০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবগঞ্জে নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে সড়কের ওপর হাট- কিচক বাজারে আলু মৌসুমে জনদুর্ভোগ চরমে

 

কিচক বাজারে সড়কের ওপর আলুর হাট-
যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে অ্যাম্বুলেন্স, বিপাকে রোগীরা

মিজানুর রহমান, শিবগঞ্জ (বগুড়া) :-
​বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম কিচক বাজারে নির্ধারিত জায়গা থাকা সত্ত্বেও আলু মৌসুমে   রাস্তার পাশে আলুর হাট বসানোর ফলে প্রতি বছরে  সৃষ্টি হয় দীর্ঘস্থায়ী যানজট। আলুর মৌসুমে এই যানজট ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
বিশেষ করে জরুরি সেবার এম্বুলেন্স ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় রোগীর প্রাণ সংশয় দেখা দেয়।
​প্রতি বছরেই আলু মৌসুমে  দেখা যায়, কিচক বাজারের নির্দিষ্ট স্থানে আলু বেচাকেনার জায়গা থাকলেও ক্রেতা ও বিক্রেতারা রাস্তার একাংশ দখল করে আলুর স্তূপ করে রাখে। এর ফলে ঢাকা-রংপুর বিকল্প রুট হিসেবে পরিচিত মোকামতলা / জয়পুরহাটের এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি সরু হয়ে যায়। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী বাস,  ট্রাক, রুগীবাহী এম্বুলেন্স,  অটো,ভ্যান, সিএনজি  ও নসিমন-করিমনের কারণে ছোট যানবাহন চলাচলেরও জায়গা থাকে না।
জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে রোববার, বুধবার ও শুক্রবার এই হাট বসে।আগের দিন বিকাল থেকেই যানজট শুরু হয়ে তা পরদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। এতে রাতভর এবং ভোরের ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাতের বেলায় দূরপাল্লার যানবাহনসহ জরুরি সেবার গাড়িগুলোও দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। ভোরে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে।

​বাস চালকরা জানান, প্রতি বছর আলু মৌসুমে  এই বাজারে এসে ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। রাস্তার ওপর আলু কেনাবেচা চলায় গাড়ি সরানোর কোনো জায়গা থাকে না। এম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে যাওয়ার সময়ও এখানে পথ পাওয়া যায় না। এটা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা।

এম্বুলেন্সের ড্রাইভার বলেন, জয়পুরহাট হাসপাতালে দুইটি এম্বুলেন্স দুটোই কিচক বাজারে জ্যামে আটকা পড়েছে, জরুরি রুগীকে যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি বগুড়াও যদি  নিয়ে যায় তাহলে কিন্তু আমাদের এই দুইটা অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার পরে কিন্তু রোগীরা সেখান থেকে কিন্তু বগুড়ায় হাসপাতালে যেতে পারবে।

​কৃষকেরা জানান, রাস্তার ওপর তাড়াহুড়ো করে আলু বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। যানজটের চাপে বাজার যাচাই করার সুযোগ পান না তারা। অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, জ্যামের কারণে আড়তদাররা দ্রুত আলু নামাতে বলে, ফলে আমরা সঠিক দাম বুঝতে পারি না। রাস্তার বদলে হাটের ভেতরে সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকলে আমরা শান্তি মতো আলু বিক্রি করতে পারিনা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আলুর মৌসুমে কিচক বাজারে  রাস্তার ওপর বাজার বসানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। নির্ধারিত স্থানে আলুর হাট সরিয়ে নিলে একদিকে যেমন যানজট কমবে, অন্যদিকে কৃষকরাও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিচক হাটে অনেক ব্যবসায়ী সড়কের পাশে আলু স্তুপ করে রাখেন এবং সড়কের মধ্যেই যানবাহনে আলু ওঠানো-নামানোর কাজ করেন। এতে যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। প্রতি বছর আলুর মৌসুমে এমন দুর্ভোগ হলেও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ)-এর জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনাও যানজটের অন্যতম কারণ।

কিচক আলুর হাটের যানজটে আটকে পড়া জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার কলেজ শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বগুড়া আজিজুল হক কলেজের ছাত্র , ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করি। ঈদের ছুটি শেষে ফিরছিলাম, কিন্তু আমাদের বাস দুই ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছে।
অরিন ট্রাভেলসের কাউন্টার ম্যানেজার নূরনবী প্রাং জানান, তীব্র যানজটের কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গাড়ি সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না।

হাটের ইজারাদারের এক প্রতিনিধি জানান, হাটের জায়গা সম্প্রসারণ না করার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান  বলেন, এই সমস্যা সমাধানে  দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

