০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার: জনমনে আতঙ্ক, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা

 

শেখ মারুফ হোসেন
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজে স্থাপিত অস্থায়ী সেনাবাহিনী ক্যাম্পটি আজ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নির্বাচনের ৫১ দিন পর আজ সকালে সেনাবাহিনীর দলটি তাদের নিয়মিত কার্যক্রম শেষে যশোর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
আজ ৫ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টার পর ৩৭ বীর ইউনিটের ক্যাপ্টেন মোঃ সাজিদ – এর নেতৃত্বে মোট ৫৪ জন সেনাসদস্যের একটি দল কালিগঞ্জ ক্যাম্প ত্যাগ করেন। তারা পলিটেকনিক্যাল কলেজে স্থাপিত ক্যাম্পটি গুটিয়ে নিয়ে পুনরায় তাদের মূল কেন্দ্র যশোর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে গমন করেন।
সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে অসন্তুষ্টি ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সেনাবাহিনী এলাকায় অবস্থানকালীন সময়ে অপরাধী ও অসাধু চক্রের মধ্যে একটি আতঙ্ক কাজ করত, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ স্বাভাবিক ছিল। এখন হঠাৎ করে ক্যাম্পটি প্রত্যাহার করায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।
অনেকে মনে করছেন সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তাদের দাবী, কালিগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন ও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গী তৎপরতার সাথে ভূমিকা পালন করলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে । তাদের বলছে যে, সেনাবাহিনীর অনুপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অপরাধী চক্র আবারও যেন সক্রিয় না হয়ে উঠতে পারে সেব্যাপারে পুলিশকে নিরোপেক্ষ জোরালো ভুমিকা নিতে হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা এবং প্রয়োজনে পুনরায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডাঃ শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, কালিগঞ্জে আরও কিছু দিন সেনাবাহিনী অবস্থান করলে ভালো হতো। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় কালিগঞ্জে সেনাবাহিনীর ব্যাপক ভুমিকা ছিল। এই মুহুর্তে তাদের চলে যাওয়ায় একটি সুবিধাবাদী চক্র সুযোগ গ্রহন করবে। ফ্যাসিবাদী চরিত্র উকি দিচ্ছে। তারা সংগঠিত হয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা করবে।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম বলেন, অন্তবর্তী সরকারের সময় থেকে কালিগঞ্জে সেনাবাহিনী ছিল। সেকারনে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি হয়নি। সেনাবহিনী চলে যাওয়ার পর জনমনে ভৃতির সঞ্চার হতে পারে। তবে আমরা যারা রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ আছি, ইউএনও, পুলিশ প্রশাসন সহ সবাই একসাথে মিলে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কালিগঞ্জ উপজেলা বাসীকে দিতে পারবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার: জনমনে আতঙ্ক, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা

Update Time : ০২:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

 

শেখ মারুফ হোসেন
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজে স্থাপিত অস্থায়ী সেনাবাহিনী ক্যাম্পটি আজ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নির্বাচনের ৫১ দিন পর আজ সকালে সেনাবাহিনীর দলটি তাদের নিয়মিত কার্যক্রম শেষে যশোর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
আজ ৫ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টার পর ৩৭ বীর ইউনিটের ক্যাপ্টেন মোঃ সাজিদ – এর নেতৃত্বে মোট ৫৪ জন সেনাসদস্যের একটি দল কালিগঞ্জ ক্যাম্প ত্যাগ করেন। তারা পলিটেকনিক্যাল কলেজে স্থাপিত ক্যাম্পটি গুটিয়ে নিয়ে পুনরায় তাদের মূল কেন্দ্র যশোর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে গমন করেন।
সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে অসন্তুষ্টি ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সেনাবাহিনী এলাকায় অবস্থানকালীন সময়ে অপরাধী ও অসাধু চক্রের মধ্যে একটি আতঙ্ক কাজ করত, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ স্বাভাবিক ছিল। এখন হঠাৎ করে ক্যাম্পটি প্রত্যাহার করায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।
অনেকে মনে করছেন সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তাদের দাবী, কালিগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন ও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গী তৎপরতার সাথে ভূমিকা পালন করলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে । তাদের বলছে যে, সেনাবাহিনীর অনুপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অপরাধী চক্র আবারও যেন সক্রিয় না হয়ে উঠতে পারে সেব্যাপারে পুলিশকে নিরোপেক্ষ জোরালো ভুমিকা নিতে হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা এবং প্রয়োজনে পুনরায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডাঃ শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, কালিগঞ্জে আরও কিছু দিন সেনাবাহিনী অবস্থান করলে ভালো হতো। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় কালিগঞ্জে সেনাবাহিনীর ব্যাপক ভুমিকা ছিল। এই মুহুর্তে তাদের চলে যাওয়ায় একটি সুবিধাবাদী চক্র সুযোগ গ্রহন করবে। ফ্যাসিবাদী চরিত্র উকি দিচ্ছে। তারা সংগঠিত হয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা করবে।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম বলেন, অন্তবর্তী সরকারের সময় থেকে কালিগঞ্জে সেনাবাহিনী ছিল। সেকারনে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি হয়নি। সেনাবহিনী চলে যাওয়ার পর জনমনে ভৃতির সঞ্চার হতে পারে। তবে আমরা যারা রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ আছি, ইউএনও, পুলিশ প্রশাসন সহ সবাই একসাথে মিলে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কালিগঞ্জ উপজেলা বাসীকে দিতে পারবো।