০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েই সন্ধ্যা ৭টার পর ইবিতে চলছে পূর্ণ আলোকসজ্জায় মেলা

 

ইবি প্রতিনিধি:
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সারাদেশে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের জন্য সরকার সন্ধ্যা ৭টার পর মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিলবোর্ডের আলোকসজ্জার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু এ নির্দেশের কোনো তোয়াক্কা না করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলছে বৈশাখী মেলা। তবে, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন হেলদোল নেই।

জানা যায়, তিনদিন ব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠন স্বপ্নবিতান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিকাল ৫টা পর্যন্ত মেলার অনুমতি দিলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ( রাত সাড়ে ৮টা) এ মেলা চলমান রয়েছে। এদিকে, সন্ধ্যা ৭টার পর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সরেজমিনে এ মেলায় পূর্ণ আলোকসজ্জা লক্ষ করা গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এক ফেইসবুক পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক ফেরদৌস ইমন বলেন,
ঢাকা শহরে দেখলাম সন্ধ্যা ৬ টার পরপরই মোটামোটি সব জায়গায় শাটার লাগানোর শব্দ পাওয়া যায়। গত সপ্তাহে দোকানিরা এটা নিয়ে আলোচনা করেও সময় বাড়াতে পারে নি, কমবেশি কুষ্টিয়াতেও সেইম, সরকার স্ট্রিক্ট! এদিকে আমার ক্যম্পাসে ভাইবসিটির সাইনবোর্ডের আলো, চারপাশের আলো, এদিক অইদিকে বিভিন্ন আয়োজনের আলোকসজ্জা দেখে মনে হইতেসে ইবি এক অদ্ভুত ভূখন্ড এই দেশের।

তিনি আরও লেখেন, আমি বুঝি না আসলেই জ্বালানি সংকট নাকি দাম বাড়ানোর ফন্দি। সরকার কি আসলেই জ্বালানির জন্য দোকান-পাট, আলোকসজ্জা, অনলাইন ক্লাস এসব করছে? দায় কি শুধু দোকানি আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরই? মেইনগেট থেকে জিয়ামোড় অব্দি আসতে আসতে যা আলো দেখলাম তা দেখেই মাথায় ঢুকলো। ভাইবসিটি তুমি শেখসিটির শক্তি !

এ ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমরা তাদেরকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রোগ্রাম করার অনুমতি দিয়েছি। তারা যদি এরপরও প্রোগ্রাম কন্টিনিউ করে তাহলে সেটা অনুমতিবিহীন করছে। এ ব্যাপারে জেনে আমরা শীঘ্রই পদক্ষেপ নেব।

এ ব্যাপারে সংগঠনটির সভাপতি সায়েম আহমেদ বলেন, প্রক্টর স্যার আসলেই সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তবে এখন যদি স্যার আমাদেরকে মেলা বন্ধ করতে বলে , তাহলে আমরা বন্ধ করে দেব।

উল্লেখ্য, সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ৬ এপ্রিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাণিজ্য মেলা এবং বিলবোর্ডের আলোকসজ্জা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি)নির্দেশ দেয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সরকারের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েই সন্ধ্যা ৭টার পর ইবিতে চলছে পূর্ণ আলোকসজ্জায় মেলা

Update Time : ০৪:০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 

ইবি প্রতিনিধি:
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সারাদেশে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের জন্য সরকার সন্ধ্যা ৭টার পর মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিলবোর্ডের আলোকসজ্জার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু এ নির্দেশের কোনো তোয়াক্কা না করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলছে বৈশাখী মেলা। তবে, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন হেলদোল নেই।

জানা যায়, তিনদিন ব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠন স্বপ্নবিতান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিকাল ৫টা পর্যন্ত মেলার অনুমতি দিলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ( রাত সাড়ে ৮টা) এ মেলা চলমান রয়েছে। এদিকে, সন্ধ্যা ৭টার পর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সরেজমিনে এ মেলায় পূর্ণ আলোকসজ্জা লক্ষ করা গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এক ফেইসবুক পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক ফেরদৌস ইমন বলেন,
ঢাকা শহরে দেখলাম সন্ধ্যা ৬ টার পরপরই মোটামোটি সব জায়গায় শাটার লাগানোর শব্দ পাওয়া যায়। গত সপ্তাহে দোকানিরা এটা নিয়ে আলোচনা করেও সময় বাড়াতে পারে নি, কমবেশি কুষ্টিয়াতেও সেইম, সরকার স্ট্রিক্ট! এদিকে আমার ক্যম্পাসে ভাইবসিটির সাইনবোর্ডের আলো, চারপাশের আলো, এদিক অইদিকে বিভিন্ন আয়োজনের আলোকসজ্জা দেখে মনে হইতেসে ইবি এক অদ্ভুত ভূখন্ড এই দেশের।

তিনি আরও লেখেন, আমি বুঝি না আসলেই জ্বালানি সংকট নাকি দাম বাড়ানোর ফন্দি। সরকার কি আসলেই জ্বালানির জন্য দোকান-পাট, আলোকসজ্জা, অনলাইন ক্লাস এসব করছে? দায় কি শুধু দোকানি আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরই? মেইনগেট থেকে জিয়ামোড় অব্দি আসতে আসতে যা আলো দেখলাম তা দেখেই মাথায় ঢুকলো। ভাইবসিটি তুমি শেখসিটির শক্তি !

এ ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমরা তাদেরকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রোগ্রাম করার অনুমতি দিয়েছি। তারা যদি এরপরও প্রোগ্রাম কন্টিনিউ করে তাহলে সেটা অনুমতিবিহীন করছে। এ ব্যাপারে জেনে আমরা শীঘ্রই পদক্ষেপ নেব।

এ ব্যাপারে সংগঠনটির সভাপতি সায়েম আহমেদ বলেন, প্রক্টর স্যার আসলেই সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তবে এখন যদি স্যার আমাদেরকে মেলা বন্ধ করতে বলে , তাহলে আমরা বন্ধ করে দেব।

উল্লেখ্য, সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ৬ এপ্রিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাণিজ্য মেলা এবং বিলবোর্ডের আলোকসজ্জা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি)নির্দেশ দেয়।