
বিশেষ প্রতিনিধি- জাহারুল ইসলাম জীবন এর লেখা ও সম্পাদনায় রচিত আন্তজার্তিক পরিস্থিতির উপর বিশেষ নিউজ প্রতিবেদন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ৩১ মার্চ, ২০২৬
বর্তমান বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য আজ এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং একটি সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং পারমাণবিক বিপর্যয়ের পদধ্বনি শোনাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসের এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে মানবসভ্যতা।
** কেন ঘনীভূত হচ্ছে পারমাণবিক যুদ্ধের মেঘ?
পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথাগত যুদ্ধে ইরানকে পরাস্ত করতে না পারার প্রেক্ষাপটেই আমেরিকা ও ইসরায়েল চরম পন্থার কথা চিন্তা করছে। এর পেছনে প্রধান কিছু কারণ হলো:-
* নিয়ন্ত্রণহীন মধ্যপ্রাচ্য:- দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যে একক আধিপত্য ছিল, তা এখন কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া ওয়াশিংটনের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
* ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষা:- চতুর্মুখী হামলার মুখে ইসরায়েল আজ এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংকটে। আধুনিক সমরাস্ত্র দিয়েও ইরানের প্রতিরোধ ব্যূহ ভাঙ্গতে না পেরে অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে তারা মরিয়া হয়ে উঠছে।
* ভৌগোলিক বাধা:- ইরানের দুর্ভেদ্য জার্গোস পর্বতমালা এবং দেশটির বিশাল আয়তনের কারণে স্থল অভিযান পরিচালনা করা যেকোনো শক্তির জন্যই অসম্ভবপ্রায়। এই প্রতিকূলতাকে জয় করতে না পেরেই আকাশপথ বা দূরপাল্লার বিধ্বংসী অস্ত্রের চিন্তা করা হচ্ছে।
* মাল্টিপোলার বিশ্ব ও নতুন মিত্রতা:- বিশ্ব রাজনীতি এখন আর এককেন্দ্রিক নেই। রাশিয়া ও চীনের সরাসরি ও পরোক্ষ সমর্থনে ইরান প্রযুক্তিগত ও সামরিকভাবে অনেক বেশি নির্ভুল লক্ষ্যভেদে সক্ষম হয়েছে, যা পশ্চিমা শক্তির ‘মোড়লগিরি’তে ধস নামিয়েছে।
** জনতার ঐক্য ও আধ্যাত্মিক মনোবল:- প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ সংহতিতে ফাটল ধরানো সম্ভব হয়নি। পারস্য জাতির ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তারা চরম সংকটে বিচলিত না হয়ে বরং ঐক্যবদ্ধ থাকে। সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং জন্মভূমির প্রতি অকুতোভয় মনোভাব যেকোনো বহিঃশক্তিকে রুখে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
সর্বপরি বিপদজনক পরিভাষায় একটি কথায় অনস্বীকার্য যে, একটি পারমাণবিক যুদ্ধ মানেই মানব সভ্যতার বিনাশ। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং বড় শক্তিগুলোর রাজনৈতিক মেরুকরণ এই যুদ্ধকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্রের অপব্যবহার শুরু হয়, তবে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। তবে ইতিহাসের পাতায় সত্য ও ন্যায়ের লড়াই সর্বদা টিকে থাকে। পরিবর্তিত এই বিশ্ব ব্যবস্থায় শেষ পর্যন্ত কার বিজয় হয়, তা সময়ই বলে দেবে।
প্রতিনিধির নাম 

























