১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডোর–টু–ডোর বর্জ্য সংগ্রহে তৃতীয় পক্ষকে টাকা না দেওয়ার নির্দেশ চসিক মেয়রের

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম নগরীর বাসাবাড়ি থেকে ডোর–টু–ডোর বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি ভেন্ডরদের কার্যক্রম গত মার্চ মাস থেকে মেয়রের নির্দেশে বন্ধ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ফলে এপ্রিল মাস থেকে নগরবাসীকে বাসার ময়লা সংগ্রহের জন্য কোনো ভেন্ডর বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দিতে হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল ৯ এপ্রিল(বৃহস্পতিবার) চসিক সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশক্রমে গত মার্চ মাস থেকে নগরের বাসাবাড়িতে ডোর–টু–ডোর বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি ভেন্ডরদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে চসিকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা সরাসরি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যক্তি এখনো নিজেদের ভেন্ডর পরিচয় দিয়ে বাসাবাড়ি থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এ বিষয়ে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে চসিক কর্তৃপক্ষ।
যদি কেউ জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা (মোবাইল: ০১৮১১-৮০৩৬৬৬) অথবা মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ)-এর (মোবাইল: ০১৮৯৪-৮৮৩০২০, ০১৮১৯-৯৫৮৮৬০, ০১৭৪৩-৯০১৪৮০০) সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চসিক নগরবাসীকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ, স্মার্ট সিটি’ গড়তে যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এদিকে ময়লা অপসারণের বিষয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন নাগরিকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ‘মেয়রের ঘোষণা শুনে সবাই খুশি হয়েছিলাম। ময়লা নিতে আসা লোকজন এই এপ্রিল মাসেও টাকা দাবি করলে মেয়রের ঘোষণার কথা তাদের জানাই। উত্তরে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান টাকা না দিলে ময়লা ডাস্টবিনে ফেলে আসতে হবে। অথবা চসিকের লোকজনকে এসে ময়লা নিয়ে যেতে বলেন। পরে বাধ্য হয়েই পূর্বের মত প্রতি ফ্ল্যাট থেকে ৭০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।’ তারা আরো বলেন, মেয়র মহোদয় চট্টগ্রাম নগরীর অভিভাবক। তার কথাই যদি বাস্তবায়ন না হয় আমরা কার কাছে যাব?’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ডোর–টু–ডোর বর্জ্য সংগ্রহে তৃতীয় পক্ষকে টাকা না দেওয়ার নির্দেশ চসিক মেয়রের

Update Time : ০২:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম নগরীর বাসাবাড়ি থেকে ডোর–টু–ডোর বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি ভেন্ডরদের কার্যক্রম গত মার্চ মাস থেকে মেয়রের নির্দেশে বন্ধ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ফলে এপ্রিল মাস থেকে নগরবাসীকে বাসার ময়লা সংগ্রহের জন্য কোনো ভেন্ডর বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দিতে হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল ৯ এপ্রিল(বৃহস্পতিবার) চসিক সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশক্রমে গত মার্চ মাস থেকে নগরের বাসাবাড়িতে ডোর–টু–ডোর বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি ভেন্ডরদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে চসিকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা সরাসরি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যক্তি এখনো নিজেদের ভেন্ডর পরিচয় দিয়ে বাসাবাড়ি থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এ বিষয়ে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে চসিক কর্তৃপক্ষ।
যদি কেউ জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা (মোবাইল: ০১৮১১-৮০৩৬৬৬) অথবা মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ)-এর (মোবাইল: ০১৮৯৪-৮৮৩০২০, ০১৮১৯-৯৫৮৮৬০, ০১৭৪৩-৯০১৪৮০০) সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চসিক নগরবাসীকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ, স্মার্ট সিটি’ গড়তে যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এদিকে ময়লা অপসারণের বিষয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন নাগরিকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ‘মেয়রের ঘোষণা শুনে সবাই খুশি হয়েছিলাম। ময়লা নিতে আসা লোকজন এই এপ্রিল মাসেও টাকা দাবি করলে মেয়রের ঘোষণার কথা তাদের জানাই। উত্তরে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান টাকা না দিলে ময়লা ডাস্টবিনে ফেলে আসতে হবে। অথবা চসিকের লোকজনকে এসে ময়লা নিয়ে যেতে বলেন। পরে বাধ্য হয়েই পূর্বের মত প্রতি ফ্ল্যাট থেকে ৭০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।’ তারা আরো বলেন, মেয়র মহোদয় চট্টগ্রাম নগরীর অভিভাবক। তার কথাই যদি বাস্তবায়ন না হয় আমরা কার কাছে যাব?’