০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন সন্তানের জননী প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ ।। বাড়ি থেকে ৬ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার উধাও, থানায় অভিযোগ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুমিল্লা:

চান্দিনা উপজেলা–এ সৌদি প্রবাসীর বসতঘর থেকে নগদ ৬ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এক গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চান্দিনা থানা–এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়ন–এর নলপুনী গ্রামের সৌদি প্রবাসী মহিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। শারমিন আক্তার (২৯), পিতা কালু মিয়া ও মাতা আয়েশা বেগম, গ্রাম কংগাই। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তান রয়েছে।

পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে পরিবারে অশোভন আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসানের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। মেহেদী হাসান, পিতা দাদ্বন ও মাতা খুকি বেগম, গ্রাম নলপুনী—বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় আমান উল্লাহ (পিতা লতিফ), গ্রাম নলপুনী, ২নং বাতাঘাসী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড—শারমিন আক্তারকে পালিয়ে যেতে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে শারমিন আক্তার অন্যদের সহযোগিতায় স্বামীর ঘরে থাকা নগদ প্রায় ৬ লাখ টাকা এবং প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার (নেকলেস, কানের দুল, চেইন ও আংটি) নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। স্বর্ণালংকারসহ মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই টাকা সৌদি প্রবাসী মহিদুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবনের কাজের জন্য ঘরে রাখা ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান এবং শারমিন আক্তার ও তার দুই সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন।

পরবর্তীতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অভিযোগে বলা হয়, শারমিন আক্তার ছাড়াও মেহেদী হাসান, আমান উল্লাহসহ আরও কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাটি পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে প্রবাসী ভাইয়ের অনুমতিক্রমে নজরুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে আমান উল্লাহর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ–এর চান্দিনা থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, অভিযুক্তরা নিজেদের দোষ আড়াল করতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

তিন সন্তানের জননী প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ ।। বাড়ি থেকে ৬ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার উধাও, থানায় অভিযোগ

Update Time : ০১:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুমিল্লা:

চান্দিনা উপজেলা–এ সৌদি প্রবাসীর বসতঘর থেকে নগদ ৬ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এক গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চান্দিনা থানা–এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়ন–এর নলপুনী গ্রামের সৌদি প্রবাসী মহিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। শারমিন আক্তার (২৯), পিতা কালু মিয়া ও মাতা আয়েশা বেগম, গ্রাম কংগাই। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তান রয়েছে।

পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে পরিবারে অশোভন আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসানের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। মেহেদী হাসান, পিতা দাদ্বন ও মাতা খুকি বেগম, গ্রাম নলপুনী—বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় আমান উল্লাহ (পিতা লতিফ), গ্রাম নলপুনী, ২নং বাতাঘাসী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড—শারমিন আক্তারকে পালিয়ে যেতে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে শারমিন আক্তার অন্যদের সহযোগিতায় স্বামীর ঘরে থাকা নগদ প্রায় ৬ লাখ টাকা এবং প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার (নেকলেস, কানের দুল, চেইন ও আংটি) নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। স্বর্ণালংকারসহ মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই টাকা সৌদি প্রবাসী মহিদুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবনের কাজের জন্য ঘরে রাখা ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান এবং শারমিন আক্তার ও তার দুই সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন।

পরবর্তীতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অভিযোগে বলা হয়, শারমিন আক্তার ছাড়াও মেহেদী হাসান, আমান উল্লাহসহ আরও কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাটি পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে প্রবাসী ভাইয়ের অনুমতিক্রমে নজরুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে আমান উল্লাহর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ–এর চান্দিনা থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, অভিযুক্তরা নিজেদের দোষ আড়াল করতে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে পারে।