০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ঈদ ঘিরে কি বড় বিপদের সংকেত? বিপুল পরিমাণ ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রের স্তূপ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৫

[​মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি​​​| ১৭ মার্চ, ২০২৬]
রাজশাহী মহানগরীতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নসাৎ করে দিয়েছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৫)। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও শহরকে অস্থির করার উদ্দেশ্যে মজুত করা বিপুল পরিমাণ ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে এলিট ফোর্সটি।
​মধ্যরাতের রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ​মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন রেলওয়ে মাঠ (রেলমাঠ) সংলগ্ন একটি নির্জন লেবু বাগানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। র‍্যাব-৫ এর সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে হানা দেয়। বাগানের ভেতরে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি সন্দেহভাজন প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে র‍্যাব সদস্যরা।
​সক্রিয় ছিল বোম ডিসপোজাল ইউনিট ​বস্তা দুটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাব-৫ এর স্পেশাল বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তল্লাশি চালিয়ে বস্তা থেকে ২১টি তাজা ককটেল সদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করে। একইসাথে অপর একটি বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু ভয়ংকর দেশীয় অস্ত্র, যার মধ্যে রয়েছে:​০১টি বড় হাসুয়া (দৈর্ঘ্য ৭২ সে.মি.)
​০১টি বিশাল ছোরা (দৈর্ঘ্য ৬৫ সে.মি.)​০১টি মাঝারি ছোরা (দৈর্ঘ্য ৩৮ সে.মি.)​০১টি ধারালো চাকু (দৈর্ঘ্য ২৫ সে.মি.)

​র‍্যাব-৫ এর মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ককটেল ও অস্ত্রগুলোর মালিক সম্পর্কে স্থানীয়রা কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে র‍্যাবের প্রাথমিক ধারণা, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ম্লান করতে এবং নগরীতে ত্রাস সৃষ্টি করতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই মজুত গড়ে তুলেছিল। গভীর রাতে জনমানবহীন বাগানে এই অস্ত্র মজুত করা থেকে স্পষ্ট যে, তারা বড় কোনো রক্তক্ষয়ী হামলার ছক কষছিল।

​উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্রসমূহ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কারা এই বাগানটিকে ‘সেফ হাউজ’ হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে র‍্যাব।
​এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও র‍্যাবের টহল বৃদ্ধির পর জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

রাজশাহীতে ঈদ ঘিরে কি বড় বিপদের সংকেত? বিপুল পরিমাণ ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রের স্তূপ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৫

Update Time : ১২:৫৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

[​মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি​​​| ১৭ মার্চ, ২০২৬]
রাজশাহী মহানগরীতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নসাৎ করে দিয়েছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৫)। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও শহরকে অস্থির করার উদ্দেশ্যে মজুত করা বিপুল পরিমাণ ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে এলিট ফোর্সটি।
​মধ্যরাতের রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ​মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন রেলওয়ে মাঠ (রেলমাঠ) সংলগ্ন একটি নির্জন লেবু বাগানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। র‍্যাব-৫ এর সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে হানা দেয়। বাগানের ভেতরে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি সন্দেহভাজন প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে র‍্যাব সদস্যরা।
​সক্রিয় ছিল বোম ডিসপোজাল ইউনিট ​বস্তা দুটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাব-৫ এর স্পেশাল বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তল্লাশি চালিয়ে বস্তা থেকে ২১টি তাজা ককটেল সদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করে। একইসাথে অপর একটি বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু ভয়ংকর দেশীয় অস্ত্র, যার মধ্যে রয়েছে:​০১টি বড় হাসুয়া (দৈর্ঘ্য ৭২ সে.মি.)
​০১টি বিশাল ছোরা (দৈর্ঘ্য ৬৫ সে.মি.)​০১টি মাঝারি ছোরা (দৈর্ঘ্য ৩৮ সে.মি.)​০১টি ধারালো চাকু (দৈর্ঘ্য ২৫ সে.মি.)

​র‍্যাব-৫ এর মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ককটেল ও অস্ত্রগুলোর মালিক সম্পর্কে স্থানীয়রা কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে র‍্যাবের প্রাথমিক ধারণা, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ম্লান করতে এবং নগরীতে ত্রাস সৃষ্টি করতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই মজুত গড়ে তুলেছিল। গভীর রাতে জনমানবহীন বাগানে এই অস্ত্র মজুত করা থেকে স্পষ্ট যে, তারা বড় কোনো রক্তক্ষয়ী হামলার ছক কষছিল।

​উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্রসমূহ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কারা এই বাগানটিকে ‘সেফ হাউজ’ হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে র‍্যাব।
​এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও র‍্যাবের টহল বৃদ্ধির পর জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।