০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে রঙে-রূপে বর্ণিল আয়োজনে নববর্ষে আনন্দ শোভাযাত্রায় মিলনমেলা

 

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি :
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করতে শেরপুর জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ, প্রাণের উচ্ছ্বাস আর বর্ণিল আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয় আনন্দ শোভাযাত্রা, যা মুহূর্তেই শহরজুড়ে ছড়িয়ে দেয় বৈশাখের আনন্দধারা।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ঘুড়ি, ময়ূর, পাখি, বাঘের প্রতিকৃতি, বর্ণিল ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী মুখোশ। সঙ্গে ছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা গরুর গাড়ি ও পালকি—যা নববর্ষের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয়।

এরপর ডিসি উদ্যানে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার আয়োজন। মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান। মেলায় স্থান পেয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, হস্তশিল্প, লোকসংস্কৃতি এবং নানা ধরনের বিনোদনমূলক আয়োজন, যা দর্শনার্থীদের জন্য হয়ে উঠেছে বিশেষ আকর্ষণ।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা, পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হক, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শুধু জেলা শহরেই নয়, শেরপুরের বিভিন্ন উপজেলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগেও দিনব্যাপী পহেলা বৈশাখের নানা অনুষ্ঠানমালা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি জেলার শতাধিক গ্রামে হাট-বাজার ও স্কুল মাঠে বসেছে লোকজ ও গ্রামীণ বৈশাখী মেলা—যা গ্রামীণ জীবনে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে।

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে শেরপুরবাসীর এই সম্মিলিত আয়োজন যেন বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

শেরপুরে রঙে-রূপে বর্ণিল আয়োজনে নববর্ষে আনন্দ শোভাযাত্রায় মিলনমেলা

Update Time : ০১:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

 

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি :
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করতে শেরপুর জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ, প্রাণের উচ্ছ্বাস আর বর্ণিল আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয় আনন্দ শোভাযাত্রা, যা মুহূর্তেই শহরজুড়ে ছড়িয়ে দেয় বৈশাখের আনন্দধারা।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ঘুড়ি, ময়ূর, পাখি, বাঘের প্রতিকৃতি, বর্ণিল ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী মুখোশ। সঙ্গে ছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা গরুর গাড়ি ও পালকি—যা নববর্ষের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয়।

এরপর ডিসি উদ্যানে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার আয়োজন। মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান। মেলায় স্থান পেয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, হস্তশিল্প, লোকসংস্কৃতি এবং নানা ধরনের বিনোদনমূলক আয়োজন, যা দর্শনার্থীদের জন্য হয়ে উঠেছে বিশেষ আকর্ষণ।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা, পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হক, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শুধু জেলা শহরেই নয়, শেরপুরের বিভিন্ন উপজেলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগেও দিনব্যাপী পহেলা বৈশাখের নানা অনুষ্ঠানমালা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি জেলার শতাধিক গ্রামে হাট-বাজার ও স্কুল মাঠে বসেছে লোকজ ও গ্রামীণ বৈশাখী মেলা—যা গ্রামীণ জীবনে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে।

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে শেরপুরবাসীর এই সম্মিলিত আয়োজন যেন বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।