০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনবান্ধব ও পেশাদার পুলিশিং নিশ্চিতের অঙ্গীকার: চুয়াডাঙ্গায় নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সকল ইউনিট ইনচার্জদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা করেছেন।

আজ ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার, দুপুর ০২:০০ ঘটিকায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার শুরুতে নবাগত পুলিশ সুপার উপস্থিত জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জদের সাথে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন। চুয়াডাঙ্গা জেলায় যোগদানের পর এটিই ছিল মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত আলোচনা।

তিনি অফিসারদের কাছ থেকে নিজ নিজ এলাকার ভৌগোলিক এবং অপরাধচিত্র সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা গ্রহণ করেন।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।

আলোচনার প্রধান দিকগুলো হলো:

জনবান্ধব পুলিশিং: পুলিশকে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। থানায় আগত সেবাপ্রার্থীদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিক, মানবিক এবং পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

অপরাধ দমন: মাদক ব্যবসা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি। সীমান্ত জেলা হওয়ায় মাদক পাচার রোধে পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন।

সড়ক ও মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা: মহাসড়কে কোনো প্রকার সিন্ডিকেট বা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। এছাড়া সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং তীব্র যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে আরও কঠোর ও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেন।

দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ: যে কোনো ধরণের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান তার বক্তব্যে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“পুলিশের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত সততা, নিষ্ঠা এবং গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, বরং সেবার মানসিকতা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে।”

সভায় জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিবি প্রধান, ট্রাফিক ইনচার্জ এবং বিভিন্ন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন। সকল ইনচার্জ মহোদয় নতুন পুলিশ সুপারের নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নে এবং চুয়াডাঙ্গা জেলাকে একটি অপরাধমুক্ত নিরাপদ জনপদে রূপান্তর করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পরিশেষে, পুলিশ সুপার সকলকে সতর্ক থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

জনবান্ধব ও পেশাদার পুলিশিং নিশ্চিতের অঙ্গীকার: চুয়াডাঙ্গায় নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা

Update Time : ১২:১০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সকল ইউনিট ইনচার্জদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা করেছেন।

আজ ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার, দুপুর ০২:০০ ঘটিকায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার শুরুতে নবাগত পুলিশ সুপার উপস্থিত জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জদের সাথে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন। চুয়াডাঙ্গা জেলায় যোগদানের পর এটিই ছিল মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত আলোচনা।

তিনি অফিসারদের কাছ থেকে নিজ নিজ এলাকার ভৌগোলিক এবং অপরাধচিত্র সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা গ্রহণ করেন।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।

আলোচনার প্রধান দিকগুলো হলো:

জনবান্ধব পুলিশিং: পুলিশকে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। থানায় আগত সেবাপ্রার্থীদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিক, মানবিক এবং পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

অপরাধ দমন: মাদক ব্যবসা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি। সীমান্ত জেলা হওয়ায় মাদক পাচার রোধে পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন।

সড়ক ও মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা: মহাসড়কে কোনো প্রকার সিন্ডিকেট বা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। এছাড়া সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং তীব্র যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে আরও কঠোর ও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেন।

দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ: যে কোনো ধরণের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান তার বক্তব্যে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“পুলিশের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত সততা, নিষ্ঠা এবং গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, বরং সেবার মানসিকতা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে।”

সভায় জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিবি প্রধান, ট্রাফিক ইনচার্জ এবং বিভিন্ন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন। সকল ইনচার্জ মহোদয় নতুন পুলিশ সুপারের নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নে এবং চুয়াডাঙ্গা জেলাকে একটি অপরাধমুক্ত নিরাপদ জনপদে রূপান্তর করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পরিশেষে, পুলিশ সুপার সকলকে সতর্ক থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।