০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম ওয়াসার কাজ করতে গিয়ে তিন শ্রমিকের মৃত্যু

কামরুল ০১৮৮৩০৮৮০৮৪

নগরীর আগ্রাবাদ বি–ফোর এক্সেস রোড এলাকায় চট্টগ্রাম ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের খননকাজ করতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো দুই শ্রমিক। গতকাল ভোর সাড়ে চারটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (৩০) ও মো. আইনুল ইসলাম (২২)। আহত দুজন হলেন সাগর ও এরশাদ। এ ঘটনায় পরবর্তীতে গতকাল সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছয়জন শ্রমিককে আটক করে পাঁচলাইশ থানায় নিয়ে যায়।
জানা গেছে, দুর্ঘটনায় মাটিচাপা পড়া চার শ্রমিককে উদ্ধার করে চমেক হাসতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া বাকি দুই শ্রমিককে ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ও চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম গনমাধ্যমকে বলেন, ‘পাইপ বসানোর আগে মাটির অবস্থা যাচাই করতে ‘ট্রায়াল পিট’ করা হয়। একদিন আগে আমাদের ওয়াসার টিম এবং ঠিকাদারের প্রকৌলশীসহ শ্রমিকদের কাজ করার সময় আগে নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এই ধরনের কাজ করা আগে আমরা শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে বিবেচনায় নিয়ে তারপর কাজ শুরু করি। এজন্য কাজ শুরুর আগে আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীসহ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কিন্তু গতকাল রাতে (গত বুধবার রাতে) আমাদেরকে না জানিয়ে ঠিকাদারী চায়না হাইড্রোর প্রকৌশলীরা শ্রমিকদেরকে দিয়ে মাটির খনন কাজ শুরু করলে হঠাৎ মাটি চাপা পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হয়তো তারা মনে করেছে–এরকম কিছু হবে না। গত কয়েক বছর ধরে নগরীতে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের পাইপ লাইনের কাজ চলছে। কখনো এরকম ঘটনা ঘটেনি। কারণ আমরা শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করি।
এ ঘটনায় ওয়াসার পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, যারা মারা গেছেন তারা দিনমজুর। আমরা তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছি। এই গরীব শ্রমিকদের পরিবার যাতে চলতে পারে এজন্য আমরা নিহত ও আহতদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।
পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শ্রমিকদের সাথে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এখানে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো ঘটনা ঘটেনি। ধাক্কাধাক্কির কারণে জরুরি বিভাগের সামনের কাঁচ ভেঙে যায়। সেটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন পরে মেরামত করে দেয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ছয় শ্রমিককে আটক করে নিয়ে আসি। পরে আজ (গতকাল) রাত ৯টার দিকে আটক শ্রমিকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন বলেন, ওয়াসার প্রকল্পে দুর্ঘটনার পর আহতদের নিয়ে শ্রমিকরা হাসপাতালে আসে। এসময় তাদের সঙ্গে ওই প্রকল্পের ঠিকাদারের লোকজনের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের কাঁচ ভেঙে যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চট্টগ্রাম ওয়াসার কাজ করতে গিয়ে তিন শ্রমিকের মৃত্যু

Update Time : ০১:২৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

কামরুল ০১৮৮৩০৮৮০৮৪

নগরীর আগ্রাবাদ বি–ফোর এক্সেস রোড এলাকায় চট্টগ্রাম ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের খননকাজ করতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো দুই শ্রমিক। গতকাল ভোর সাড়ে চারটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (৩০) ও মো. আইনুল ইসলাম (২২)। আহত দুজন হলেন সাগর ও এরশাদ। এ ঘটনায় পরবর্তীতে গতকাল সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছয়জন শ্রমিককে আটক করে পাঁচলাইশ থানায় নিয়ে যায়।
জানা গেছে, দুর্ঘটনায় মাটিচাপা পড়া চার শ্রমিককে উদ্ধার করে চমেক হাসতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া বাকি দুই শ্রমিককে ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ও চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম গনমাধ্যমকে বলেন, ‘পাইপ বসানোর আগে মাটির অবস্থা যাচাই করতে ‘ট্রায়াল পিট’ করা হয়। একদিন আগে আমাদের ওয়াসার টিম এবং ঠিকাদারের প্রকৌলশীসহ শ্রমিকদের কাজ করার সময় আগে নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এই ধরনের কাজ করা আগে আমরা শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে বিবেচনায় নিয়ে তারপর কাজ শুরু করি। এজন্য কাজ শুরুর আগে আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীসহ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কিন্তু গতকাল রাতে (গত বুধবার রাতে) আমাদেরকে না জানিয়ে ঠিকাদারী চায়না হাইড্রোর প্রকৌশলীরা শ্রমিকদেরকে দিয়ে মাটির খনন কাজ শুরু করলে হঠাৎ মাটি চাপা পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হয়তো তারা মনে করেছে–এরকম কিছু হবে না। গত কয়েক বছর ধরে নগরীতে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের পাইপ লাইনের কাজ চলছে। কখনো এরকম ঘটনা ঘটেনি। কারণ আমরা শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করি।
এ ঘটনায় ওয়াসার পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, যারা মারা গেছেন তারা দিনমজুর। আমরা তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছি। এই গরীব শ্রমিকদের পরিবার যাতে চলতে পারে এজন্য আমরা নিহত ও আহতদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।
পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শ্রমিকদের সাথে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এখানে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো ঘটনা ঘটেনি। ধাক্কাধাক্কির কারণে জরুরি বিভাগের সামনের কাঁচ ভেঙে যায়। সেটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন পরে মেরামত করে দেয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ছয় শ্রমিককে আটক করে নিয়ে আসি। পরে আজ (গতকাল) রাত ৯টার দিকে আটক শ্রমিকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন বলেন, ওয়াসার প্রকল্পে দুর্ঘটনার পর আহতদের নিয়ে শ্রমিকরা হাসপাতালে আসে। এসময় তাদের সঙ্গে ওই প্রকল্পের ঠিকাদারের লোকজনের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের কাঁচ ভেঙে যায়।