০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিটি কলেজ ছাত্র সংঘর্ষে পুলিশের নিস্ক্রিয়তার বিচার দাবিতে চট্টগ্রামে ডাকসু ভিপি

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তাদের বিচার দাবি করেছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম।

২১ এপ্রিল(বুধবার) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার পক্ষ থেকে দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘটিত হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

সাদিক কায়েম বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অথচ ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, “পুলিশের সামনেই হামলা হয়েছে, কিন্তু তারা নীরব ছিল—এটি গুরুতর দায়িত্বহীনতা।”

তিনি আরও বলেন, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে,- হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, ভবিষ্যতে সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি।

এর আগে ২০ এপ্রিল(মঙ্গলবার) বিকালে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। শিবিরের দাবি, তাদের ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ক্যাম্পাসে আঁকা একটি গ্রাফিতি ঘিরে। ‘ছাত্র-রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ওই গ্রাফিতির অংশবিশেষ পরিবর্তন করা হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ চাই। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও পেশীশক্তির রাজনীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এখন বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখতে চান বলেও জানান তিনি।

এদিকে, আহতদের দেখতে আজ ২১ এপ্রিল(বুধবার) সকালে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান সাদিক কায়েম। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সিটি কলেজ ছাত্র সংঘর্ষে পুলিশের নিস্ক্রিয়তার বিচার দাবিতে চট্টগ্রামে ডাকসু ভিপি

Update Time : ০২:১৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তাদের বিচার দাবি করেছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম।

২১ এপ্রিল(বুধবার) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার পক্ষ থেকে দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘটিত হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

সাদিক কায়েম বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অথচ ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, “পুলিশের সামনেই হামলা হয়েছে, কিন্তু তারা নীরব ছিল—এটি গুরুতর দায়িত্বহীনতা।”

তিনি আরও বলেন, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে,- হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, ভবিষ্যতে সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি।

এর আগে ২০ এপ্রিল(মঙ্গলবার) বিকালে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। শিবিরের দাবি, তাদের ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ক্যাম্পাসে আঁকা একটি গ্রাফিতি ঘিরে। ‘ছাত্র-রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ওই গ্রাফিতির অংশবিশেষ পরিবর্তন করা হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ চাই। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও পেশীশক্তির রাজনীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এখন বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখতে চান বলেও জানান তিনি।

এদিকে, আহতদের দেখতে আজ ২১ এপ্রিল(বুধবার) সকালে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান সাদিক কায়েম। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।