০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিয়াকৈরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারনে এস এস সি পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তি এগুলো দেখার কেউ নেই

 

 

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সদ্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া জীবনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক, খামারি ও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘন্টায় ঘন্টায় ৭-৮ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে গরমে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। সামনে ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।চাপাইর এলাকার পরীক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার জানায়, “রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে পড়তে পারি না। মোমবাতির আলোয় চোখে সমস্যা হয়, গরমে ফ্যান না চলায় লেখাপড়ায় মনোযোগও থাকে না।

অভিভাবক রাসেল হোসেন বলেন,সবাই তো চার্জার লাইট বা আইপিএস কিনতে পারে না। গ্রামের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরাই নিম্নবিত্ত ফ্যামিলির থাকায় তাদের লেখাপড়া বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমত সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে জমিতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা জানান, “সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালাতে পারছি না, আবার ডিজেলের সংকটে বিকল্প ব্যবস্থাও চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

খামারিরাও বিপাকে পড়েছেন। পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খামারে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া আবাসিক ভবনগুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং রান্নাবান্নাতেও সমস্যা হচ্ছে, ফলে কর্মজীবী মানুষ সময়মতো অফিসে যেতে পারছেন না।কালিয়াকৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন,পরীক্ষার আগে এই সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ সংকট তাদের প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কালিয়াকৈর জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা প্রকৌশলী মোঃ সাহারুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে এসএসসি পরীক্ষার সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা থাকবে এবং রাতের লোডশেডিং কমাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.এইচ.এম. ফখরুল হুসাইন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে রাতে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্রে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাখা হবে।চলতি বছরে কালিয়াকৈর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১২টি কেন্দ্রে মোট ৭ হাজার ৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

কালিয়াকৈরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারনে এস এস সি পরীক্ষার্থী চরম ভোগান্তি এগুলো দেখার কেউ নেই

Update Time : ০৫:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

 

 

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সদ্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া জীবনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক, খামারি ও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘন্টায় ঘন্টায় ৭-৮ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে গরমে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। সামনে ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।চাপাইর এলাকার পরীক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার জানায়, “রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে পড়তে পারি না। মোমবাতির আলোয় চোখে সমস্যা হয়, গরমে ফ্যান না চলায় লেখাপড়ায় মনোযোগও থাকে না।

অভিভাবক রাসেল হোসেন বলেন,সবাই তো চার্জার লাইট বা আইপিএস কিনতে পারে না। গ্রামের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরাই নিম্নবিত্ত ফ্যামিলির থাকায় তাদের লেখাপড়া বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমত সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে জমিতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা জানান, “সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালাতে পারছি না, আবার ডিজেলের সংকটে বিকল্প ব্যবস্থাও চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

খামারিরাও বিপাকে পড়েছেন। পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খামারে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া আবাসিক ভবনগুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং রান্নাবান্নাতেও সমস্যা হচ্ছে, ফলে কর্মজীবী মানুষ সময়মতো অফিসে যেতে পারছেন না।কালিয়াকৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন,পরীক্ষার আগে এই সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ সংকট তাদের প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কালিয়াকৈর জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা প্রকৌশলী মোঃ সাহারুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে এসএসসি পরীক্ষার সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা থাকবে এবং রাতের লোডশেডিং কমাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.এইচ.এম. ফখরুল হুসাইন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে রাতে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্রে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাখা হবে।চলতি বছরে কালিয়াকৈর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১২টি কেন্দ্রে মোট ৭ হাজার ৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।