০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৌলতপুরে যমুনায় ফের অবৈধ বালু উত্তোলন: ,প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক | মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বাঘুটিয়া বাজার সংলগ্ন যমুনা নদীতে পুনরায় শুরু হয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী বালুখেকো চক্র সশস্ত্র পাহারায় উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছে, যার ফলে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে নদী তীরবর্তী হাজারো জনবসতি।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত চক্রের নেতৃত্বে অন্তত তিনটি ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০টির মতো বাল্কহেডে করে উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরো কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো বৈধ বালু মহল না থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে এই অবৈধ কার্যক্রম চলমান। বিষয়টি আরও গুরুতর, কারণ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালু উত্তোলনের ওপর উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে আইন প্রয়োগের বাস্তবতা নিয়ে।
আইনগতভাবে, “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকা, সেতু, কালভার্ট, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংলগ্ন নদী এলাকা থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় উল্লেখ রয়েছে—এ ধরনের অপরাধে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে; পুনরাবৃত্তি ঘটলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
নদী ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বিস্তীর্ণ জনবসতি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রতিকার দিচ্ছে না। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর ও ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
উপসংহার:
আইনের স্পষ্ট বিধিনিষেধ ও আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে অব্যাহত এই অবৈধ কার্যক্রম শুধু পরিবেশ নয়, জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে এই দৌরাত্ম্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

দৌলতপুরে যমুনায় ফের অবৈধ বালু উত্তোলন: ,প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ

Update Time : ০৪:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বাঘুটিয়া বাজার সংলগ্ন যমুনা নদীতে পুনরায় শুরু হয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী বালুখেকো চক্র সশস্ত্র পাহারায় উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছে, যার ফলে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে নদী তীরবর্তী হাজারো জনবসতি।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত চক্রের নেতৃত্বে অন্তত তিনটি ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০টির মতো বাল্কহেডে করে উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরো কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো বৈধ বালু মহল না থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে এই অবৈধ কার্যক্রম চলমান। বিষয়টি আরও গুরুতর, কারণ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালু উত্তোলনের ওপর উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে আইন প্রয়োগের বাস্তবতা নিয়ে।
আইনগতভাবে, “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকা, সেতু, কালভার্ট, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংলগ্ন নদী এলাকা থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় উল্লেখ রয়েছে—এ ধরনের অপরাধে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে; পুনরাবৃত্তি ঘটলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
নদী ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বিস্তীর্ণ জনবসতি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রতিকার দিচ্ছে না। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর ও ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
উপসংহার:
আইনের স্পষ্ট বিধিনিষেধ ও আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে অব্যাহত এই অবৈধ কার্যক্রম শুধু পরিবেশ নয়, জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে এই দৌরাত্ম্য।