০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামগড়ায় পুলিশ ফাঁড়ি চালুর পরও গুলির ঘটনা: আশুলিয়ায় ভোরে ৫ রাউন্ড গুলি, আহত ২—উদ্বেগে স্থানীয়রা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি :- ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালুর পরও গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভোরে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে এবং এতে দুইজন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে এখনো তাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার চিত্রশাইল-কান্দাইল এলাকার রাজাবাদশা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন আলামিন (৩০) ও পারভেজ (২২)। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত আলামিন জানান, তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার এবং পারভেজ একটি দোকানের কর্মচারী। ভোরে পাওনা টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে জামগড়া এলাকায় বাসায় ফিরছিলেন তারা।পথে মৃধা বাড়ি ঈদগাহ মাঠের সামনে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা চারজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এ সময় ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হলে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে তারা দুজনই আহত হন। পরে হামলাকারীরা প্রায় দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

আলামিনের দাবি, হামলায় জড়িতরা হলো শুটার বাপ্পি, কামরুল ও ভাদাইল এলাকার লেংরা রাসেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথিত শুটার বাপ্পি পূর্বেও রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে যশোর সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, রাসেল নামের আরেক অভিযুক্ত কিছুদিন আগে ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাম মৃধা বলেন,ভোরে আমরা অন্তত ৫ বার গুলির শব্দ শুনেছি। ঘটনাস্থলের একটি হোটেল তখন খোলা ছিল, সেখানকার লোকজনও বিষয়টি দেখেছে। তবে কারা গুলি চালিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”

আরেক বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান,ঘটনার পরপরই পুলিশ আসে। গুলির চিহ্নও দেখা গেছে বলে শুনেছি।”

মুঠোফোনে পারভেজ জানান, তার পায়ে গুলি লেগেছে এবং বর্তমানে কিছুটা সুস্থ আছেন। তবে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করেননি।

জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন,ঘটনাস্থল আমাদের আওতাধীন কিনা তা নিশ্চিত নই। এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাইনি।”

অন্যদিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন,এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য এখনো আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

জামগড়ায় পুলিশ ফাঁড়ি চালুর পরও গুলির ঘটনা: আশুলিয়ায় ভোরে ৫ রাউন্ড গুলি, আহত ২—উদ্বেগে স্থানীয়রা

Update Time : ০৪:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি :- ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালুর পরও গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভোরে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে এবং এতে দুইজন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে এখনো তাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার চিত্রশাইল-কান্দাইল এলাকার রাজাবাদশা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন আলামিন (৩০) ও পারভেজ (২২)। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত আলামিন জানান, তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার এবং পারভেজ একটি দোকানের কর্মচারী। ভোরে পাওনা টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে জামগড়া এলাকায় বাসায় ফিরছিলেন তারা।পথে মৃধা বাড়ি ঈদগাহ মাঠের সামনে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা চারজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এ সময় ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হলে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে তারা দুজনই আহত হন। পরে হামলাকারীরা প্রায় দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

আলামিনের দাবি, হামলায় জড়িতরা হলো শুটার বাপ্পি, কামরুল ও ভাদাইল এলাকার লেংরা রাসেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথিত শুটার বাপ্পি পূর্বেও রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে যশোর সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, রাসেল নামের আরেক অভিযুক্ত কিছুদিন আগে ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাম মৃধা বলেন,ভোরে আমরা অন্তত ৫ বার গুলির শব্দ শুনেছি। ঘটনাস্থলের একটি হোটেল তখন খোলা ছিল, সেখানকার লোকজনও বিষয়টি দেখেছে। তবে কারা গুলি চালিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”

আরেক বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান,ঘটনার পরপরই পুলিশ আসে। গুলির চিহ্নও দেখা গেছে বলে শুনেছি।”

মুঠোফোনে পারভেজ জানান, তার পায়ে গুলি লেগেছে এবং বর্তমানে কিছুটা সুস্থ আছেন। তবে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করেননি।

জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন,ঘটনাস্থল আমাদের আওতাধীন কিনা তা নিশ্চিত নই। এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাইনি।”

অন্যদিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন,এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য এখনো আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।