০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির নাম ব্যবহার করে পটিয়া কাঁচাবাজার দখলের চেষ্টা

 

কামরুল ০১৮৮৩০৮৮০৮৪

বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে  রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন চক্রশালা রেলওয়ে ষ্টেশন  কাঁচাবাজার দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পটিয়া  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারহানুর রহমান। এ সময় তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং দখলকারীদের বাজার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের চক্রশালা এলাকায় রেলওয়ে স্টেশনের সন্নিকটে অবস্থিত একটি কাঁচাবাজার পহেলা বৈশাখের দিন ভোরে দখল করে নেওয়া হয়। এ সময় সংঘবদ্ধ একটি দল বাজারটি ঘেরাও করে ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজনকে সরিয়ে দেয় এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন বলে অভিযোগ করেন ইজারাদার মোহাম্মদ রফিক। ইজারাদার মোহাম্মদ  রফিক  দাবী করেন,দখলের পর থেকে ওই দলটি বাজারের টোল ও আড়তের কমিশন আদায় করছে। এতে প্রকৃত ইজারাদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি এ বিষয়ে পটিয়া  উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে   লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রেলওয়ে কাঁচাবাজারের ইজারাদার রফিক আহমদ বলেন, ‘আমি নিয়ম অনুযায়ী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জায়গাটি ইজারা নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর বাজার পরিচালনা করে আসছি। হঠাৎ করে একটি সংঘবদ্ধ দল এসে আমাদের লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে বাজার দখল করে নেয়। এরপর থেকে তারা অবৈধভাবে টোল ও কমিশন আদায় করছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ইউএনও ফারহানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেন।তিনি এসময় যারা দখল করে আছে, তাদের বাজার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নির্দেশনার পরও বাজারটি এখনো দখলমুক্ত হয়নি এবং টোল আদায় অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে ওই স্থানে একটি সকালের কাঁচাবাজার গড়ে তোলা হয়। প্রতিদিন ভোরে আশপাশের কৃষকেরা সেখানে শাকসবজি বিক্রি করে থাকেন।
এদিকে, একই এলাকায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘কমলমুন্সিরহাট’ নামের একটি সাপ্তাহিক হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে, যা সপ্তাহে দুই দিন রবিবার ও বৃহস্পতিবার বসে। এ হাটটি প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, ওই হাটকে কেন্দ্র করেই কাঁচাবাজার দখলের ঘটনা ঘটতে পারে।
কমলমুন্সিরহাটের ইজারাদার জিয়াউল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ,তিনি জানান,’আমরা কারও জায়গায় গিয়ে টোল কিংবা হাসিল নিচ্ছি না। আমরা আমাদের নির্ধারিত জায়গায় টোল আদায় করছি। আমরা কাউকে জুলুম করছি না। উপজেলা প্রশাসনের বাজার ইজারা সংক্রান্ত নোটিশে রেলওয়ের জায়গা ব্যতীত অন্যান্য স্থানের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। এরপরও রেলওয়ের নিয়ন্ত্রিত বাজার দখলের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়ে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রফিক পটিয়ার
এমপি আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম সহ রেলওয়ে উর্ধতন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

বিএনপির নাম ব্যবহার করে পটিয়া কাঁচাবাজার দখলের চেষ্টা

Update Time : ০২:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

 

কামরুল ০১৮৮৩০৮৮০৮৪

বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে  রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন চক্রশালা রেলওয়ে ষ্টেশন  কাঁচাবাজার দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পটিয়া  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারহানুর রহমান। এ সময় তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং দখলকারীদের বাজার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের চক্রশালা এলাকায় রেলওয়ে স্টেশনের সন্নিকটে অবস্থিত একটি কাঁচাবাজার পহেলা বৈশাখের দিন ভোরে দখল করে নেওয়া হয়। এ সময় সংঘবদ্ধ একটি দল বাজারটি ঘেরাও করে ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজনকে সরিয়ে দেয় এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন বলে অভিযোগ করেন ইজারাদার মোহাম্মদ রফিক। ইজারাদার মোহাম্মদ  রফিক  দাবী করেন,দখলের পর থেকে ওই দলটি বাজারের টোল ও আড়তের কমিশন আদায় করছে। এতে প্রকৃত ইজারাদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি এ বিষয়ে পটিয়া  উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে   লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রেলওয়ে কাঁচাবাজারের ইজারাদার রফিক আহমদ বলেন, ‘আমি নিয়ম অনুযায়ী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জায়গাটি ইজারা নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর বাজার পরিচালনা করে আসছি। হঠাৎ করে একটি সংঘবদ্ধ দল এসে আমাদের লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে বাজার দখল করে নেয়। এরপর থেকে তারা অবৈধভাবে টোল ও কমিশন আদায় করছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ইউএনও ফারহানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেন।তিনি এসময় যারা দখল করে আছে, তাদের বাজার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নির্দেশনার পরও বাজারটি এখনো দখলমুক্ত হয়নি এবং টোল আদায় অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে ওই স্থানে একটি সকালের কাঁচাবাজার গড়ে তোলা হয়। প্রতিদিন ভোরে আশপাশের কৃষকেরা সেখানে শাকসবজি বিক্রি করে থাকেন।
এদিকে, একই এলাকায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘কমলমুন্সিরহাট’ নামের একটি সাপ্তাহিক হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে, যা সপ্তাহে দুই দিন রবিবার ও বৃহস্পতিবার বসে। এ হাটটি প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, ওই হাটকে কেন্দ্র করেই কাঁচাবাজার দখলের ঘটনা ঘটতে পারে।
কমলমুন্সিরহাটের ইজারাদার জিয়াউল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ,তিনি জানান,’আমরা কারও জায়গায় গিয়ে টোল কিংবা হাসিল নিচ্ছি না। আমরা আমাদের নির্ধারিত জায়গায় টোল আদায় করছি। আমরা কাউকে জুলুম করছি না। উপজেলা প্রশাসনের বাজার ইজারা সংক্রান্ত নোটিশে রেলওয়ের জায়গা ব্যতীত অন্যান্য স্থানের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। এরপরও রেলওয়ের নিয়ন্ত্রিত বাজার দখলের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়ে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রফিক পটিয়ার
এমপি আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম সহ রেলওয়ে উর্ধতন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।