১১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বাবা, তারেক রহমানের সঙ্গে একবারও দেখা করালেন না কেন?’ — ৯ বছরের সিহাবের স্বপ্ন এখন ভাইরাল

মোঃআনজার শাহ
জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে সবে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছিলেন আবদুল জলিল। তন্দ্রার আবেশ সবে চোখে নামছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দৌড়ে এলো তার ৯ বছরের ছেলে ফরহাদ হোসেন সিহাব। একটু অভিযোগের সুরেই বললো, “বাবা, আপনি তো শুধু আমাকে সুমন সাহেবের সঙ্গে দেখা করান, একবারও তো তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করালেন না!”
ছেলের এই অপ্রত্যাশিত অভিযোগে কিছুটা থমকে গেলেন বাবা। বেশ খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞেস করলেন, “তারেক রহমানের সঙ্গে তোমার কী কাজ?” নির্দ্বিধায় উত্তর দিলো সিহাব — “তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করবো।”
ছেলের এই সরল অথচ সাহসী স্বপ্নের কথা মনে মনে বললেন বাবা জলিল — “বাবা, তুমি আমার চেয়ে বড় আশা নিয়ে ঘুরো।”
ফেসবুকে ভাইরাল হলো ছোট্ট সিহাবের স্বপ্নের গল্প
শুক্রবার বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে গৃহায়নমন্ত্রীর সঙ্গে ছেলের সাক্ষাতের ছবিসহ পুরো ঘটনাটি ফেসবুকে পোস্ট করেন আবদুল জলিল। মুহূর্তের মধ্যে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। শত শত মানুষ মন্তব্য করেন, শেয়ার করেন এবং ছোট্ট সিহাবের স্বপ্নকে উৎসাহিত করেন।
গাজী দেলোয়ার হোসেন মন্তব্যে লেখেন, “মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়, সেও তার স্বপ্নের চেয়ে বড় হবে।”
শাহ আলম নামের আরেকজন লেখেন, “কাকা, সেই তো অনেক ভালো প্রস্তাব দিছে। আল্লাহ চাইলে কোনো এক দিন দেখা হবে।”
কে এই সিহাব, কে তার বাবা?
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা আবদুল জলিল কুমিল্লা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি এবং বরুড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান আহ্বায়ক। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। স্থানীয় এমপি ও গৃহায়ন এবং গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের (সুমন) ঘনিষ্ঠ একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত।
তার ছেলে ফরহাদ হোসেন সিহাব স্থানীয় ডাবুরিয়া এম এ দাখিল মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। বয়স মাত্র ৯ বছর। বাবার হাত ধরে একাধিকবার মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতাই হয়তো জন্ম দিয়েছে আরও বড় স্বপ্নের।
বাবা বললেন, ‘ছেলের স্বপ্ন বড়, আমি আবেগাপ্লুত’
আবদুল জলিল বলেন, “আসলে দুর্দিনে, দুঃসময়ে এই সংগঠনটা করে আসছি। আমার নেতা জাকারিয়া তাহের সুমন ভাইয়ের সঙ্গে নানান কর্মসূচিতে থাকি, সাক্ষাৎ হয়। সেই সুবাদে ছেলেকেও নিয়ে গেছি। কিন্তু এখন সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চাইছে — এটা তো বড় স্বপ্ন।”
তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে এটা পূরণ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি নিজেই প্রোটোকলে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাই না, ছেলেকে কীভাবে করাবো? তবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে নেতাদের বিষয়ে এই আবেগ ও আগ্রহ তৈরি হওয়াটা ইতিবাচক। আমি নিজেও এটা ভেবে আবেগাপ্লুত হয়েছি।”
রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম হয়েছে। অনেকে বলছেন, এত ছোট বয়সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের স্বপ্ন দেখাটা নিছক শিশুসুলভ কৌতূহল নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের রাজনীতিচেতনার একটি ইতিবাচক প্রকাশ। কর্মীরা আশাবাদী, একদিন বাবার পথ ধরে রাজনীতিতে বাবাকেও ছাড়িয়ে যাবে ছোট্ট সিহাব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

