০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাইকোর্টের আদেশে ৫ মাস সময় পেলেন যাদুকাটা নদীর দুই ইজারাদার

 

এম আর সজিব সুনামগঞ্জ:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুইটি বালু মহালের ইজারাদার বছরের প্রথম ৫ মাস দখল না পাওয়ায় উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট) আদেশে ৫ মাস সময় পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুইটি বালু মহাল নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকার কারণে ১৪৩২ বাংলার ১২ মাসের ইজারা পেলেও দীর্ঘ ৫ মাস পর দখল পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পৃথক রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ৫ মাস নদীর ভোগ-দখল দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা।
রিট আবেদন করার পর গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারক ফাতেমা নজির ও এ এফ এম সাইফুল করিম পৃথক আদেশ দেন।
বালু মহালের ইজারাদাররা জানান, ১৪৩২ বাংলার এক বছরের জন্য জাদুকাটা নদীর বালুমহাল ইজারা পেয়েছিলেন তাহিয়া স্টোন ক্রাশার এর প্রো. মো. নাছির মিয়া ও মেসার্স জিনান এন্টারপ্রাইজ এর প্রো. শাহ রুবেল আহমদ। কিন্তু দুইটি বালু মহাল নিয়ে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ছত্রিশ গ্রামের জনৈক খোরশেদ আলম হাইকোর্টে মামলা করার কারণে ইজারা পাওয়ার ৫ মাস পর দখল পান দুই ইজারাদার। তাই ৫ মাসের লোকসানের কারণ দেখিয়ে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করেছিলেন তারা। আদালত রিটের আদেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দুই ইজারাদারকে ৫ মাস সময় দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এরপর আদালতের রিট আদেশের কপি ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেন তারা।
ইজারাদার মো. নাছির মিয়া ও শাহ্ রুবেল আহমদ বলেন, ১৪৩২ বাংলার এক বছরে জন্য আমরা সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে যাদুকাটা নদীর বালু মহাল ইজারা বন্দোবস্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু জনৈক খোরশেদ আলমের মামলার কারণে আমরা দীর্ঘ ৫ মাস পর মহালের দখল পাই। যার কারণে আমরা প্রথম ৫ মাস কোন প্রকার টোল আদায় করতে পারিনি এবং অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হই। বিষয়টি নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে আদালত ১৪৩৩ বাংলার ৫ মাস সময় দেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রিট আদেশের কপি আমরা সকল কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছি এবং বালু মহালের দখলে আছি।
এই বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এর কথা বলতে চাইলে সরকারি দুইটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
তবে উচ্চ আদালতের রিট আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো: শাহরুখ আলম শান্তনু।
তিনি বলেন, যাদুকাটা বালু মহালের ইজারাদারের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, নতুন করে ইজারা প্রদান কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে এবং বিদ্যমান ইজারার মেয়াদ আরও পাঁচ মাস বাড়ানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

হাইকোর্টের আদেশে ৫ মাস সময় পেলেন যাদুকাটা নদীর দুই ইজারাদার

Update Time : ০৩:১৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

 

এম আর সজিব সুনামগঞ্জ:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুইটি বালু মহালের ইজারাদার বছরের প্রথম ৫ মাস দখল না পাওয়ায় উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট) আদেশে ৫ মাস সময় পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুইটি বালু মহাল নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকার কারণে ১৪৩২ বাংলার ১২ মাসের ইজারা পেলেও দীর্ঘ ৫ মাস পর দখল পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পৃথক রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ৫ মাস নদীর ভোগ-দখল দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা।
রিট আবেদন করার পর গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারক ফাতেমা নজির ও এ এফ এম সাইফুল করিম পৃথক আদেশ দেন।
বালু মহালের ইজারাদাররা জানান, ১৪৩২ বাংলার এক বছরের জন্য জাদুকাটা নদীর বালুমহাল ইজারা পেয়েছিলেন তাহিয়া স্টোন ক্রাশার এর প্রো. মো. নাছির মিয়া ও মেসার্স জিনান এন্টারপ্রাইজ এর প্রো. শাহ রুবেল আহমদ। কিন্তু দুইটি বালু মহাল নিয়ে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ছত্রিশ গ্রামের জনৈক খোরশেদ আলম হাইকোর্টে মামলা করার কারণে ইজারা পাওয়ার ৫ মাস পর দখল পান দুই ইজারাদার। তাই ৫ মাসের লোকসানের কারণ দেখিয়ে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করেছিলেন তারা। আদালত রিটের আদেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দুই ইজারাদারকে ৫ মাস সময় দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এরপর আদালতের রিট আদেশের কপি ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেন তারা।
ইজারাদার মো. নাছির মিয়া ও শাহ্ রুবেল আহমদ বলেন, ১৪৩২ বাংলার এক বছরে জন্য আমরা সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে যাদুকাটা নদীর বালু মহাল ইজারা বন্দোবস্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু জনৈক খোরশেদ আলমের মামলার কারণে আমরা দীর্ঘ ৫ মাস পর মহালের দখল পাই। যার কারণে আমরা প্রথম ৫ মাস কোন প্রকার টোল আদায় করতে পারিনি এবং অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হই। বিষয়টি নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে আদালত ১৪৩৩ বাংলার ৫ মাস সময় দেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রিট আদেশের কপি আমরা সকল কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছি এবং বালু মহালের দখলে আছি।
এই বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এর কথা বলতে চাইলে সরকারি দুইটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
তবে উচ্চ আদালতের রিট আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো: শাহরুখ আলম শান্তনু।
তিনি বলেন, যাদুকাটা বালু মহালের ইজারাদারের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, নতুন করে ইজারা প্রদান কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে এবং বিদ্যমান ইজারার মেয়াদ আরও পাঁচ মাস বাড়ানো হয়েছে।