০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুফরান বাহিনীর আতঙ্কে অভয়নগরের ৪ গ্রামের মানুষের ঈদ আনন্দ ফিকে হতে বসেছে

 

শেখ সেলিম :: রাত পোহালেই মুসলিম মিল্লাতের ঈদ উৎসব। অথচ যশোরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও একাধিক অস্ত্র ও হত্যা মামলার আসামী নাসির ওরফে গুফরান (৪০) এর গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে ঈদ উৎসব ফিকে হতে চলেছে অভনগর উপজেলার চার গ্রামের মানুষের। গুফরান বাহিনীর সদস্যদের লাগাতার লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর মুখে বসত বাড়িতে ঢুকে লুটপাট, মারধর ও প্রাননাশের হুমকির মুখে র্নিঘুম রাত কাটাচ্ছে গ্রাম গুলির শত শত পরিবার। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে বাহিনী প্রধান নাসির ও তার দুই সহযোগী গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে গেলেও থেমে নেই তার বাহিনীর বাকি সদস্যদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। তোসরুল মোড়ল,ওজিয়ার,মফিজ শেখ,ইমলাক মোড়ল,মান্দার খাঁ, আনোয়ার শেখের মত দুর্ধষ গুফরান বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্য গ্রামে ঘোরা ফেরা করায় ইউনিয়নবাসী সবসময় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে থাকে। লোকজনকে ভয় ভিতী দেখাতে এলাকায় প্রকাশ্য অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দেওয়া,বোমাবাজি ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার মত কর্মকান্ড পরিচালনা করে গ্রামবাসীর জন জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।গত বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে সরেজমিনে গেলে গ্রাম পাহারায় থাকা ইসামতি গ্রামের দৈন্য বিশ্বাসসহ একাধিক ব্যাক্তি জানায়,পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে রাতভর পালা করে দল বেঁধে পাহারা দিচ্ছে গ্রামবাসী। গ্রামের নারী ও কিশোরীরাও ভয়ে থাকে সব সময়। স্কুল ,কলেজে যেতেও ভয় পাই তারা। অভয়নগর উপজেলার ৭ নং শুভরাড়া ইউনিয়নের গোপীনাথপুর,ধুলগ্রাম,ইছামতি এবং ভাটপাড়া গ্রামের আনুমানিক ১২ হাজার লোকের কাছেই আতঙ্ক এখন গুফরান জানিয়ে ৭ নং ওয়ার্ডের ইসামতি গ্রামের সুবাস মেম্বার বলেন,স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন স্বল্প পরিসরে গ্রামে টহল দিলেও সন্ত্রাসীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। গুফরানের অত্যাচারের শিকার গোপীনাথপুর গ্রামের সোহেল শিকদারও।তার ঘরবাড়িতে লুট তারাজ করে স্বর্ণালংকার,নগত টাকা ও মোটর সাইকেল চুরির অভিযোগ জানিয়ে অভয়নগর থানায় গত ১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এর আগে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে হিদিয়া গ্রামের সুশান্ত কুমার বিশ্বাস ও পবিত্র কুমার বিশ্বাসের বাড়ি সহ ইউনিয়নটির পাঁচ বাড়িতে দেশী বিদেশী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং ভয় ভিতী দেখায় গুফরান ও তার বাহিনীর সদস্যরা। ভুক্তভোগী সুশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন বাড়িতে হামলা চালানো ছাড়াও আমার মুঠো ফোনে বার্তা পাঠিয়েও ৫ লাখ টাকা চাই গুফরান। তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ডায়েরী অন্তভুক্ত করেছেন বলে আরো জানান। রাজধানীর মুগদা থানার জিডি নং-১২৭ এবং তারিখ ২/৩/২০২৬ ইং। গুফরান বাহিনীর অত্যাচারের শিকার গোপীনাথপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান মোড়লের ছেলে রাজু মন্ডল বলেন,বাহিনী প্রধান গুফরান ধরা পড়ায় বর্তমানে তার বাহিনীর সদস্যরা আরো হিংস্র হয়ে ওঠেছে। বিত্তবান গ্রামবাসীদের টার্গেট করে চাঁদা দাবি,বাড়ীর পোষা ছাগল ধরে খেয়ে ফেলা, দেশীয় ও বিদেশী বন্দুক দেখিয়ে খুন জখমের হুমকি দেওয়া তাদের নিত্ত নৈমত্তিক কান্ড হয়ে দাড়িয়েছে। সরকারদলীয় যশোরের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্র ছায়ায় গুফরান বাহিনী অভয়নগরে সন্ত্রাসীমুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এ বিষয়ে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( খ সার্কেল ) মোঃ রাজিবুল ইসলাম জানান,সন্ত্রাসী গুফরানকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণের পর থেকে শুভরাড়া ইউনিয়নের গ্রামগুলোর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়নন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ নজরদারি,নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বাহিনীর অপর আসামীরাও দ্রুতই আইনের আওতায় আসবে এবং ঐ জনপদকে পুলিশ সন্ত্রাস মুক্ত করবে। ঈদ উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে গ্রামগুলোতে নিয়মিত টহল জোরদার করার জন্য অফিসার ইনচার্জ অভয়নগর থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

