০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অঙ্গীকার: চুয়াডাঙ্গায় কনস্টেবল নিয়োগের প্রথম দিন সম্পন্ন

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
​বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ইং

​’সেবার ব্রতে চাকরি’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এবং একটি স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গড়ার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় শুরু হয়েছে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষা।

আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ০৮:০০ ঘটিকা থেকে জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রথম দিনের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়।

​নিয়োগের প্রথম দিনে প্রার্থীদের শারীরিক মাপ (উচ্চতা, ওজন, বুকের মাপ) এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রকার অনিয়ম রুখতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হয়। শত শত চাকরিপ্রত্যাশীর ভিড় থাকলেও পুলিশের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রমটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল।

​উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ
​নিয়োগ বোর্ড ও বাছাই কার্যক্রম তদারকি করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন:
​মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান: পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা (নিয়োগ বোর্ড সভাপতি)।
​মোঃ ইব্রাহিম খলিল: এআইজি (ডেভেলপমেন্ট), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। বি,এম, শাহরিয়ার আব্দুল্লাহ বিন ফরিদ: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পিএম-৩), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।
​নিয়োগ বোর্ডের সদস্যগণ: মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আতিকুল হক এবং ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ মোসফেকুর রহমান।

​এছাড়াও প্রার্থীদের স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার সহায়তায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের ডাঃ মোঃ সাজিদ হাসান এবং বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফাতিমা হক।

​পরীক্ষা চলাকালীন পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান প্রার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে শতভাগ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত। শুধুমাত্র শারীরিক যোগ্যতা এবং মেধার ভিত্তিতেই প্রার্থীরা নিয়োগ পাবেন।”

​তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “চাকরি পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোনো প্রতারক বা দালাল চক্র যেন প্রার্থীদের বা তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। কারো যোগ্যতায় কেউ ভাগ বসাতে পারবে না।”

​নিয়োগ বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, যারা প্রথম দিনের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন, তারা আগামী ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ Physical Endurance Test (PET) বা শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।

​শারীরিক মাপ ও কাগজপত্রের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার তরুণদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়ার এই সুযোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অঙ্গীকার: চুয়াডাঙ্গায় কনস্টেবল নিয়োগের প্রথম দিন সম্পন্ন

Update Time : ১২:৩৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
​বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ইং

​’সেবার ব্রতে চাকরি’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এবং একটি স্মার্ট পুলিশ বাহিনী গড়ার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় শুরু হয়েছে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষা।

আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ০৮:০০ ঘটিকা থেকে জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রথম দিনের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়।

​নিয়োগের প্রথম দিনে প্রার্থীদের শারীরিক মাপ (উচ্চতা, ওজন, বুকের মাপ) এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রকার অনিয়ম রুখতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হয়। শত শত চাকরিপ্রত্যাশীর ভিড় থাকলেও পুলিশের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রমটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল।

​উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ
​নিয়োগ বোর্ড ও বাছাই কার্যক্রম তদারকি করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন:
​মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান: পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা (নিয়োগ বোর্ড সভাপতি)।
​মোঃ ইব্রাহিম খলিল: এআইজি (ডেভেলপমেন্ট), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। বি,এম, শাহরিয়ার আব্দুল্লাহ বিন ফরিদ: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পিএম-৩), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।
​নিয়োগ বোর্ডের সদস্যগণ: মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আতিকুল হক এবং ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ মোসফেকুর রহমান।

​এছাড়াও প্রার্থীদের স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার সহায়তায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের ডাঃ মোঃ সাজিদ হাসান এবং বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফাতিমা হক।

​পরীক্ষা চলাকালীন পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান প্রার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে শতভাগ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত। শুধুমাত্র শারীরিক যোগ্যতা এবং মেধার ভিত্তিতেই প্রার্থীরা নিয়োগ পাবেন।”

​তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “চাকরি পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোনো প্রতারক বা দালাল চক্র যেন প্রার্থীদের বা তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। কারো যোগ্যতায় কেউ ভাগ বসাতে পারবে না।”

​নিয়োগ বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, যারা প্রথম দিনের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন, তারা আগামী ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ Physical Endurance Test (PET) বা শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।

​শারীরিক মাপ ও কাগজপত্রের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার তরুণদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়ার এই সুযোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।