শিবগঞ্জে নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে সড়কের ওপর হাট- কিচক বাজারে আলু মৌসুমে জনদুর্ভোগ চরমে

Update Time : ০৪:১৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

 

কিচক বাজারে সড়কের ওপর আলুর হাট-
যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে অ্যাম্বুলেন্স, বিপাকে রোগীরা

মিজানুর রহমান, শিবগঞ্জ (বগুড়া) :-
​বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম কিচক বাজারে নির্ধারিত জায়গা থাকা সত্ত্বেও আলু মৌসুমে   রাস্তার পাশে আলুর হাট বসানোর ফলে প্রতি বছরে  সৃষ্টি হয় দীর্ঘস্থায়ী যানজট। আলুর মৌসুমে এই যানজট ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
বিশেষ করে জরুরি সেবার এম্বুলেন্স ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় রোগীর প্রাণ সংশয় দেখা দেয়।
​প্রতি বছরেই আলু মৌসুমে  দেখা যায়, কিচক বাজারের নির্দিষ্ট স্থানে আলু বেচাকেনার জায়গা থাকলেও ক্রেতা ও বিক্রেতারা রাস্তার একাংশ দখল করে আলুর স্তূপ করে রাখে। এর ফলে ঢাকা-রংপুর বিকল্প রুট হিসেবে পরিচিত মোকামতলা / জয়পুরহাটের এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি সরু হয়ে যায়। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী বাস,  ট্রাক, রুগীবাহী এম্বুলেন্স,  অটো,ভ্যান, সিএনজি  ও নসিমন-করিমনের কারণে ছোট যানবাহন চলাচলেরও জায়গা থাকে না।
জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে রোববার, বুধবার ও শুক্রবার এই হাট বসে।আগের দিন বিকাল থেকেই যানজট শুরু হয়ে তা পরদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। এতে রাতভর এবং ভোরের ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাতের বেলায় দূরপাল্লার যানবাহনসহ জরুরি সেবার গাড়িগুলোও দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। ভোরে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে।

​বাস চালকরা জানান, প্রতি বছর আলু মৌসুমে  এই বাজারে এসে ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। রাস্তার ওপর আলু কেনাবেচা চলায় গাড়ি সরানোর কোনো জায়গা থাকে না। এম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে যাওয়ার সময়ও এখানে পথ পাওয়া যায় না। এটা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা।

এম্বুলেন্সের ড্রাইভার বলেন, জয়পুরহাট হাসপাতালে দুইটি এম্বুলেন্স দুটোই কিচক বাজারে জ্যামে আটকা পড়েছে, জরুরি রুগীকে যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি বগুড়াও যদি  নিয়ে যায় তাহলে কিন্তু আমাদের এই দুইটা অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার পরে কিন্তু রোগীরা সেখান থেকে কিন্তু বগুড়ায় হাসপাতালে যেতে পারবে।

​কৃষকেরা জানান, রাস্তার ওপর তাড়াহুড়ো করে আলু বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। যানজটের চাপে বাজার যাচাই করার সুযোগ পান না তারা। অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, জ্যামের কারণে আড়তদাররা দ্রুত আলু নামাতে বলে, ফলে আমরা সঠিক দাম বুঝতে পারি না। রাস্তার বদলে হাটের ভেতরে সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকলে আমরা শান্তি মতো আলু বিক্রি করতে পারিনা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আলুর মৌসুমে কিচক বাজারে  রাস্তার ওপর বাজার বসানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। নির্ধারিত স্থানে আলুর হাট সরিয়ে নিলে একদিকে যেমন যানজট কমবে, অন্যদিকে কৃষকরাও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিচক হাটে অনেক ব্যবসায়ী সড়কের পাশে আলু স্তুপ করে রাখেন এবং সড়কের মধ্যেই যানবাহনে আলু ওঠানো-নামানোর কাজ করেন। এতে যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। প্রতি বছর আলুর মৌসুমে এমন দুর্ভোগ হলেও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ)-এর জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনাও যানজটের অন্যতম কারণ।

কিচক আলুর হাটের যানজটে আটকে পড়া জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার কলেজ শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বগুড়া আজিজুল হক কলেজের ছাত্র , ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করি। ঈদের ছুটি শেষে ফিরছিলাম, কিন্তু আমাদের বাস দুই ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছে।
অরিন ট্রাভেলসের কাউন্টার ম্যানেজার নূরনবী প্রাং জানান, তীব্র যানজটের কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গাড়ি সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না।

হাটের ইজারাদারের এক প্রতিনিধি জানান, হাটের জায়গা সম্প্রসারণ না করার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান  বলেন, এই সমস্যা সমাধানে  দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।