গুফরান বাহিনীর আতঙ্কে অভয়নগরের ৪ গ্রামের মানুষের ঈদ আনন্দ ফিকে হতে বসেছে

Update Time : ০৩:২১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

 

শেখ সেলিম :: রাত পোহালেই মুসলিম মিল্লাতের ঈদ উৎসব। অথচ যশোরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও একাধিক অস্ত্র ও হত্যা মামলার আসামী নাসির ওরফে গুফরান (৪০) এর গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে ঈদ উৎসব ফিকে হতে চলেছে অভনগর উপজেলার চার গ্রামের মানুষের। গুফরান বাহিনীর সদস্যদের লাগাতার লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর মুখে বসত বাড়িতে ঢুকে লুটপাট, মারধর ও প্রাননাশের হুমকির মুখে র্নিঘুম রাত কাটাচ্ছে গ্রাম গুলির শত শত পরিবার। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে বাহিনী প্রধান নাসির ও তার দুই সহযোগী গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে গেলেও থেমে নেই তার বাহিনীর বাকি সদস্যদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। তোসরুল মোড়ল,ওজিয়ার,মফিজ শেখ,ইমলাক মোড়ল,মান্দার খাঁ, আনোয়ার শেখের মত দুর্ধষ গুফরান বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্য গ্রামে ঘোরা ফেরা করায় ইউনিয়নবাসী সবসময় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে থাকে। লোকজনকে ভয় ভিতী দেখাতে এলাকায় প্রকাশ্য অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দেওয়া,বোমাবাজি ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার মত কর্মকান্ড পরিচালনা করে গ্রামবাসীর জন জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।গত বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে সরেজমিনে গেলে গ্রাম পাহারায় থাকা ইসামতি গ্রামের দৈন্য বিশ্বাসসহ একাধিক ব্যাক্তি জানায়,পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে রাতভর পালা করে দল বেঁধে পাহারা দিচ্ছে গ্রামবাসী। গ্রামের নারী ও কিশোরীরাও ভয়ে থাকে সব সময়। স্কুল ,কলেজে যেতেও ভয় পাই তারা। অভয়নগর উপজেলার ৭ নং শুভরাড়া ইউনিয়নের গোপীনাথপুর,ধুলগ্রাম,ইছামতি এবং ভাটপাড়া গ্রামের আনুমানিক ১২ হাজার লোকের কাছেই আতঙ্ক এখন গুফরান জানিয়ে ৭ নং ওয়ার্ডের ইসামতি গ্রামের সুবাস মেম্বার বলেন,স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন স্বল্প পরিসরে গ্রামে টহল দিলেও সন্ত্রাসীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। গুফরানের অত্যাচারের শিকার গোপীনাথপুর গ্রামের সোহেল শিকদারও।তার ঘরবাড়িতে লুট তারাজ করে স্বর্ণালংকার,নগত টাকা ও মোটর সাইকেল চুরির অভিযোগ জানিয়ে অভয়নগর থানায় গত ১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এর আগে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে হিদিয়া গ্রামের সুশান্ত কুমার বিশ্বাস ও পবিত্র কুমার বিশ্বাসের বাড়ি সহ ইউনিয়নটির পাঁচ বাড়িতে দেশী বিদেশী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং ভয় ভিতী দেখায় গুফরান ও তার বাহিনীর সদস্যরা। ভুক্তভোগী সুশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন বাড়িতে হামলা চালানো ছাড়াও আমার মুঠো ফোনে বার্তা পাঠিয়েও ৫ লাখ টাকা চাই গুফরান। তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ডায়েরী অন্তভুক্ত করেছেন বলে আরো জানান। রাজধানীর মুগদা থানার জিডি নং-১২৭ এবং তারিখ ২/৩/২০২৬ ইং। গুফরান বাহিনীর অত্যাচারের শিকার গোপীনাথপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান মোড়লের ছেলে রাজু মন্ডল বলেন,বাহিনী প্রধান গুফরান ধরা পড়ায় বর্তমানে তার বাহিনীর সদস্যরা আরো হিংস্র হয়ে ওঠেছে। বিত্তবান গ্রামবাসীদের টার্গেট করে চাঁদা দাবি,বাড়ীর পোষা ছাগল ধরে খেয়ে ফেলা, দেশীয় ও বিদেশী বন্দুক দেখিয়ে খুন জখমের হুমকি দেওয়া তাদের নিত্ত নৈমত্তিক কান্ড হয়ে দাড়িয়েছে। সরকারদলীয় যশোরের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্র ছায়ায় গুফরান বাহিনী অভয়নগরে সন্ত্রাসীমুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এ বিষয়ে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( খ সার্কেল ) মোঃ রাজিবুল ইসলাম জানান,সন্ত্রাসী গুফরানকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণের পর থেকে শুভরাড়া ইউনিয়নের গ্রামগুলোর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়নন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ নজরদারি,নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বাহিনীর অপর আসামীরাও দ্রুতই আইনের আওতায় আসবে এবং ঐ জনপদকে পুলিশ সন্ত্রাস মুক্ত করবে। ঈদ উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে গ্রামগুলোতে নিয়মিত টহল জোরদার করার জন্য অফিসার ইনচার্জ অভয়নগর থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।