০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তাঁর বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে আজ সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আজ সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬ ইং সকাল ০৯:৩০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, অফিসার্স ক্লাবের সদস্যবৃন্দ, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী পুলিশ সুপারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন:

আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ: চুয়াডাঙ্গা জেলায় যোগদানের পর থেকে তিনি মাদক নির্মূল, চোরাচালান রোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছিলেন।

পেশাদারিত্ব: মাঠ পর্যায়ের পুলিশিং ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন এবং পুলিশের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

মানবিক পুলিশিং: করোনাত্তর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সামাজিক বিভিন্ন সংকটে তিনি সাধারণ মানুষের বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম কেবল একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাই নন, তিনি একজন অসাধারণ সমন্বয়ক। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সাথে সুসমন্বয় বজায় রেখে তিনি জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় যে অবদান রেখেছেন, চুয়াডাঙ্গাবাসী তা দীর্ঘকাল মনে রাখবে।”

সংবর্ধনার জবাবে বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম উপস্থিত সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সরকারি চাকুরির সূত্রে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে চুয়াডাঙ্গার মানুষের ভালোবাসা ও সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা আমি সারাজীবন মনে রাখব। দায়িত্ব পালনকালে আমি চেষ্টা করেছি ইনসাফ কায়েম করতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হতে। আমার কোনো ভুল-ত্রুটি হলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অফিসার্স ক্লাব, চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে বিদায়ী পুলিশ সুপারকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। বিদায়ের এই ক্ষণে সহকর্মীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা

Update Time : ০৪:১২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তাঁর বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে আজ সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আজ সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬ ইং সকাল ০৯:৩০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, অফিসার্স ক্লাবের সদস্যবৃন্দ, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী পুলিশ সুপারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন:

আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ: চুয়াডাঙ্গা জেলায় যোগদানের পর থেকে তিনি মাদক নির্মূল, চোরাচালান রোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছিলেন।

পেশাদারিত্ব: মাঠ পর্যায়ের পুলিশিং ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন এবং পুলিশের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

মানবিক পুলিশিং: করোনাত্তর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সামাজিক বিভিন্ন সংকটে তিনি সাধারণ মানুষের বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম কেবল একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাই নন, তিনি একজন অসাধারণ সমন্বয়ক। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সাথে সুসমন্বয় বজায় রেখে তিনি জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় যে অবদান রেখেছেন, চুয়াডাঙ্গাবাসী তা দীর্ঘকাল মনে রাখবে।”

সংবর্ধনার জবাবে বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম উপস্থিত সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সরকারি চাকুরির সূত্রে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে চুয়াডাঙ্গার মানুষের ভালোবাসা ও সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা আমি সারাজীবন মনে রাখব। দায়িত্ব পালনকালে আমি চেষ্টা করেছি ইনসাফ কায়েম করতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হতে। আমার কোনো ভুল-ত্রুটি হলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অফিসার্স ক্লাব, চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে বিদায়ী পুলিশ সুপারকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। বিদায়ের এই ক্ষণে সহকর্মীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।