০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ডিবি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকসহ গ্রেপ্তার ১, পলাতক ২

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। ১৮ মার্চ বিকেলে জীবননগর থানা এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে তিন বোতল নেশাজাতীয় ‘ব্লাক হান্ট’ (Black Hunt) এবং ১০৯ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের বিকল্প সিরাপ ‘WINCEREX’ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মাদক চক্রের মূল হোতাসহ একজন গ্রেপ্তার হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে আরও দুই সহযোগী।

চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় জেলাজুড়ে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলে জীবননগর থানা এলাকায় অভিযানে নামে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ আশরাফুল ইসলাম, এসআই (নিঃ) সৌমিত্র সাহা এবং এএসআই (নিঃ) শ্রী রমেন কুমার সরকার। সাথে ছিলেন ডিবি পুলিশের সঙ্গীয় ফোর্স।

বিকেল আনুমানিক ১৭:২০ ঘটিকায় ডিবি পুলিশের টিম জীবননগর থানাধীন মানিকপুর মসজিদপাড়া এলাকার জনৈক শওকত হোসেনের বাড়িতে হানা দেয়।

সেখান থেকে মাদক কেনাবেচার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় মোঃ শওকত হোসেন (৪৫), পিতা- মৃত মোলাম মালিতা।
প্রাথমিক তল্লাশিতে শওকতের হেফাজত থেকে ০৩ বোতল ‘ব্লাক হান্ট’ এবং ০৯ বোতল ‘WINCEREX’ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত শওকত হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সে জানায়, জীবননগর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম নজুর বাড়িতে আরও বিপুল পরিমাণ মাদকের মজুদ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এসআই আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং গ্রেপ্তারকৃত শওকতকে সাথে নিয়ে সাক্ষীসহ নজুর বাড়িতে অভিযান চালান।

তবে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির মালিক ২ নং আসামি নজরুল ইসলাম নজু এবং তার আপন চাচাতো ভাই ৩ নং আসামি রাজা কৌশলে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ নজুর শয়ন কক্ষ তল্লাশি করে দুই দফায় (৫০+৫০) মোট ১০০ বোতল WINCEREX উদ্ধার ও জব্দ করে।

অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত মালামালসহ আসামিদের জীবননগর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। জেলা ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আসামি এবং পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত রাখতে এ ধরণের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য ডিবি পুলিশের অভিযান জোরালো করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চুয়াডাঙ্গায় ডিবি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকসহ গ্রেপ্তার ১, পলাতক ২

Update Time : ০৩:৫৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। ১৮ মার্চ বিকেলে জীবননগর থানা এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে তিন বোতল নেশাজাতীয় ‘ব্লাক হান্ট’ (Black Hunt) এবং ১০৯ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের বিকল্প সিরাপ ‘WINCEREX’ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মাদক চক্রের মূল হোতাসহ একজন গ্রেপ্তার হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে আরও দুই সহযোগী।

চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় জেলাজুড়ে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলে জীবননগর থানা এলাকায় অভিযানে নামে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ আশরাফুল ইসলাম, এসআই (নিঃ) সৌমিত্র সাহা এবং এএসআই (নিঃ) শ্রী রমেন কুমার সরকার। সাথে ছিলেন ডিবি পুলিশের সঙ্গীয় ফোর্স।

বিকেল আনুমানিক ১৭:২০ ঘটিকায় ডিবি পুলিশের টিম জীবননগর থানাধীন মানিকপুর মসজিদপাড়া এলাকার জনৈক শওকত হোসেনের বাড়িতে হানা দেয়।

সেখান থেকে মাদক কেনাবেচার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় মোঃ শওকত হোসেন (৪৫), পিতা- মৃত মোলাম মালিতা।
প্রাথমিক তল্লাশিতে শওকতের হেফাজত থেকে ০৩ বোতল ‘ব্লাক হান্ট’ এবং ০৯ বোতল ‘WINCEREX’ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত শওকত হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সে জানায়, জীবননগর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম নজুর বাড়িতে আরও বিপুল পরিমাণ মাদকের মজুদ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এসআই আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং গ্রেপ্তারকৃত শওকতকে সাথে নিয়ে সাক্ষীসহ নজুর বাড়িতে অভিযান চালান।

তবে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির মালিক ২ নং আসামি নজরুল ইসলাম নজু এবং তার আপন চাচাতো ভাই ৩ নং আসামি রাজা কৌশলে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ নজুর শয়ন কক্ষ তল্লাশি করে দুই দফায় (৫০+৫০) মোট ১০০ বোতল WINCEREX উদ্ধার ও জব্দ করে।

অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত মালামালসহ আসামিদের জীবননগর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। জেলা ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আসামি এবং পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত রাখতে এ ধরণের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য ডিবি পুলিশের অভিযান জোরালো করা হয়েছে।