০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কার্ডের মাধ্যমে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি শুরু: ভোগান্তি লাঘবে কঠোর নজরদারি

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে উপজেলার তিনটি প্রধান ফিলিং স্টেশনে একযোগে সরকারি নির্ধারিত নিয়মে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে পেট্রোল এবং কৃষকদের জন্য ডিলার পয়েন্টে ডিজেল বিক্রি শুরু হয়েছে।

আজ সকাল থেকেই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেট্রোল সরবরাহ করা হয়েছে। বরাদ্দের বিবরণ নিম্নরূপ:
কে এম ফিলিং স্টেশন (লোকনাথপুর): ৪,৫০০ লিটার।
এম এম ফিলিং স্টেশন (কার্পাসডাংগা): ৫,০০০ লিটার।
দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশন: ৩,০০০ লিটার।

সরেজমিনে লোকনাথপুর মেসার্স কে এম ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও সেখানে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। সঠিক নিয়মে ফুয়েল কার্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে পেট্রোল প্রদান করা হচ্ছে।

তেলের সঠিক পরিমাপ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে সেখানে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন ট্যাগ অফিসার মোঃ রাফিজুল ইসলাম। এছাড়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ টিম এবং পাম্প কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

প্রশাসন কর্তৃক জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র বৈধ ফুয়েল কার্ডধারীরাই পাম্প থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারবেন। কার্ডের পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
১. ড্রাইভিং লাইসেন্স
২. যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স টোকেন
৩. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

পেট্রোলের পাশাপাশি উপজেলাজুড়ে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কৃষিকাজ সচল রাখতে আজ থেকে দামুড়হুদার বিভিন্ন ইউনিয়নে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার সংশ্লিষ্ট ডিলার ও এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষকদের সুবিধার্থে প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পাম্প বা এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ডিজেল নিতে হলে প্রয়োজনীয় প্রমাণক প্রদর্শন করতে হবে। বিশেষ করে কৃষকদের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিসের সুপারিশসহ প্রত্যয়নপত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং কালোবাজারি বন্ধে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে পাম্পগুলোতে তেলের মাপ ও বিক্রয় প্রক্রিয়া মনিটরিং করা হচ্ছে।

কোনো প্রকার অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সকাল থেকেই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে তেল সংগ্রহ করতে পেরে সাধারণ গ্রাহক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের মাঝে সন্তুষ্টির চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কার্ডের মাধ্যমে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি শুরু: ভোগান্তি লাঘবে কঠোর নজরদারি

Update Time : ০৪:১২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে উপজেলার তিনটি প্রধান ফিলিং স্টেশনে একযোগে সরকারি নির্ধারিত নিয়মে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে পেট্রোল এবং কৃষকদের জন্য ডিলার পয়েন্টে ডিজেল বিক্রি শুরু হয়েছে।

আজ সকাল থেকেই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেট্রোল সরবরাহ করা হয়েছে। বরাদ্দের বিবরণ নিম্নরূপ:
কে এম ফিলিং স্টেশন (লোকনাথপুর): ৪,৫০০ লিটার।
এম এম ফিলিং স্টেশন (কার্পাসডাংগা): ৫,০০০ লিটার।
দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশন: ৩,০০০ লিটার।

সরেজমিনে লোকনাথপুর মেসার্স কে এম ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও সেখানে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। সঠিক নিয়মে ফুয়েল কার্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে পেট্রোল প্রদান করা হচ্ছে।

তেলের সঠিক পরিমাপ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে সেখানে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন ট্যাগ অফিসার মোঃ রাফিজুল ইসলাম। এছাড়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ টিম এবং পাম্প কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

প্রশাসন কর্তৃক জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র বৈধ ফুয়েল কার্ডধারীরাই পাম্প থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারবেন। কার্ডের পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
১. ড্রাইভিং লাইসেন্স
২. যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স টোকেন
৩. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

পেট্রোলের পাশাপাশি উপজেলাজুড়ে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কৃষিকাজ সচল রাখতে আজ থেকে দামুড়হুদার বিভিন্ন ইউনিয়নে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার সংশ্লিষ্ট ডিলার ও এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষকদের সুবিধার্থে প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পাম্প বা এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ডিজেল নিতে হলে প্রয়োজনীয় প্রমাণক প্রদর্শন করতে হবে। বিশেষ করে কৃষকদের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিসের সুপারিশসহ প্রত্যয়নপত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং কালোবাজারি বন্ধে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে পাম্পগুলোতে তেলের মাপ ও বিক্রয় প্রক্রিয়া মনিটরিং করা হচ্ছে।

কোনো প্রকার অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সকাল থেকেই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে তেল সংগ্রহ করতে পেরে সাধারণ গ্রাহক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের মাঝে সন্তুষ্টির চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।