১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে বৈসাবির রঙে রাঙা হলো পাহাড়—বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সম্প্রীতির বার্তা

 

আরিফুল ইসলাম মহিন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি জনপদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘বৈসাবি’ উপলক্ষে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে আনন্দঘন শোভাযাত্রা। মঙ্গলবার (সকাল) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে শহরে অনুষ্ঠিত এই শোভাযাত্রা রূপ নেয় এক মিলনমেলায়, যেখানে একসঙ্গে অংশ নেন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ।

সকাল ৯টায় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। নতুন বছরকে বরণ এবং পুরোনোকে বিদায় জানানোর এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বর্ণিল অলংকার ও বাদ্যযন্ত্রে সজ্জিত হয়ে উৎসবকে করে তোলেন প্রাণবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন।

শোভাযাত্রা শেষে টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘মৈত্রী পানিবর্ষণ’ অনুষ্ঠান, যা উৎসবের আনন্দকে আরও গভীর করে তোলে।

এর আগে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, “এ ধরনের উৎসব পাহাড়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।”

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

বৈসাবির এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা যেন আবারও প্রমাণ করল—বৈচিত্র্যের মধ্যেই পাহাড়ের প্রকৃত সৌন্দর্য, আর সম্প্রীতিই এখানকার সবচেয়ে বড় শক্তি।

 

বৈসাবি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলবে আরও কয়েক দিন। ৯ এপ্রিল ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল চাকমাদের ফুল বিজু এবং ১৪ এপ্রিল মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই শোভাযাত্রা হওয়ার কথা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

খাগড়াছড়িতে বৈসাবির রঙে রাঙা হলো পাহাড়—বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সম্প্রীতির বার্তা

Update Time : ০৩:৪২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

 

আরিফুল ইসলাম মহিন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি জনপদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘বৈসাবি’ উপলক্ষে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে আনন্দঘন শোভাযাত্রা। মঙ্গলবার (সকাল) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে শহরে অনুষ্ঠিত এই শোভাযাত্রা রূপ নেয় এক মিলনমেলায়, যেখানে একসঙ্গে অংশ নেন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ।

সকাল ৯টায় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। নতুন বছরকে বরণ এবং পুরোনোকে বিদায় জানানোর এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বর্ণিল অলংকার ও বাদ্যযন্ত্রে সজ্জিত হয়ে উৎসবকে করে তোলেন প্রাণবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন।

শোভাযাত্রা শেষে টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘মৈত্রী পানিবর্ষণ’ অনুষ্ঠান, যা উৎসবের আনন্দকে আরও গভীর করে তোলে।

এর আগে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, “এ ধরনের উৎসব পাহাড়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।”

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

বৈসাবির এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা যেন আবারও প্রমাণ করল—বৈচিত্র্যের মধ্যেই পাহাড়ের প্রকৃত সৌন্দর্য, আর সম্প্রীতিই এখানকার সবচেয়ে বড় শক্তি।

 

বৈসাবি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলবে আরও কয়েক দিন। ৯ এপ্রিল ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল চাকমাদের ফুল বিজু এবং ১৪ এপ্রিল মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই শোভাযাত্রা হওয়ার কথা রয়েছে।