে। তাঁদের কে বুঝাতে হবে,বাচ্চাদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি তথ্যনির্ভর বই কীভাবে ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে এখনো অনেক অভিভাবক আছেন,তারা বাচ্চাদের একাডেমিক বইয়ের বাইরে অন্য কোনো বই পড়তে দেন না। এক্সট্রা এক্টিভিটিজ থেকেও দূরে রাখেন।এ ব্যাপারে বাড়তি ফি ও সরকারী সিলেকশনের উদ্যোগে নিতে হবে। যেমন ধরুন ,সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হলোঃ১টি গল্প গুচ্ছ, ২টি উপন্যাস বা প্রবন্ধের বই ২টি আত্ম-উন্নয়নমূলক বা সাইন্টিফিক বই ইত্যাদি।

এ দু’টো বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবোধ জাগ্রত করে দিতে পারলে সাহিত্য নির্ভর লেখার মানসম্পন্ন লেখক যেমন তৈরী হবে তেমন পাঠক বই পড়তে আগ্রহী হবে।

তাই,এ বিষয়গুলো সামনে রেখে ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা গ্ৰহন করলে সত্যিকার অর্থে দেশের মানুষ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘বইপড়া’র হাইলি উদ্যোগটি কার্যকর হবে বলে মনে করি।
(লেখকঃ প্রধান শিক্ষক মনোহরদী শাহীন ক্যাডেট স্কুল)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

বই হোক জীবন গঠনের হাতিয়ার

Update Time : ০১:৪৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,

২৩ শেষ এপ্রিল বিশ্ব ‘বই পড়া’ দিবসকে সামনে রেখে ‘বইপড়া’কর্মসূচি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সাথে যৌথভাবে সরকার স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ছাত্রদের মধ্যে পাঠ অভ্যাস তৈরি করতে এক দুর্দান্ত কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।

সামনে হয়ত, চুড়ান্ত কর্ম পরিকল্পনার মধ্যদিয়ে এ কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।আমি একজন শিক্ষক ও নবীন লেখক হিসেবে সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব,
Tarique Rahman মহোদয়ের উদ্দেশ্যে দুটো-পরামর্শ যুক্ত করতে চাই!

এক.বই পড়া ‘বাধ্যতামূলক’ তাই পড়তে হবে এ বিষয়টি গৌণ রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি ‘রসবোধ’সম্পন্ন সাহিত্য নির্ভর বই প্রণয়ন করতে হবে,যাতে শিক্ষার্থীরা আনন্দচিত্তে বই পড়ে এবং সেখান থেকে জ্ঞান আহরণ করে তা ব্যাক্তি, পারিবারিক,ও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করতে পারে।

দুই.ছাত্র-ছাত্রীদের বই পড়ার ক্ষেত্রে গার্ডিয়ানদের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। কারণ অর্থ লগ্নি গার্ডিয়ান থেকেই আসে।সেক্ষেত্রে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সাহিত্যনির্ভর বই ও পাঠ্য করতে হবে। যাতে বই পড়ার ব্যাপারে অভিভাবকবৃন্দ উৎসাহ বোধ করেন, যার ফলে বই কিনতে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়তি পেরেসানীতে পড়তে না‌ হয়।এ ব্যাপারে গার্ডিয়ানদের মধ্যে‌ সচেতনতা তৈরিতে সরকার কে কাজ করতে হবে। তাঁদের কে বুঝাতে হবে,বাচ্চাদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি তথ্যনির্ভর বই কীভাবে ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে এখনো অনেক অভিভাবক আছেন,তারা বাচ্চাদের একাডেমিক বইয়ের বাইরে অন্য কোনো বই পড়তে দেন না। এক্সট্রা এক্টিভিটিজ থেকেও দূরে রাখেন।এ ব্যাপারে বাড়তি ফি ও সরকারী সিলেকশনের উদ্যোগে নিতে হবে। যেমন ধরুন ,সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হলোঃ১টি গল্প গুচ্ছ, ২টি উপন্যাস বা প্রবন্ধের বই ২টি আত্ম-উন্নয়নমূলক বা সাইন্টিফিক বই ইত্যাদি।

এ দু’টো বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবোধ জাগ্রত করে দিতে পারলে সাহিত্য নির্ভর লেখার মানসম্পন্ন লেখক যেমন তৈরী হবে তেমন পাঠক বই পড়তে আগ্রহী হবে।

তাই,এ বিষয়গুলো সামনে রেখে ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা গ্ৰহন করলে সত্যিকার অর্থে দেশের মানুষ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘বইপড়া’র হাইলি উদ্যোগটি কার্যকর হবে বলে মনে করি।
(লেখকঃ প্রধান শিক্ষক মনোহরদী শাহীন ক্যাডেট স্কুল)