০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় আধুনিক পানি পরীক্ষা ল্যাব উদ্বোধন: নিরাপদ পানির নিশ্চয়তায় জনস্বাস্থ্যে নতুন দিগন্ত

 

বি.সরকার। পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।

খুলনার পাইকগাছায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক পানির গুণমান পরীক্ষা ল্যাব (Water Testing Lab)। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণে পাইকগাছা পৌর পানি সরবরাহ শাখা কার্যালয়ে স্থাপিত এই ল্যাবটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
সম্প্রতি পৌর পানি সরবরাহ শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ল্যাবটির শুভ উদ্বোধন করেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। এ ল্যাবটি উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটারএইড (WaterAid) ও নবলোকের সহযোগিতায় স্থাপন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লালু সরদার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ লিংকন আলী, প্রধান সহকারী শেখ জিয়াউর রহমান, বিল ক্লার্ক মোঃ শাহিন হোসেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ওয়াটারএইড ও নবলোকের প্রতিনিধিরা।
এখন থেকে পাইকগাছার সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে এই ল্যাব থেকে পানির গুণগত মান পরীক্ষা করাতে পারবেন। ল্যাবটিতে মূলত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করা হবে! আর্সেনিক, আয়রন, লবণাক্ততা, পিএইচ (pH) এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া।
জনস্বার্থ বিবেচনায় পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, পৌর এলাকার সকল পানি বিক্রয়কারী প্ল্যান্টকে নিয়মিতভাবে এই ল্যাব থেকে পানির গুণগত মান পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার রিপোর্টের কপি গ্রাহকদের দেখার সুবিধার্থে প্রতিটি প্ল্যান্টে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
এছাড়াও সাধারণ নাগরিকরা তাদের বাসাবাড়ির টিউবওয়েলের পানিও এই ল্যাবে পরীক্ষা করাতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, “জনস্বাস্থ্য রক্ষা আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই ল্যাবটি উপকূলীয় জনগণের জন্য একটি স্থায়ী সম্পদ হিসেবে কাজ করবে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে পানির মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হবে, যা পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
উপকূলীয় এই জনপদে নিরাপদ পানির সংকট নিরসন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

পাইকগাছায় আধুনিক পানি পরীক্ষা ল্যাব উদ্বোধন: নিরাপদ পানির নিশ্চয়তায় জনস্বাস্থ্যে নতুন দিগন্ত

Update Time : ০৪:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

 

বি.সরকার। পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।

খুলনার পাইকগাছায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক পানির গুণমান পরীক্ষা ল্যাব (Water Testing Lab)। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণে পাইকগাছা পৌর পানি সরবরাহ শাখা কার্যালয়ে স্থাপিত এই ল্যাবটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
সম্প্রতি পৌর পানি সরবরাহ শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ল্যাবটির শুভ উদ্বোধন করেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। এ ল্যাবটি উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটারএইড (WaterAid) ও নবলোকের সহযোগিতায় স্থাপন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লালু সরদার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ লিংকন আলী, প্রধান সহকারী শেখ জিয়াউর রহমান, বিল ক্লার্ক মোঃ শাহিন হোসেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ওয়াটারএইড ও নবলোকের প্রতিনিধিরা।
এখন থেকে পাইকগাছার সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে এই ল্যাব থেকে পানির গুণগত মান পরীক্ষা করাতে পারবেন। ল্যাবটিতে মূলত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করা হবে! আর্সেনিক, আয়রন, লবণাক্ততা, পিএইচ (pH) এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া।
জনস্বার্থ বিবেচনায় পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, পৌর এলাকার সকল পানি বিক্রয়কারী প্ল্যান্টকে নিয়মিতভাবে এই ল্যাব থেকে পানির গুণগত মান পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার রিপোর্টের কপি গ্রাহকদের দেখার সুবিধার্থে প্রতিটি প্ল্যান্টে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
এছাড়াও সাধারণ নাগরিকরা তাদের বাসাবাড়ির টিউবওয়েলের পানিও এই ল্যাবে পরীক্ষা করাতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, “জনস্বাস্থ্য রক্ষা আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই ল্যাবটি উপকূলীয় জনগণের জন্য একটি স্থায়ী সম্পদ হিসেবে কাজ করবে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে পানির মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হবে, যা পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
উপকূলীয় এই জনপদে নিরাপদ পানির সংকট নিরসন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।