০৮:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিকে সেচ প্রকল্প চুয়াডাঙ্গার কৃষি ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত,তাই খাল খননের বিকল্প নাই- পানিসম্পদ মন্ত্রী

মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃজিকে সেচ প্রকল্প চুয়াডাঙ্গার কৃষি ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত,তাই খাল খননের বিকল্প নাই,তাই শুধু শহর নয়, গ্রাম থেকেও এ ধরনের উন্নয়ন করতে চাই।একথা বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী
ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শনিবার দুপুর ২টায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী মোড়ে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন,নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী ১৪ এপ্রিল কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হবে। তিনি সবার জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, জিকে সেচ প্রকল্প চুয়াডাঙ্গার কৃষি ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ জেলার তাপমাত্রা ও পরিবেশের ওপরও প্রভাব রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় সারা দেশে সেচ ব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে অনেক খাল লিজ দেওয়া ও দখল করা হয়েছে। এসব দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মন্ত্রী বলেন, দেশ ও কৃষককে রক্ষার জন্য খাল খনন ও পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচিকে তিনি একটি ‘বিপ্লব’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেই অসমাপ্ত কাজ বর্তমান নেতৃত্বে সম্পন্ন হবে। এছাড়া কৃষকদের সহায়তায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।পরিবেশ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বন উজাড়ের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। খালের পাশে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি মাছ চাষ ও হাঁস পালন করে স্থানীয় কৃষকদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তিনি জানান, খাল খননে শুধু ড্রেজার নয়, নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “খাল খনন ও জলাশয় পুনরুদ্ধারে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না-এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে খালের তলদেশের গড় প্রশস্ততা ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১.৫০ মিটার করে খনন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৫ হাজার ২০০ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

উল্লেখ্য, আশির দশকে সর্বশেষ খনন করা হয়েছিল খালটি। দীর্ঘদিন অবহেলা, পলি জমা ও দখলের কারণে এটি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। এতে এলাকার শত শত কৃষক সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন করে খাল পুনঃখনন উদ্যোগে স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন,জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ।
মাহমুদ হাসান রনি চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ০১৯১২৯৯৫১০৩
১১/৪/২৬

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

জিকে সেচ প্রকল্প চুয়াডাঙ্গার কৃষি ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত,তাই খাল খননের বিকল্প নাই- পানিসম্পদ মন্ত্রী

Update Time : ০৩:০০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃজিকে সেচ প্রকল্প চুয়াডাঙ্গার কৃষি ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত,তাই খাল খননের বিকল্প নাই,তাই শুধু শহর নয়, গ্রাম থেকেও এ ধরনের উন্নয়ন করতে চাই।একথা বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী
ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শনিবার দুপুর ২টায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী মোড়ে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন,নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী ১৪ এপ্রিল কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হবে। তিনি সবার জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, জিকে সেচ প্রকল্প চুয়াডাঙ্গার কৃষি ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ জেলার তাপমাত্রা ও পরিবেশের ওপরও প্রভাব রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় সারা দেশে সেচ ব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে অনেক খাল লিজ দেওয়া ও দখল করা হয়েছে। এসব দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মন্ত্রী বলেন, দেশ ও কৃষককে রক্ষার জন্য খাল খনন ও পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচিকে তিনি একটি ‘বিপ্লব’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেই অসমাপ্ত কাজ বর্তমান নেতৃত্বে সম্পন্ন হবে। এছাড়া কৃষকদের সহায়তায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।পরিবেশ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বন উজাড়ের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। খালের পাশে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি মাছ চাষ ও হাঁস পালন করে স্থানীয় কৃষকদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তিনি জানান, খাল খননে শুধু ড্রেজার নয়, নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “খাল খনন ও জলাশয় পুনরুদ্ধারে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না-এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে খালের তলদেশের গড় প্রশস্ততা ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১.৫০ মিটার করে খনন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৫ হাজার ২০০ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

উল্লেখ্য, আশির দশকে সর্বশেষ খনন করা হয়েছিল খালটি। দীর্ঘদিন অবহেলা, পলি জমা ও দখলের কারণে এটি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। এতে এলাকার শত শত কৃষক সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন করে খাল পুনঃখনন উদ্যোগে স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন,জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ।
মাহমুদ হাসান রনি চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ০১৯১২৯৯৫১০৩
১১/৪/২৬