১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কসাই সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী পরিবারে হামলা ও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ



‎সাভার প্রতিনিধি


‎ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় এক ব্যবসায়ী পরিবারের ওপর হামলা, মারধর এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোসা. নাজমা আক্তার এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।



‎অভিযোগে বলা হয়, নাজমা আক্তার ও তাঁর স্বামী মিন্টু হাজারি দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুর কাঁচাবাজারে ব্যবসা করে আসছেন। একই বাজারের ব্যবসায়ী মো. সেলিম (ওরফে কসাই সেলিম), মো. রেজবি, মোসা. শারমিনসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছিল।



‎ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বাজার কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ বিরোধের সূত্রপাত। একসময় মো. সেলিম বাজার কমিটির সভাপতি ছিলেন। পরে মিন্টু হাজারি সভাপতি নির্বাচিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জেরে নাজমা আক্তার ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যবসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।



‎অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে নাজমা আক্তারের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ছিলেন।



‎নাজমা আক্তার অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ চালান। এতে তিনি আহত হন। পরে তাঁকে বাসা থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।



‎ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় তাঁর গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যা তিনি ছিনতাই হিসেবে উল্লেখ করেছেন।



‎নাজমা আক্তার বলেন, হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত তাঁকে মামলা না করার জন্য হুমকি দেন। মামলা করলেও প্রভাব খাটিয়ে তা মোকাবিলা করবেন বলেও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর।


‎ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে, যা প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।


‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে কেউ কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক।


‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসাই সেলিম অতীতে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম সমরের কনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি তাকে ফুলের মালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বাসায় সাপ্তাহিক বাজার সরবরাহ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


‎এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাকে ফুল দিয়ে বরণ করার একাধিক ছবি নিজের আইডিতে পোস্ট করেছেন কসাই সেলিম। অনেকের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের পতনের পরও তিনি কীভাবে এখনো এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।



‎এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার এসআই এস. ইমতিয়াজ বলেন, অভিযোগটি তিনি হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

কসাই সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী পরিবারে হামলা ও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ

Update Time : ০২:১৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬



‎সাভার প্রতিনিধি


‎ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় এক ব্যবসায়ী পরিবারের ওপর হামলা, মারধর এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোসা. নাজমা আক্তার এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।



‎অভিযোগে বলা হয়, নাজমা আক্তার ও তাঁর স্বামী মিন্টু হাজারি দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুর কাঁচাবাজারে ব্যবসা করে আসছেন। একই বাজারের ব্যবসায়ী মো. সেলিম (ওরফে কসাই সেলিম), মো. রেজবি, মোসা. শারমিনসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছিল।



‎ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বাজার কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ বিরোধের সূত্রপাত। একসময় মো. সেলিম বাজার কমিটির সভাপতি ছিলেন। পরে মিন্টু হাজারি সভাপতি নির্বাচিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জেরে নাজমা আক্তার ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যবসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।



‎অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে নাজমা আক্তারের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ছিলেন।



‎নাজমা আক্তার অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ চালান। এতে তিনি আহত হন। পরে তাঁকে বাসা থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।



‎ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার সময় তাঁর গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যা তিনি ছিনতাই হিসেবে উল্লেখ করেছেন।



‎নাজমা আক্তার বলেন, হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত তাঁকে মামলা না করার জন্য হুমকি দেন। মামলা করলেও প্রভাব খাটিয়ে তা মোকাবিলা করবেন বলেও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর।


‎ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে, যা প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।


‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে কেউ কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক।


‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসাই সেলিম অতীতে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম সমরের কনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি তাকে ফুলের মালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বাসায় সাপ্তাহিক বাজার সরবরাহ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


‎এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাকে ফুল দিয়ে বরণ করার একাধিক ছবি নিজের আইডিতে পোস্ট করেছেন কসাই সেলিম। অনেকের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের পতনের পরও তিনি কীভাবে এখনো এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।



‎এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার এসআই এস. ইমতিয়াজ বলেন, অভিযোগটি তিনি হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।