‘বাবা, তারেক রহমানের সঙ্গে একবারও দেখা করালেন না কেন?’ — ৯ বছরের সিহাবের স্বপ্ন এখন ভাইরাল

Update Time : ০৩:১৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মোঃআনজার শাহ
জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে সবে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছিলেন আবদুল জলিল। তন্দ্রার আবেশ সবে চোখে নামছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দৌড়ে এলো তার ৯ বছরের ছেলে ফরহাদ হোসেন সিহাব। একটু অভিযোগের সুরেই বললো, “বাবা, আপনি তো শুধু আমাকে সুমন সাহেবের সঙ্গে দেখা করান, একবারও তো তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করালেন না!”
ছেলের এই অপ্রত্যাশিত অভিযোগে কিছুটা থমকে গেলেন বাবা। বেশ খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞেস করলেন, “তারেক রহমানের সঙ্গে তোমার কী কাজ?” নির্দ্বিধায় উত্তর দিলো সিহাব — “তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করবো।”
ছেলের এই সরল অথচ সাহসী স্বপ্নের কথা মনে মনে বললেন বাবা জলিল — “বাবা, তুমি আমার চেয়ে বড় আশা নিয়ে ঘুরো।”
ফেসবুকে ভাইরাল হলো ছোট্ট সিহাবের স্বপ্নের গল্প
শুক্রবার বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে গৃহায়নমন্ত্রীর সঙ্গে ছেলের সাক্ষাতের ছবিসহ পুরো ঘটনাটি ফেসবুকে পোস্ট করেন আবদুল জলিল। মুহূর্তের মধ্যে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। শত শত মানুষ মন্তব্য করেন, শেয়ার করেন এবং ছোট্ট সিহাবের স্বপ্নকে উৎসাহিত করেন।
গাজী দেলোয়ার হোসেন মন্তব্যে লেখেন, “মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়, সেও তার স্বপ্নের চেয়ে বড় হবে।”
শাহ আলম নামের আরেকজন লেখেন, “কাকা, সেই তো অনেক ভালো প্রস্তাব দিছে। আল্লাহ চাইলে কোনো এক দিন দেখা হবে।”
কে এই সিহাব, কে তার বাবা?
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা আবদুল জলিল কুমিল্লা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি এবং বরুড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান আহ্বায়ক। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। স্থানীয় এমপি ও গৃহায়ন এবং গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের (সুমন) ঘনিষ্ঠ একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত।
তার ছেলে ফরহাদ হোসেন সিহাব স্থানীয় ডাবুরিয়া এম এ দাখিল মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। বয়স মাত্র ৯ বছর। বাবার হাত ধরে একাধিকবার মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতাই হয়তো জন্ম দিয়েছে আরও বড় স্বপ্নের।
বাবা বললেন, ‘ছেলের স্বপ্ন বড়, আমি আবেগাপ্লুত’
আবদুল জলিল বলেন, “আসলে দুর্দিনে, দুঃসময়ে এই সংগঠনটা করে আসছি। আমার নেতা জাকারিয়া তাহের সুমন ভাইয়ের সঙ্গে নানান কর্মসূচিতে থাকি, সাক্ষাৎ হয়। সেই সুবাদে ছেলেকেও নিয়ে গেছি। কিন্তু এখন সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চাইছে — এটা তো বড় স্বপ্ন।”
তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে এটা পূরণ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি নিজেই প্রোটোকলে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাই না, ছেলেকে কীভাবে করাবো? তবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে নেতাদের বিষয়ে এই আবেগ ও আগ্রহ তৈরি হওয়াটা ইতিবাচক। আমি নিজেও এটা ভেবে আবেগাপ্লুত হয়েছি।”
রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম হয়েছে। অনেকে বলছেন, এত ছোট বয়সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের স্বপ্ন দেখাটা নিছক শিশুসুলভ কৌতূহল নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের রাজনীতিচেতনার একটি ইতিবাচক প্রকাশ। কর্মীরা আশাবাদী, একদিন বাবার পথ ধরে রাজনীতিতে বাবাকেও ছাড়িয়ে যাবে ছোট্ট সিহাব।