০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদলের আলোচিত সভাপতি পদপ্রার্থী কে এই আরিফ

 

 

মারুফ সরকার, নিজস্ব প্রতিবেদক :বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় যেসব নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ। দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার কারণে তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের একজন হিসেবে দেখছেন অনেক নেতাকর্মী।

টাঙ্গাইলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আরিফুল ইসলাম আরিফ ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হবার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। এরপর ছাত্রদলের রাজনীতিতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা করে নেন।

২০১৬ সালে তিনি মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মতে, আরিফুল ইসলাম আরিফ রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ। দলীয় কর্মসূচি, মিছিল, প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখিও হয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে টানা ৪ দিন হাসপাতালের আইসিইউতে থেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন। ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল হত্যার মিথ্যা অভিযোগে ডিবি পুলিশ ১৭ ঘণ্টা রিমান্ডে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরায় পুলিশের টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের হামলার শিকারে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় ঢাকার হাইকোর্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময় বিষয়টি ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে বেশ আলোচিত হয়।

রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যায় তাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ এবং সংগঠনের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন তিনি।

দলীয় সূত্র বলছে, ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

ছাত্রদলের এক কর্মী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সেই অকুতোভয় যোদ্ধা আরিফ ভাইয়ের গল্প আসলে রাজপথের গল্প। আন্দোলনের মিছিলে তিনি ছিলেন অস্ত্রহীন এক সৈন্য। পুলিশের গ্রেপ্তার, মামলা কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তিনি সহযোদ্ধাদের আগলে রেখেছেন।’

ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ঘিরে যখন সংগঠনটির ভেতরে জোর আলোচনা চলছে, তখন সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরিফুল ইসলাম আরিফের নামও ক্রমেই আলোচনায় উঠে আসছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলনের ইতিহাস এবং সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা- এই তিন দিক বিবেচনায় তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের একজন হিসেবে দেখছেন সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী।

আসন্ন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত ছাত্রদলের নেতৃত্বে কে আসছেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমান আলোচনা-পর্যালোচনায় সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরিফুল ইসলাম আরিফের নাম যে উল্লেখযোগ্যভাবে সামনে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ছাত্রদলের আলোচিত সভাপতি পদপ্রার্থী কে এই আরিফ

Update Time : ০৩:২৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

 

 

মারুফ সরকার, নিজস্ব প্রতিবেদক :বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় যেসব নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ। দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার কারণে তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের একজন হিসেবে দেখছেন অনেক নেতাকর্মী।

টাঙ্গাইলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আরিফুল ইসলাম আরিফ ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হবার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। এরপর ছাত্রদলের রাজনীতিতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা করে নেন।

২০১৬ সালে তিনি মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মতে, আরিফুল ইসলাম আরিফ রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ। দলীয় কর্মসূচি, মিছিল, প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখিও হয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে টানা ৪ দিন হাসপাতালের আইসিইউতে থেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন। ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল হত্যার মিথ্যা অভিযোগে ডিবি পুলিশ ১৭ ঘণ্টা রিমান্ডে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরায় পুলিশের টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের হামলার শিকারে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় ঢাকার হাইকোর্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময় বিষয়টি ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে বেশ আলোচিত হয়।

রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যায় তাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ এবং সংগঠনের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন তিনি।

দলীয় সূত্র বলছে, ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

ছাত্রদলের এক কর্মী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সেই অকুতোভয় যোদ্ধা আরিফ ভাইয়ের গল্প আসলে রাজপথের গল্প। আন্দোলনের মিছিলে তিনি ছিলেন অস্ত্রহীন এক সৈন্য। পুলিশের গ্রেপ্তার, মামলা কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তিনি সহযোদ্ধাদের আগলে রেখেছেন।’

ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ঘিরে যখন সংগঠনটির ভেতরে জোর আলোচনা চলছে, তখন সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরিফুল ইসলাম আরিফের নামও ক্রমেই আলোচনায় উঠে আসছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলনের ইতিহাস এবং সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা- এই তিন দিক বিবেচনায় তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের একজন হিসেবে দেখছেন সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী।

আসন্ন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত ছাত্রদলের নেতৃত্বে কে আসছেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমান আলোচনা-পর্যালোচনায় সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরিফুল ইসলাম আরিফের নাম যে উল্লেখযোগ্যভাবে সামনে রয়েছে।