
মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ ব্যবস্থাপনায় শহরজুড়ে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালায়।
র্যালিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ, বিশেষ করে জনসমাগমস্থল ও ড্রেন সংলগ্ন এলাকায় প্রতীকী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার স্বহস্তে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, “একটি সুস্থ জাতির জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই। আমরা চুয়াডাঙ্গাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হবে আধুনিক ও কার্যকর।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন:
”ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আমাদের বাসাবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব। পুলিশ বাহিনী সামাজিক এই আন্দোলনে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।”
সিভিল সার্জন ডাঃ হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন, জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ও প্লাস্টিক পাত্র দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একটু সচেতনতাই পারে একটি বড় মহামারি থেকে আমাদের রক্ষা করতে।
বক্তারা তাঁদের আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন:
বর্জ্য অপসারণ: নিয়মিত বিরতিতে পরিত্যক্ত পাত্র ও বর্জ্য পরিষ্কার করা।
জনসংযোগ: পাড়া-মহল্লায় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রচারণা।
সমন্বিত প্রচেষ্টা: জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পৌরসভার সাথে সাধারণ জনগণের সেতুবন্ধন তৈরি করা।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গাকে একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী হিসেবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধির নাম 



















