০৮:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত: ঈদে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা আজ ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ রবিবার বেলা ০২:৩০ ঘটিকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব জামাল আল নাসের এবং শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার জনাব অনির্বাণ দাস। এছাড়াও জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং বিভিন্ন ইউনিটের পদস্থ কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।

সভায় মূলত গত ফেব্রুয়ারি/২০২৬ মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান ও তদন্ত কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। আলোচনার মূল বিষয়বস্তুগুলো ছিল:

মামলা তদন্ত: ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার এবং চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গ্রেফতারি পরোয়ানা: ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার ও আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।

মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার: জেলাকে মাদকমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সামাজিক অপরাধ দমন: চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ সুপার মহোদয় বেশ কিছু কঠোর ও কার্যকরী দিকনির্দেশনা প্রদান করেন:

যানজট নিরসন: শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং প্রধান সড়কগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে যাতে ঘরমুখো মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কোনো ভোগান্তি না হয়।

টহল বৃদ্ধি: মার্কেট, শপিং মল এবং জনাকীর্ণ এলাকায় সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পুলিশের টহল বাড়ানো হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা: ঈদকে সামনে রেখে ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের লেনদেন হয়। তাই এসব এলাকায় বাড়তি নজরদারি ও সিসিটিভি মনিটরিং নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা: হাইওয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ ফিডার রোডগুলোতে ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানই পুলিশের মূল লক্ষ্য। অপরাধ দমনে আমাদের আরও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং ঈদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সদা তৎপর থাকবে।”

সভা শেষে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসারদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের মনোবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চুয়াডাঙ্গায় জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত: ঈদে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

Update Time : ০৩:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা আজ ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ রবিবার বেলা ০২:৩০ ঘটিকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব জামাল আল নাসের এবং শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার জনাব অনির্বাণ দাস। এছাড়াও জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং বিভিন্ন ইউনিটের পদস্থ কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।

সভায় মূলত গত ফেব্রুয়ারি/২০২৬ মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান ও তদন্ত কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। আলোচনার মূল বিষয়বস্তুগুলো ছিল:

মামলা তদন্ত: ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার এবং চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গ্রেফতারি পরোয়ানা: ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার ও আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।

মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার: জেলাকে মাদকমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সামাজিক অপরাধ দমন: চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ সুপার মহোদয় বেশ কিছু কঠোর ও কার্যকরী দিকনির্দেশনা প্রদান করেন:

যানজট নিরসন: শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং প্রধান সড়কগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে যাতে ঘরমুখো মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কোনো ভোগান্তি না হয়।

টহল বৃদ্ধি: মার্কেট, শপিং মল এবং জনাকীর্ণ এলাকায় সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পুলিশের টহল বাড়ানো হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা: ঈদকে সামনে রেখে ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের লেনদেন হয়। তাই এসব এলাকায় বাড়তি নজরদারি ও সিসিটিভি মনিটরিং নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা: হাইওয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ ফিডার রোডগুলোতে ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানই পুলিশের মূল লক্ষ্য। অপরাধ দমনে আমাদের আরও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং ঈদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সদা তৎপর থাকবে।”

সভা শেষে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসারদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের মনোবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।