০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা

 

মোঃ মাহবুব আলম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। এ অবস্থায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মনোনয়নকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
সারাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা। তিনি ইতোমধ্যে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও যোগ্যতার বিষয়গুলো দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।
অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার পাটাবুক ইউনিয়নের উত্তর পাইকসা (মোল্লা বাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. আবুল কাশেম মোল্লা ও মরহুমা হাসিনা বেগমের কন্যা। বর্তমানে তিনি জন্মস্থান রাজধানী ঢাকার চকবাজার এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করছেন।
শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৯৮৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর প্রাথমিক সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু হয় বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যয়নকালে।
পরবর্তীতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি আইন বিষয়ে এলএল.বি, বিএ (অনার্স) এবং দর্শন বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এছাড়াও তিনি বৃহত্তর লালবাগ থানার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রস্তাবিত সহ-সভাপতি এবং বৃহত্তর লালবাগের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল-এর আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-এর লিয়াজোঁ কমিটিতেও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। তিনি ‘মহিলা উপার্জন উন্নয়ন শিক্ষা কাউন্সিল (মউশিকা)’ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান (১৯৮৬)। এছাড়া তিনি Lions Clubs International-এর সদস্য এবং মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতি, বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি (নাসিব)-এর আজীবন সদস্য।
তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কমিটির সাবেক সদস্য, ‘ফ্রিডম ফর সিটিজেন রাইটস (FCR)’ সংগঠনের চেয়ারম্যান এবং The Muslim Institute-এর পোস্তা চকবাজার থানা শাখার সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।
এছাড়া তিনি ‘চেতনায় আমরা ক’জন বিক্রমপুরী’ নামের একটি সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান (১৯৯৬) এবং ‘ইউনাইটেড ড্যান্স গ্রুপ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের আজীবন সদস্য।
বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-এর মহাসচিব এবং ‘ফ্রিডম ফর সিটিজেন রাইটস (FCR)’ সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা

Update Time : ০৩:২৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ মাহবুব আলম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। এ অবস্থায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মনোনয়নকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
সারাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা। তিনি ইতোমধ্যে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও যোগ্যতার বিষয়গুলো দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।
অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার পাটাবুক ইউনিয়নের উত্তর পাইকসা (মোল্লা বাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. আবুল কাশেম মোল্লা ও মরহুমা হাসিনা বেগমের কন্যা। বর্তমানে তিনি জন্মস্থান রাজধানী ঢাকার চকবাজার এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করছেন।
শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৯৮৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর প্রাথমিক সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু হয় বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যয়নকালে।
পরবর্তীতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি আইন বিষয়ে এলএল.বি, বিএ (অনার্স) এবং দর্শন বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এছাড়াও তিনি বৃহত্তর লালবাগ থানার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রস্তাবিত সহ-সভাপতি এবং বৃহত্তর লালবাগের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল-এর আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-এর লিয়াজোঁ কমিটিতেও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। তিনি ‘মহিলা উপার্জন উন্নয়ন শিক্ষা কাউন্সিল (মউশিকা)’ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান (১৯৮৬)। এছাড়া তিনি Lions Clubs International-এর সদস্য এবং মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতি, বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি (নাসিব)-এর আজীবন সদস্য।
তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কমিটির সাবেক সদস্য, ‘ফ্রিডম ফর সিটিজেন রাইটস (FCR)’ সংগঠনের চেয়ারম্যান এবং The Muslim Institute-এর পোস্তা চকবাজার থানা শাখার সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।
এছাড়া তিনি ‘চেতনায় আমরা ক’জন বিক্রমপুরী’ নামের একটি সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান (১৯৯৬) এবং ‘ইউনাইটেড ড্যান্স গ্রুপ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের আজীবন সদস্য।
বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-এর মহাসচিব এবং ‘ফ্রিডম ফর সিটিজেন রাইটস (FCR)’ সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।