০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল অব্যাহত

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজ আগমন অব্যাহত রয়েছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৭ দিনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজি ও পরিশোধিত জ্বালানি বহনকারী মোট ২২টি জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও অন্তত চারটি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক নৌপথে ভূরাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও দেশের জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ইতোমধ্যে আগত চালানগুলোর একটি বড় অংশই এলএনজি।
৩ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে কাতার থেকে চারটি জাহাজে করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টনের বেশি এলএনজি দেশে এসেছে। আল জোর, আল জাসাসিয়া, লুসাইল ও আল গালায়েল নামের জাহাজগুলো এরই মধ্যে খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
এদিকে এলপিজি সরবরাহেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। মালয়েশিয়া থেকে আসা মর্নিং জেন ২ হাজার ৫০০ টন, ভারত থেকে আসা সেন্না-৯ জাহাজ ৫ হাজার ৭৬৭ টন এবং এপিক সান্টা ৫ হাজার ৫০০ টন এলপিজি সরবরাহ করেছে। এছাড়া স্কুমি-৭ সীতাকুণ্ডে ৪ হাজার ৯৬১ টন এলপিজি খালাস করেছে। ওমান থেকে আসা এলপিজি সেভান কুতুবদিয়ায় ৭ হাজার ২০ টন এলপিজি খালাস করছে, যা ২০ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিশোধিত জ্বালানির মধ্যে ইলেন্দ্র স্প্রুস ও হাফিনা ববক্যাট জাহাজে প্রায় ২০ হাজার টন করে উচ্চ সালফারযুক্ত ফুয়েল অয়েল এসেছে। এছাড়া বে ইয়াসু জাহাজে ৫ হাজার ১৯ টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) আমদানি করা হয়েছে।
ডিজেলজাতীয় জ্বালানির ক্ষেত্রেও সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। জিউ চি, লিয়ান হুয়ান হু ও এসপিটি থেমিস জাহাজ সম্মিলিতভাবে ৮৫ হাজার টনের বেশি গ্যাস অয়েল সরবরাহ করেছে। র‍্যাফেলস সামুরা ২৮ হাজার টন এবং চ্যাং হাং হোং তু আরও ৫ হাজার টন জ্বালানি খালাস করছে। এছাড়া অ্যাঞ্জেল নম্বর-১১ জাহাজে ২ হাজার ৫ টন বেস অয়েল এসেছে, যা লুব্রিকেন্ট উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খাত সচল রাখতে এসব জ্বালানি চালান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চারটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। এর মধ্যে কাতার থেকে এলএনজি বহনকারী লেব্রেথাহ এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা প্রাচী জাহাজে প্রায় ৭৪ হাজার ৯২৯ টন এলএনজি রয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে এইচএসএফও ট্যাংকার লেডি অব ডোরিয়া ও এসসি গোল্ড ওশেন আসছে।
মার্চের শেষ দিকে আরও কয়েকটি জাহাজ আগমনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাঙ্গোলা থেকে এলএনজিবাহী সোনাগোল বেনগুয়েলা, থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েলবাহী এবি অলিভিয়া এবং এলপিজি ক্যারিয়ার বেয়ক বর্নহোম ও মর্নিং জেন নামের আরও একটি জাহাজ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, সব ধরনের উদ্বেগ সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল অব্যাহত

Update Time : ০৪:৫৬:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজ আগমন অব্যাহত রয়েছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৭ দিনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজি ও পরিশোধিত জ্বালানি বহনকারী মোট ২২টি জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও অন্তত চারটি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক নৌপথে ভূরাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও দেশের জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ইতোমধ্যে আগত চালানগুলোর একটি বড় অংশই এলএনজি।
৩ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে কাতার থেকে চারটি জাহাজে করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টনের বেশি এলএনজি দেশে এসেছে। আল জোর, আল জাসাসিয়া, লুসাইল ও আল গালায়েল নামের জাহাজগুলো এরই মধ্যে খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
এদিকে এলপিজি সরবরাহেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। মালয়েশিয়া থেকে আসা মর্নিং জেন ২ হাজার ৫০০ টন, ভারত থেকে আসা সেন্না-৯ জাহাজ ৫ হাজার ৭৬৭ টন এবং এপিক সান্টা ৫ হাজার ৫০০ টন এলপিজি সরবরাহ করেছে। এছাড়া স্কুমি-৭ সীতাকুণ্ডে ৪ হাজার ৯৬১ টন এলপিজি খালাস করেছে। ওমান থেকে আসা এলপিজি সেভান কুতুবদিয়ায় ৭ হাজার ২০ টন এলপিজি খালাস করছে, যা ২০ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিশোধিত জ্বালানির মধ্যে ইলেন্দ্র স্প্রুস ও হাফিনা ববক্যাট জাহাজে প্রায় ২০ হাজার টন করে উচ্চ সালফারযুক্ত ফুয়েল অয়েল এসেছে। এছাড়া বে ইয়াসু জাহাজে ৫ হাজার ১৯ টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) আমদানি করা হয়েছে।
ডিজেলজাতীয় জ্বালানির ক্ষেত্রেও সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। জিউ চি, লিয়ান হুয়ান হু ও এসপিটি থেমিস জাহাজ সম্মিলিতভাবে ৮৫ হাজার টনের বেশি গ্যাস অয়েল সরবরাহ করেছে। র‍্যাফেলস সামুরা ২৮ হাজার টন এবং চ্যাং হাং হোং তু আরও ৫ হাজার টন জ্বালানি খালাস করছে। এছাড়া অ্যাঞ্জেল নম্বর-১১ জাহাজে ২ হাজার ৫ টন বেস অয়েল এসেছে, যা লুব্রিকেন্ট উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খাত সচল রাখতে এসব জ্বালানি চালান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চারটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। এর মধ্যে কাতার থেকে এলএনজি বহনকারী লেব্রেথাহ এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা প্রাচী জাহাজে প্রায় ৭৪ হাজার ৯২৯ টন এলএনজি রয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে এইচএসএফও ট্যাংকার লেডি অব ডোরিয়া ও এসসি গোল্ড ওশেন আসছে।
মার্চের শেষ দিকে আরও কয়েকটি জাহাজ আগমনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাঙ্গোলা থেকে এলএনজিবাহী সোনাগোল বেনগুয়েলা, থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েলবাহী এবি অলিভিয়া এবং এলপিজি ক্যারিয়ার বেয়ক বর্নহোম ও মর্নিং জেন নামের আরও একটি জাহাজ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, সব ধরনের উদ্বেগ সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল আছে।